সোঁদা মাটি বনবীথি গন্ধময় চিত্রিত বাংলায়-
মানুষের মন ছিল, মান ছিল, দয়া ছিল, মায়া ছিল
পবিত্র বাতাসে ছিল পারিজাত গন্ধ
ছুই মুঁই লতার শরীরে জন্ম নিতো গাঙ্গেয় বহতা নদী
প্রতিটি নারীর বুকে বসত করত, লাজ নম্র সজীব গোলাপ
টান ছিল, গান ছিল, হাসি ছিল কান্না ছিল,
কোথায় হারিয়ে পালাল সুদূরে-
এই অবেলায়?
স্থবির মানুষ মরুঝড়ে পতিত উটের মতো
বালুকাবেলায় মুখ পুঁতে বসে থাকে
হুলো বেড়াল পাতের মাছ মুখে এঁটে সরে পড়ে
প্রায়ান্ধকার মাটির বুক চিরে ভেসে আসে লাশ গন্ধ হাওয়া
বিবেকের ডাক নিলামে তামাদি হয় সর্ব নিম্ন দরে
তরুলতা বীথির মর্মর ধ্বনিতে বেরিয়ে আসে ঘাতক ছুরিকা
কামারশালায় সে ছুরি শানিত হয়
দু’ধারী চকচকে ছুরি পিঠে, বুকে, মুখে, বিদ্ধ হয়
রক্ত ছোটে ফিনকি স্রোতে
রক্তের প্রাতিম্বে মানুষের ছবি ভেসে আসে
বন্ধু হতে বন্ধু যায়, ছায়া হতে মায়া
যায় যায়, সব যায়।
