বাংলা নববর্ষে প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়ার প্রথা চালু করার জন্য ১৯৮৩ সালে গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে কবি সাহিত্যিকদের এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হয়েছিল বাংলা নববর্ষে তাদের গ্রাহকদেরকে কোনো একটি বই উপহার দিতে। ড. এ. আর. মল্লিক, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বই উপহার দিতেন বাংলা নববর্ষে; স্কাউটরা ফেরি করে বই বিক্রি করেছিল। এগিয়ে এসেছিল সোনালি ব্যাংক, সিঙ্গার, ইউপিএল ও আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৩ সালে গ্রন্থকেন্দ্র এই রেওয়াজ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল সত্য। কিন্তু পরবর্তী কালে সেটা চাপা পড়ে গেল কেন জানি না। নববর্ষে মিষ্টি ও শাড়ি কাপড়ের পাশে বইও স্থান করে নিতে পারত। কিন্তু পারেনি। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ বই পড়তে পারে না। তাদের প্রভাব আমাদের অজান্তে আমাদের উপর পড়ে। আমরা ভুলে যাই, আমরা বই পড়তে পারি। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আচরণে শিক্ষার প্রকাশ দেখি না। দেখি অর্থ বৈভব ও ক্ষমতার উৎকট বহিঃপ্রকাশ। তাই বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে, আমরা পড়তে পারি, আমরা শিক্ষিত। শিক্ষা ও অশিক্ষার একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে বই। নববর্ষে সেই সুযোগ আসে। নববর্ষে প্রিয়জনকে বই উপহার দেওয়াকে যদি সামাজিক প্রথা বা রেওয়াজে পরিণত করা যেত তাহলে বাংলাদেশী বইয়ের অবস্থা কী হতে পারতো তা কল্পনাও করা যায় না। মাত্র একদিনে হাজার হাজার বই লেনদেন হতো। যারা বই পড়ে না বা যারা বই পড়তে পারে না তারাও কাউকে দেয়ার জন্য বই কিনত। বইয়ের ছড়াছড়ি হতো সর্বত্র। প্রতিটি বইয়ের দোকান সাজানো হতো নানা বর্ণে ও শোভায়। ঘরে ঘরে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করত যে মা-বাবার কাছ থেকে এই দিনে কোনো বই উপহার পাবে। বন্ধু আশা করত বন্ধুর কাছ থেকে একটা বই। কানাডার মাত্র তিন কোটি মানুষের যে কোনো বই বিক্রি হয় লাখ লাখ আর বাংলাদেশে ছাপাই হয় ৫০০ কপি।
বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কি পারে না বাংলা নববর্ষকে প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়ার দিন করতে? ক্যালেন্ডার বা ডাইরি গ্রাহকদেরকে নাদিয়ে যে কোনো একটি বই নববর্ষে উপহার দিন। বই কোনো দিন পুরনো হবে না। যে বই পাবে সে হবে আপনার চিরদিনের বন্ধু।
বাংলা নববর্ষে প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়ার প্রথা চালু করার জন্য ১৯৮৩ সালে গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে কবি সাহিত্যিকদের এক সভার আয়োজন করা...
