বৃষ্টির সাথে বিয়ে গয়ে গেল নদীর। বৃষ্টি নিজের বাড়ি ‘আকাশ’ ছেড়ে নেমে এলো নদীর বাড়িতে। বৃষ্টি ও নদী দু’জন মিলে শুরু করল একসাথে পথচলা। ওরা একসাথে বয়ে চলে, একসাথে থেমে যায়। গান গেয়ে গেয়ে পথ চলে। সুখের গান গায়, আবার দুঃখের গানও গায়। যখন নদী কাঁদে তখন বৃষ্টি হাসে, আর বৃষ্টি কাঁদলে নদী হাসে। তবুও একসাথে পথ চলে। পথ চলতে চলতে কত শত ভাবনা ওদের।
বৃষ্টি নদীকে থামতে বলে। কিন্তু নদী দুষ্টমী করে বলে, ‘চলো, আর একটু, ওই তো কাছেই আমার ঘর। এ চলার শেষ হয় না। বৃষ্টি থেমে থাকে, নদীও থেমে যায় বৃষ্টির কারণে। দু’জনই অভিমান করে। একসময় ওদের রাগ কমে যায়, দেখে বিশাল এক লেকের সৃষ্টি হয়েছে। এত বড় জলাধার দেখে ওদের দু’জনেরই মন ভরে যায়। ওরা আবার পথ চলা শুরু করে। এবার নদী আগে এবং বৃষ্টি পেছনে পেছনে আসে।
পথ চলতে চলতে নদীর স্রোত কমে যায়। বৃষ্টির আবার রাগ হয়। চৈত্র এলে বৃষ্টি মনের যত দুঃখ লিখে চিঠি পাঠায় ওর মায়ের কাছে, বৃষ্টিদের দেশে। আকাশে। বাষ্প হয়ে বৃষ্টির চিঠি উড়ে যায় আকাশের দিকে, মেঘেদের কাছে।
বৃষ্টির মা মেঘ। মায়ের কাছে চিঠি পৌঁছায়। মা মন দিয়ে বৃষ্টির চিঠি পড়ে। মা সব মেঘদের ডাকে। চিঠিতে লিখা বৃষ্টির মনের কথা পড়ে শোনায় সব মেঘদের। মেঘেরা চিঠি পড়ে ভীষণ ক্ষেপে যায়। শুরু হয় ওদের তর্জন-গর্জন। বৈশাখ এলেই ওদের গর্জনের মাত্রা বেড়ে যায়। বজ্রপাত হয়ে নদীর দিকে ধেয়ে আসে। বোশেখ-জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন এই ছয় মাস ধরে চলে ওদের গর্জন। কখনো জোরে আকাশ কাঁপিয়ে, কখনো শান্তভাবে।
গর্জন শুনে বৃষ্টি খুশি হয়। এবার সে বুক ফুলিয়ে পথ চলে। একসাথে হাত ধরাধরি করে পথ চলে। নদী আপন বেগে ছুটে বৃষ্টিকে নিয়ে। কিন্তু বৃষ্টি ভাবে, ওরা কোথায় চলেছে ছুটে। শেষ হয় না কেন পথ চলা। কখনো অভিমান করে দু’জন দু’পথ ধরে বয়ে চলে। আবার ওদের দেখা হয়, ওরা মিলিত হয়। একধারা হয়ে ছুটে চলে।
এক দিন বৃষ্টি দেখে নদীর কী বিশাল আয়োজন। কী প্রকাণ্ড জলরাশি। ছন্দে ছন্দে তালে তালে নাচ-গান শুরু হয়। সুরগুলো ঢেউ হয়। উথাল পাথাল ঢেউয়ের ছন্দে ওরা এগিয়ে যেতে থাকে। ওদের গতি বাড়ে। দু’জনই খুশি মনে পথ চলে। হঠাৎ বিশাল ঢেউয়ের গর্জন শুনে বৃষ্টি নদীকে জিজ্ঞেস করে, ‘ওরা কারা!
নদী বলে, এটাই আমার ঘর। নাম ‘সাগর’।
পথ চলা শেষ হয় দু’জনের। ওরা ক্লান্তি মুছে ফেলে শান্তিতে সাগরে বসবাস শুরু করে। বৃষ্টির আর কোনো রাগ থাকে না নদীর ওপর। দু’জনই খিল খিল করে হেসে ওঠে। ওদের হাসিতে সাগরে সৃষ্টি হয় ছোট ছোট ঢেউ। ঢেউরা নাচন ধরে। ঢেউয়ের উপর সূর্যের আলো এসে পড়ে। আলো বিচ্ছুরিত হয়ে মেঘেদের দেশে যায়। মেঘেরাও বেশ খুশি হয়। সবাই আনন্দ পায়। বৃষ্টির সুখ দেখে মেঘেরা এবার উড়ে চলে যায় অন্য এক দেশে।