একুশ তুমি কেমন আছো
এখন তোমার ষাট-ঊর্ধ্ব বয়স বুঝি
সারা বছর ভুলে থাকি, শীত পালালে
ফাগুন এলে তোমায় খুঁজি!
সেই বুলেটটা কোথায় আছে
আট বছরের অহিউল্লাহ্র
দেহ ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়ে
খোশমহল রেস্টুরেন্টে বিঁধেছিল?
বলতে পারো বর্ণমালার কোন বর্ণটা
অহিউল্লাহ? বেঁচে থাকলে বুড়িয়ে যেত?
বাবার মতো রাজ-মিস্তরি হতো?
রফিক-শফিক-সালাম ওরা গানে আছে
দুঃখ-গানে, জীবন-গানে, বরকতরাÑ
ওরা কিন্তু বিশ্ব জোড়া, সবাই জানে।
আচ্ছা বলো, ভোর-কুয়াশার অনাগ্রহে
কেমন আছো ডাইনে বায়ে আটকে পড়ে
জানজটের বিরক্তিকর ক্যানভাসেতে-
প্রভাত ফেরির লম্বা সারির ফেরিওয়ালা
কি নামে ডাকে তোমায়
খালি পায়ে কোন শিশুটা, চিনতে পার!
অনাস্থার গাঢ় অন্ধকারে কেমন আছো,
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে কেমন আছো,
হাইব্রিড সব ফুলের ঘ্রাণে কেমন আছো,
যন্ত্রযুগে হাঁটছ তুমি কোন হুজুগে ?
জেনে রেখো রক্তজমিন এখনো পাতা
আগুনরঙা অক্ষর দিয়ে পুরো খাতা
তাক করা গ্রীবার মতো তোমায় খুঁজে
একুশ, তুমি ভালো থেকো!
