বাড়ির উঠোনে আমড়া গাছ। এ বছর খুব আমড়া ধরেছে। এখনো আমড়া খাওয়ার মতো হয়নি। সবুজ আমড়া দেখতে খুব সুন্দর। আমড়া খেতে বাপ্পি খুব ভালোবাসে। আমড়া, খাওয়ার উপযুক্ত না হলে ও বাপ্পি মাঝে মধ্যে বড় বড় দেখে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়।
লবণ আর শুকনো মরিচের ঝাল দিয়ে আমড়া খেতে খুব মজা লাগে। বাপ্পি টসটস করে খায়। আর বাপ্পির আম্মু দেখে মনে মনে হাসে। বাপ্পির আম্মু ও বাপ্পির সাথে ভাগ বসায়। এ নিয়ে দু-একবার মায়ে ছেলে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
গাছতলায় ইদানীং খাওয়া অর্ধেক আমড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাপ্পি নিজেই গোয়েন্দা হয়েছে, কে খায় সেই চোর ধরবে। এক দিন আমড়া গাছ থেকে অদূরে বসে থেকে চোর শনাক্ত করতে পারল। কিন্তু চোর ধরা সম্ভব হলো না। কেন না চোরের সাথে বাপ্পির পেরে ওঠা সম্ভব না।
চোর যে কাঠবিড়ালি। সে দ্রুত দৌড়াতে ও গাছে চড়তে জানে। চোখের পলকে গাছ থেকে নেমে দেয় ভোঁ-দৌড়। তখন আর করার কিছু থাকে না। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়। বাপ্পি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে করেই হোক এই চোরকে ধরবে। মনে মনে ভাবে, বাপ্পি গোয়েন্দা কে চেনো না। ধরে এমন শাস্তি দিবো সারা জীবন আর ছাড়া পাবে না।
বাপ্পির আমড়া চোর ধরার প্রথম অভিযান শুরু হলো।
আমড়া গাছের পাশেই চাল কুমড়ো গাছের জাঙলা। জাঙলা তলায় পাটি পেতে বসে রইল বাপ্পি। কিছুক্ষণ পর চোর কাঠবিড়ালি কোত্থকে দৌড়ে এসে লাফিয়ে লাফিয়ে লেজ উঁচু করে গাছে উঠে গেল। গাছে উঠে সবচেয়ে সুন্দর বড় আমড়াটি কট কট করে খাওয়া শুরু করল। আমড়ার রস খেয়ে অবশিষ্ট গুঁড়া অংশ নিচে ফেলতে লাগল। বাপ্পি মনে মনে বলল, এইবার বুঝবে বাছাধন কত ধানে কত চাল। বাপ্পি, একটা লাঠি নিয়ে আমড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে রইল। গাছের গোড়া দিয়েই তো নামতে হবে। যখন নামতে যাবে তখন এক বাড়িতে চোর কাঠবিড়ালিকে নিচে ফেলে দেবে। প্রায় ঘণ্টা খানেক আমড়া গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে রইল বাপ্পি। কাঠবিড়ালি মনের সুখে কয়েকটি আমড়া খেয়ে নিচে নামতে শুরু করল। বাপ্পি লাঠি উঁচু করতে করতে, কাঠবিড়ালি গাছ বেয়ে নেমে দৌড়। বাপ্পি অবাক তাকিয়ে রইল।
আমড়া চোর ধরার দ্বিতীয় অভিযানে বাপ্পি ভাবল, আমড়া গাছে সুপার গ্লু লাগিয়ে রাখবে। গাছ বেয়ে উপরে ওঠার সময় গায়ে আঠা লেগে গাছের সাথে আটকে যাবে। পরদিন বাপ্পি গাছের গোড়া থেকে কয়েক ফুট পর্যন্ত সুপার গ্লু লাগিয়ে রাখল। বাপ্পি ভাবল, এবার আর পার পাবে না। বারে বারে ঘুঘু তুই খেয়ে যাস ধান...।
কিছুক্ষণ পর কাঠবিড়ালি অনায়াসে গাছে উঠে গেল। বাপ্পি দূর থেকে কাঠবিড়ালির আমড়া খাওয়া দেখতে লাগল। কাঠবিড়ালি মাঝে মধ্যে বাপ্পির দিকে তাকায়। আর বাপ্পি ভাবে ওকে তিরস্কার করছে। বাপ্পির মনে আরো জেদ ধরে। কাঠবিড়ালিকে বাপ্পি ধরবেই।
এবার বাপ্পি অন্য কৌশল আঁটে। গরুর লেজের শক্ত চুল দিয়ে ঢোয়া তৈরি করে তার সাথে লাইলন সুতার গিঁট্টু দিয়ে গাছের গোড়া থেকে কয়েক গজ পর্যন্ত ফাঁদ পেতে রাখে। যাতে কাঠবিড়ালির পায়ে আটকে যায়। কাঠবিড়ালি যথারীতি আসে। গাছ বেয়ে উঠতে থাকে। মাঝ বরাবর এলেই সেই ফাঁদে কাঠবিড়ালির পা আটকে যায়। বাপ্পির খুশি দেখে কে? বাপ্পি কাছে আসতে না আসতেই কাঠবিড়ালি ফাঁদসহ পালিয়ে যায়। বাপ্পি তাকিয়ে থাকে। তবে বাপ্পি ভাবে এই কৌশলে ধরা যাবে। পরদিন কাঠবিড়ালি এলো না। বাপ্পি ফাঁদ পেতে বসে রইল। তারপর দিনও এলো না। বাপ্পি মনে করে নিলো, ভয় পেয়েছে আর আসবে না। খুশিই হলো আমড়া আর খাবে না। তবে তৃতীয় দিন কাঠবিড়ালি এলো। সাথে তার আরেক বন্ধু নিয়ে। বাপ্পি যথারীতি ফাঁদ পেতে রেখেছে গাছে। কাঠবিড়ালি এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে পাশে সুপারি গাছ বেয়ে আমড়া গাছে চলে গেল। কয়েক দিন ফাঁদ পেতে রাখার পর যখন বাপ্পি বুঝতে পারল আমড়া গাছ দিয়ে আর কাঠবিড়ালি উঠবে না তখন বাপ্পি অন্য মতলব আঁটতে লাগল।
আমড়া পাকতে শুরু করল। গাছে কাঠবিড়ালির সংখ্যা বাড়তে লাগল।
গাছের তলায় শত শত আমড়া খেয়ে খেয়ে ফেলতে লাগল। বাপ্পি ভাবে, তার সাথে শত্রুতা করেই কাঠবিড়ালিরা ঝাঁক ধরে এসে, বেশি বেশি আমড়া খাওয়া শুরু করেছে।
আমড়া এখন শুধু খাচ্ছেই না বরং নষ্টও করছে। বাপ্পি হাল ছাড়ার পাত্র নয়। এবার বাপ্পির চোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। তার ক্ষেপণাস্ত্র হলো গুলতি। গুলতি ব্যবহারে বাপ্পি সিদ্ধহস্ত। যেই কাঠবিড়ালি গাছে আমড়া খেতে আসে অমনি বাপ্পি গুলতি মারে। কাঠবিড়ালি মুহূর্তেই অন্য ডালে যায়। যেন বাপ্পির সাথে খেলা করছে। বাপ্পি রাগে গরগর করছে। সামান্য কাঠবিড়ালির সাথে পারছে না। এটা ভাবা যায়। এ দিকে আমড়ার ১২টা বাজিয়ে ছাড়ছে কাঠবিড়ালি। বাপ্পি গোয়েন্দা আবার চোর ধরার নতুন ফন্দি এঁটে ফেলেছে মনে মনে। সে চেষ্টায়ও সে সফল হয় কিনা কে জানে!
বাড়ির উঠোনে আমড়া গাছ। এ বছর খুব আমড়া ধরেছে। এখনো আমড়া খাওয়ার মতো হয়নি। সবুজ আমড়া দেখতে খুব সুন্দর। আমড়া খেতে বাপ্পি খুব ভালোবাসে। আমড়া,...
