দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ছে দিন দিন। মানুষ রোগে-শোকে একাকার। মানুষের কান্না মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। মনে মনে আঁতকে উঠি। কখন কার ডাক আসে। এক ভয়ানক পরস্থিতির মধ্যে দিনগুলো যাচ্ছে। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ কমে এসেছে, স্নেহ ভালোবাসা শূন্যের কোটায়। হাসি ঠাট্টা উবে গেছে। এক অস্বস্তিকর অবস্থা সবার মনে বসত করছে। মানুষের চোখে-মুখে ভীতির ছায়া। সামান্য হাসি কাঁশি ঠাণ্ডা লাগলেই ভয় পাচ্ছে। এই বুঝি করোনায় ধরেছে। বেশির ভাগ মানুষের মানসিক শক্তি নেই বললেই চলে।
শিশু-কিশোররা এখন বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছে। স্কুল তো বাদ হয়েছে কবেই। উপরন্তু খেলাধুলা নেই। খেলাধুলা স্বাস্থ্য গঠনের মাধ্যম। হাসিখুশি, শরীরচর্চায় শারীরিক গঠন হয় দ্রুত। বিকেল বেলা মাঠে মাঠে বল খেলা, ক্রিকেট খেলা, ঘুড়ি উড়ানো, আজ আর নেই বললেই চলে। এককথায় হাসি, ঠাট্টা, গল্প গুজব সব বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা-কাচ্চারা দল বেঁধে আর নৃত্য করে না, গান গায় না। এক ঘুমোট পরিবেশের মধ্যে আছে।
লেখাপড়া করছে না। এভাবে লেখাপড়া করা যায় না।
ক্লাসে শিক্ষকের সামনেই ছেলেমেয়েরা দুষ্টুমি করে। মনোযোগ দিয়ে পড়তে চায় না। অনলাইন ক্লাস তো একেবারেই ফাঁকিবাজি ক্লাস, স্যারের দৃষ্টির আড়ালে থাকে। তারা ক্লাস করে না গেম খেলে, দেখার কেউ নেই।
উপরন্তু মা-বাবার ওপর চাপ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা স্মার্টফোন কিনে নিয়েছে। পড়ার নামে সারা দিন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম নিয়ে আছে, বিভিন্ন গেম নিয়ে আছে, ইমু-ভাইবার নিয়ে আছে নানাভাবে তারা গোল্লায় যাচ্ছে।
বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরী কাজ না থাকায় পড়া না থাকায় গেমাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তারা সবাই মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে।
এর পরিত্রাণ নিয়ে ভাবতে হবে। খুব দ্রুত স্কুল খুলছে এমন নজিরও দেখা যাচ্ছে না। করোনার প্রকোপ বেড়েই চলছে। কমার লক্ষণ দেখছি না। যতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সেই বিবেচ্য বোধ এখনো জন্ম নেয়নি। নিয়মিত মাস্ক এখনো পরে না, এখনো দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে, এখনো হাইজিন মেনটেইন করে না।
তাহলে কিভাবে কমবে করোনার প্রকোপ। সরকার যতই চেঁচিয়ে যাচ্ছে মানুষ ততই পাল্লøা দিয়ে সরকারি সব উদ্যোগ পা মাড়িয়ে যাচ্ছে। না মাড়িয়ে ও উপায় নেই। পেট তো আর কথা শুনে না। সে তো খেতে চায়। কাজ তো করতেই হবে। তাই তো লকডাউন, শাটডাউন মানুষ মানতে পারে না। সেই কারণে করোনা দেশ থেকে উধাও হওয়ার লক্ষণ খুব কম। তাই তো ভাবি কবে স্কুল খুলবে বলা কঠিন। সরকার অ্যাসাইনমেন্টের উদ্যোগ নিয়েছে। তা খুব প্রশংসার যোগ্য। অন্তত তারা বই নিয়ে বসবে। বিষয়টি তেমন হলে ভালোই হতো। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। একজনের অ্যাসাইনম্যান্ট অন্য কেউ লিখে দিচ্ছে। শুনেছি ছাত্রছাত্রীরা লেখক ভাড়া করে লিখে জমা দিচ্ছে। কেউ কেউ নিজেই লিখছে। কিন্তু বই ঘেঁটে লিখছে না। নেট সার্চ দিলেই উত্তর পাওয়া যাচ্ছে তাই দেখে লিখছে। অটোপাস খুব যে ভালো বিষয় তা নয়। এটা বাধ্যতামূলক দিতে হচ্ছে। ধরুন মন্দের ভালো। তবে শিক্ষার জন্য মন্দের ভালো। পরীক্ষাগুলো তো থামিয়ে রাখা যায় না। সরকার বিভিন্নভাবে চিন্তাভাবনা করছে। একটা কিছু সুরাহা হবে হয়তো পরীক্ষার বিষয়ে। কিন্তু শিশু-কিশোর যে গোল্লøায় যাচ্ছে তা রক্ষা হবে কিভাবে? তারা তো স্কুলে যেতে চায়, প্রাণ অফুরান উড়তে চায়, নিজের মেধা বিকাশ করতে চায়, বন্ধ ঘরে আর থাকতে চায় না, তারা পড়তে চায়, খেলতে চায়Ñ পরিশেষে তারা বাঁচতে চায়। সমাজের বিবেকের কাছে দাবি রাখি ওদের জন্য কি কোনোভাবে বিকল্প কিছু করা যায় না!