বাড়ির পাশে শান্তর ছোট্ট একটি ফুলের বাগান। নানা রকম ফুল গাছ আছে তার শখের বাগানে। গাঁদা, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, জুঁই, কত কত ফুল আছে শান্তর বাগানে। শান্ত, ফুল গাছের প্রচুর যতœ করে। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই ফুল গাছের পরিচর্যা করে।
গাছে পানি দেয়, আগাছা পরিষ্কার করে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ওষুধ দেয়। আরো কত কাজ। সন্তানের মতো যতœ করে প্রতিটি গাছকে। প্রত্যেকটা গাছ যেন তার আপন কেউ। একটি পাতাও যদি টলানো দেখা যায় শান্তর চিন্তার শেষ নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভালো না হয় ততক্ষণ সে পরিচর্যা করে যায়। বাগানের প্রতিটা ফুলগাছ তাই স্বাস্থ্যবান, সতেজ দেখলে মন ভরে যায়। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। গাছে একটা ফুল আসলে শান্তর আনন্দের শেষ নেই। কি দিয়ে কি করবে তা বলে কয়ে শেষ করা যাবে না। বাবাকে বলবে আমার গাছে ফুল এসেছে, মাকে, দিদাকে, দিদিকে বাগানে নিয়ে দেখাবে। কি যে উত্তেজনা তার ফুল গাছে ফুল ধরেছে। যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে এমন। ছোট ভাই অরূপের বাগানে যাওয়া নিষেধ। অরূপ ফুল ছিঁড়তে পারে এই জন্য। ছোট কাকু দুবাই থাকে, কাকাত ভাই ঢাকায় থাকে তাদের কে ফোনে জানাবে তার বাগানে ফুল আসার গল্প। এমন কি মামা বাড়ির কেউই বাদ থাকবে না ফুল ধরার গল্প শোনাতে। এ যেন বিশ্ব জয় করার গল্প। নিজের হাতে গড়া জিনিসের মর্মই আলাদা। মনের ভিতর থেকে ভালো লাগা, ভালোবাসা জন্ম নেয়। আলাদা আবেগ, অনুভূতি কাজ করে। যেন তা নিজের মনে হয়। কোন অসাধ্যকে সাধ্য করেছে মনে হয়, আর মনে হয় সে ওই বিষয়টি জয় করেছে। শান্তর ও তাই মনে হয় যেন সে ফুল কে জয় করেছে, ফুলের ভালোবাসা আর শান্তর ভালোবাসা প্রকৃতির সাথে লীন হয়ে যায়। ফুলগুলো যেন শান্তকে দেখলে খুশি হয়, শান্তকে দেখলে মনে মনে হাসে, পুরো বাগান এক অদ্ভুত দীপ্তময় হয়ে ওঠে। ফুলের প্রভা শান্তর চোখে মুখে পড়ে। যেন বাগান ও তার চার পাশ স্বর্গীয় দ্যুতি বিরাজ করে। বাগান ভরা ফুলে নৃত্য করতে থাকে। শান্ত আসার আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য। কোনো কোনো ফুল আবার দোল দিতে থাকে। যেন শান্তকে স্বাগত জানায়। আহা কি এক অনুপম পরিবেশের সৃষ্ট হয় ভাবাই যায় না। মন প্রাণ উজাড় করে ভক্তি ভরে শান্ত ও শান্তর বাগানের মিলনমেলা উপভোগ করতে ইচ্ছে করে সবার। শান্তর চার পাশে ওদের সুবাস ছড়িয়ে দেয়। চার দিকে ম ম গন্ধে ভরে যায়। চোখ বন্ধ করে এই সুখ অনুভব করা যায়, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর নিঃশ্বাস নিয়ে সুবাস নেয়া যায় বুকের ভিতরে। শান্তর বাগানে এলে অসুস্থ মানুষ ও সুস্থ হয়ে যায় ক্ষণকালের জন্য, অসুখী মানুষ ও নিজেকে সুখী সুখী ভাবে বাগানের সৌন্দর্য আর লাবণ্যতায়। আর শান্ত তো চির সুখী। শান্তর বাগান কোনো সময়ই ফুল ছাড়া থাকে না। সব ঋতুর ফুলই শান্তর বাগানে আছে। এই ফুলের জন্যই শান্তর অনেক বন্ধু। শান্তর বাগান দেখার জন্য অনেক লোক আসে। শান্তর সাক্ষাৎকার নেয়। শান্ত খুশি হয়। শান্তর বাগানে সবসময় কেউ না কেউ দর্শক থাকে। বাগানের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় নোটিশ টানানো আছে ফুল ছেঁড়া নিষেধ। শান্তর বাগানের ফুল কেউ ছিঁড়ে না। বাগানে চতুর পাশে লাইটিং করা। রাতে বাগানে লাইটিং করার দূর থেকে মনে হয় যে একটুকরো স্বর্গ হাসছে। মন একাই যেতে ইচ্ছে করে বাগানটা ঘুরে আসি। এলাকার অনেক লোকই মন ভালো করার জন্য বাগানের পাশে একটু বসে সময় কাটিয়ে যায়। শান্তর ফুলের বাগান এখন পরিচিত নাম। হ
