আমার ভীষণ ইচ্ছে করে শিশুর মতো হই
ফুলের মতো সতেজ প্রাণে করি গো হইচই
আধো আধো বোলে
বসে মায়ের কোলে
নিত্য পড়ি সকাল বিকেল বর্ণমালার বই;
আমার ভীষণ ইচ্ছে করে শিশুর মতো হই।

ইচ্ছে করে বই জড়িয়ে পাঠশালাতে যাই
বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের আদর সোহাগ পাই
খাল থেকে যাই বিলে
বিল থেকে যাই ঝিলে
দুষ্টুমিতে বুবুর হাতের কান মলাটা খাই;
আমার ভীষণ ইচ্ছে করে পাঠশালাতে যাই।

আমার ভীষণ ইচ্ছে করে গাই নবীনের গান
দেই দু’হাতে লাটাই সুতোয় রঙিন ঘুড়ি টান
ভেঙে নীরবতা
নাচি যথাতথা
দুরন্ত সেই কিশোর মেলায় নিয়ে সতেজ প্রাণ;
আমার ভীষণ ইচ্ছে করে গাই নবীনের গান।

ইচ্ছে করে মেঠো পথে ঘুরি সারা গাঁয়
ভোরের আলোয় শিশির কণা মাখি খালি পায়
মিলে মিশে থাকি
গ্রামের ছবি আঁকি
এক পলকেই যাই হারিয়ে বন বনানীর ছায়;
আমার ভীষণ ইচ্ছে করে ঘুরি সারা গাঁয়।

আমার ভীষণ ইচ্ছে করে গড়তে সুখের আসন
যাই হারিয়ে ছেলেবেলায় পেতে মায়ের শাসন
মা যে আমার নাই
মাকে কোথায় পাই
শূন্য যে আজ স্মৃতির চোখে হৃদয় ঝরা ভাষণ;
কোথায় গেলে পাবো বলো আমার মায়ের আসন?