শীতের উষ্ণতা কেটে ঋতুরাজ বসন্ত আমাদের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। চার দিকে উঁকি মারছে গাছগাছালির কলি-পল্লব। শিমুলের রক্তিম ফুলও ফুটছে গাছে গাছে। পাখিদের ওড়াউড়ি, কিচিরমিচির মধুর কাকলী। এ ডাল থেকে ও ডালে বসা, শিমুলের ফুল ছিঁড়ে সে কী পাখিদের মনোরম দৃশ্য! সে ফুল শিশুরা কুড়িয়ে, কেউ বানাচ্ছে শিমুলের মালা, কেউ বা বানাচ্ছে খেলনার গাড়ি।
কোকিলের কুহু কুহু তানে, শিমুলের ডালে ডালে, ভ্রমরের গুনগুন গানে জুড়িয়ে যাচ্ছে হৃদয় প্রাণ।
এ ঋতুরাজ বসন্ত মনে করিয়ে দেয় সেই শৈশবের স্মৃতিমাখা সময়টুকুর কথা। কত আনন্দের ছিল সেই শৈশবকাল।
আমাদের গ্রামের বুক চিরে ছুটে যায় এক ছোট্ট খাল। সে খালের কূলেই ছিল একটি মস্ত বড় শিমুল বৃক্ষ।
সেই বৃক্ষ তলায় আমরা শিশুরা আনন্দ আর খেলাধুলার ফুল কুড়ানোর জন্য যেতাম। সেই ফুল দিয়ে মালা ও খেলনার গাড়ির চাকা বানিয়ে খেলতাম সারাবেলা।
আর এই ফুলটি ছিল আমার খুব প্রিয়, যার দরুন সারা বছর থাকতাম এ ফুলের অপেক্ষায়। এমনকি কোথাও ঘুরতে গিয়েও যদি এ ফুল গাছ পেতাম, সেখান থেকেও কুড়িয়ে খেলায় মগ্ন হয়ে যেতাম।
আহ! সে কী আনন্দময় ছিল দিনগুলো, এ গাছ থেকে ও গাছে দৌড়াতাম, আর লুকিয়ে লুকিয়ে কোকিলের মন মাতালো কুহু কুহু তান শুনতাম।
ভোরবেলা পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে কায়দা হাতে ছুটে চলতাম মক্তবে।
মক্তব শেষ করে চলে যেতাম বন্ধুদের সাথে পাঠশালায়।
এ সময়ে খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যেত, তাই স্কুল শেষ করেই নেমে যেতাম পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে হালকা পানিতে মাছ ধরতে। আর যখন কাদামাখা গা নিয়ে বাড়ি ফিরতাম শুরু হয়ে যেত মায়ের কড়া শাসন।
এভাবেই বেলা শেষে যখন সন্ধ্যা নেমে আসত, হারিকেন বা কুপিবাতি জালিয়ে বসে যেতাম ভাইবোনদের সাথে পড়ার টেবিলে।
কখনো বা বসে পড়তাম মনের আনন্দে চাটাই বিছিয়ে বাড়ির আঙিনায় পূর্ণিমার কোমল আলোতে। এভাবেই কেটেছিল আমার আনন্দের শৈশবকাল; যা এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে।
আহ! আবার যদি ফিরে আসত কুহুতানে বসন্তের সেই শিশুকাল। ফিরে পেতাম সেই হারানো স্মৃতিমাখা দিনগুলো। জুড়াতাম বসন্তের কোমল হাওয়ায় এ হৃদয় প্রাণ।