শুক্রবার মিতু আজ সারাদিন ঘরেই তার পুরনো খেলনাগুলো নিয়ে খেলছে। পুরনো খেলনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠের একটি ঘোড়া, টিনের একটি বাক্স ও কতগুলো লুডু খেলার গুটি। স্কুল বন্ধ থাকলেই মিতু এগুলো নিয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকে। কখনো কখনো মিতু ঘোড়া দেউড়াতে থাকে তার কল্পনাতে। হাত দিয়ে ঘোড়াকে নাড়ে আর টিগডগ টিগডগ আওয়াজ করে। মনে হয় যেন, কোনো রাজ্যের রাজকুমারী ঘোড়ায় চড়ে শিকারে যাচ্ছে। আবার কখনো মাটিতে লুডুর ছক এঁঁকে গুটিগুলো চালতে থাকে। এ ছাড়াও নারকেলের মালা, কাপড়ের টুকরো এই নিয়ে তার খেলাধুলা চলে স্কুল বন্ধের দিনে। রাতে মিতুর ছোট মামা সুমন সাহেব ফোন দিয়ে জানান, শুক্রবার মিতুদের বাড়ি আসছে মিতুকে দেখতে। মিতু খবরটি শুনে বেশ আনন্দে পেয়েছে রাতেই। অনেক দিন পর মামা আসবে, অনেক গল্প হবে মামার সাথে। খেলার মাঝে মধ্যে মিতু মাকে জড়িয়ে ধরে বলে কখন ছোট মামা আসবে। মা মিতুকে বলল, আসবে অপেক্ষা করো মিতু।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, মিতু মামা এলো বাড়িতে। মামাকে দেখে মিতু যারপরনাই অনেক খুশি। দৌড়ে গিয়ে উঠল মামার কোলে। মামা মিতুকে কোলে তুলে নিলেন। ঢাকা থেকে মিতুর জন্য মিতুর পছন্দের খাবার আনলেন মামা। মিতু চকোলেট ও বিস্কুট খেতে ভালোবাসে। সে জন্য মামা ভালো মানের বিস্কুট ও চকোলেট আনলেন বেশি করে। হাতের ব্যাগ থেকে বের করে বিস্কুট দিলেন খেতে। মিতু বেশ আনন্দে খেতে লাগল। হাতে নিয়ে উঠোনে চলে গেল মিতু। অতি আনন্দে এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে লাগল মিতু। খেলার কথা একেবারেই ভুলে গেছে সে। রাত হয়ে এলো মিতু পড়ার টেবিলে স্কুলের বাড়ির কাজ করছে ঠিক এমন সময় মামা তার টেবিলের সামনে গিয়ে বসলেন।
মামা মিতুকে জিজ্ঞেস করলেন, কী করছ মিতু? মিতু প্রত্যুত্তরে জানায়, বাড়ির কাজ করছি মামা। মামা বললেন, ঠিক আছে করো। আজ পড়ার শেষে তোমাকে নতুন নতুন গল্প শোনাব। শুনবে তো? মিতু মাথা নেড়ে জানালো শুনব মামা। তোমার গল্প শুনতে আমার বেশ ভালো লাগে। রাতের খাবার দাবার শেষ করে মিতু গেল তার মামার কাছে। মামা এবার আমাকে গল্প শোনাও। মামা অনেক গল্প শোনালেন আর এই অনেক গল্পের মধ্যে পিঁপড়েদের রাজার গল্পটি তার বেশ ভালো লেগেছে। গল্পটি ছিল এইÑ বর্ষার আগেই পিঁপড়েরা তাদের খাবার সঞ্চয় করে থাকে; বৃষ্টি বাদল দিনেও তাদের যাতে না খেয়ে থাকতে হয়। এ জন্য পিঁপড়েদের রাজার হুকুম হলোÑ প্রজাগণ, তোমারা বর্ষার আগেই তোমাদের সবার খাদ্য সঞ্চয় করে নেবে। আর বৃষ্টি বাদল দিনে কেউ গর্ত থেকে বের হবে না। যদি বের হও তা হলে বৃষ্টির পানিতে ভেসে যেতে পারো আর অন্যান্য প্রাণীদের পদতলে চাপা খেয়েও মারা পড়তে পারো। তাই সময়কে কাজে লাগাও আর প্রত্যেকে খাবার জোগাড় করার কাজে লেগে পড়ো। রাজার হুকুম অনুযায়ী সব পিঁপড়ের দল খাবার খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে এখানে সেখানে। রাজার হুকুম মতে খাবার সংগ্রহ করে রাখে গর্তের ভেতর। পরে বৈরী আবহাওয়ায় এসব খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে পিঁপড়েরা।
মিতু গল্পের মধ্যে মামাকে প্রশ্ন করে, মামা পিঁপড়েদেরও রাজা আছে। মামা বললÑ হ্যাঁ মিতু, পিঁপড়েদেরও রাজা থাকে। মামা মিতুকে প্রত্যক্ষভাবে দেখিয়ে দেয়ারও আশ্বাস দেয়। মামা বলেনÑ আমি আগামীকাল সকালে তোমাকে পিঁপড়েদের রাজাকে দেখাব। দেখবে রাজা তাদেরকে কত সুন্দর করে পথ দেখায় আর খাবার খুঁজতে সাহায্য করে। মিতু বলল ঠিক আছে মামা। এভাবে গল্প শুনতে শুনতে মিতু ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে মিতুর মা সবাইকে নাশতা দেয় খেতে। মিতুকে দেয়া হয় মামার আনার বিস্কুট। মামা খেয়াল করে দেখে মিতু মনোযোগ দিয়ে বিস্কুট খাচ্ছে। মামা মিতুর কাছে গেলেন। মিতুকে বললেন এসো আমার সাথে তোমাকে পিঁপড়েদের রাজাকে দেখাব। মিতু মামার সাথে চলল বাইরে। উঠোনের এক কোণে একটি উঁচু টিলার মতো মাটির স্তূপ ছিল। আর স্তূপে ছিল কিছু ছোট ছোট গর্ত। মামা মিতুর হাত দেখে বিস্কুট নিয়ে গুঁড়ো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলেন গর্তগুলোর চার দিকে। অল্প কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল দু’টি পিঁপড়ে এসে বিস্কুটের গুঁড়োগুলোকে ভালো করে শুঁকছে। দুটো পিঁপড়ে চলে গেল। কতক্ষণ পর দেখা গেল একদল পিঁপড়ে। এভাবে দলে দলে পিঁপড়ে আসতে শুরু করল বিস্কুটের গুঁড়োগুলো নিয়ে যেতে। মিতু একটা বিষয় খুব খেয়াল করল, পিঁপড়েদের দলগুলোতে একটি বড় আকারের পিঁপড়ে এদিক-সেদিক ঘুরছে। আর বড় পিঁপড়েটির সাথে আরো একটু ছোট সাইজের পিঁপড়েরাও ঘুরতে লাগল। প্রশ্ন করলÑ মামা, এই বড় পিঁপড়েটি কি পিঁপড়েদের রাজা? মামা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ এই রাজার কথাই তোমাকে গতরাতে বলা হয়েছে। দ্যাখো মিতু, রাজা ঘুরে ঘুরে সবার তদারকি করছে সবাই ঠিকমতো খাবার সংগ্রহ করছে কি না। আর প্রথম যে দু’টি পিঁপড়ে দেখেছ তারা হলো রাজার পাইক পেয়াদা। তারা গিয়েই রাজাকে এই খাবার খোঁজ দেয়। পরে রাজা তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে পরিদর্শন করতে আসে আর খবর পাঠায় সবাই যেন খাবার সংগ্রহে নেমে পড়ে। আর দ্যাখো কত সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে সারি সারি হয়ে খাবার সংগ্রহ করছে। মিতু এসব দেখে তো পুরাই আনন্দ পেতে থাকল। রাতের গল্প আর সকালের সরাসরি পিঁপড়েদের রাজাকে দেখে সে অনেক খুশি। মামার গল্প তার কাছে গল্প নয়, যেন এক বাস্তবচিত্র। আর এ জন্যই মিতু তার ছোট মামার কাছে গল্প শুনতে বেশ ভালোবাসে। পরদিন মামা চলে যান ঢাকা। মিতু মামাকে বিদায় জানায়। ফের নিমন্ত্রণ করে আবার ছুটি পেলে আসতে মিতুদের বাড়ি। মামা আবার আসব বলে বিদায় নেয়। মিতু কতক্ষণ পথের দিকে চেয়ে থেকে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরে। হ
শুক্রবার মিতু আজ সারাদিন ঘরেই তার পুরনো খেলনাগুলো নিয়ে খেলছে। পুরনো খেলনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠের একটি ঘোড়া, টিনের একটি বাক্স ও কতগুলো লুডু খেলার গুটি।...
