দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রসূলুল্লাহ সা: প্রদর্শিত পথ অনুসরণ সময়ের দাবি। আমাদের দেখতে হবে, দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত তৎকালীন একটি সমাজকে তিনি কিভাবে দুর্নীতিমুক্ত করেছিলেন। দুর্নীতি সমস্যার সমাধানের জন্য আপাতত দুর্নীতির আগে ন্যায়নীতির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি নিবন্ধ করা প্রয়োজন। দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নিমিত্তে সর্বপ্রথম ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার চিন্তা ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োগ করতে হবে। এটিই উত্তম পন্থা এবং এ পন্থায় দুর্নীতি দমন সম্ভব। রসূলুল্লাহ সা:-এর পবিত্রতম জীবন চরিত থেকে আমরা সে শিক্ষাই পাই। মহানবী সা: তৎকালীন অধঃপতিত সমাজকে দুর্নীতির গভীর খাদ থেকে উদ্ধারের নিমিত্তে এর ইতিবাচক দিক তথা ন্যায়নীতি বিকাশের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এ জন্য সর্বপ্রথম তিনি মানুষের মন-মননে ‘আল্লাহ ও আখিরাতের ভয়’ জাগ্রত করার কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন। এ জন্য তিনি নেতিবাচক তথা উদ্ধতভাব, খড়গহস্ত ও কর্কশভাষী হননি। বরং তাঁর মনের সবটুকু দরদ ঢেলে দিয়ে, একান্ত অকৃত্রিম হিতাকাক্সক্ষী সেজে ও অত্যন্ত কোমলভাবে মানুষকে বুঝিয়েছেন। যার স্বীকৃতি স্বয়ং আল্লাহ এভাবে করেছেন, ‘আপনি যে কোমল হৃদয় হতে পেরেছেন, তা আল্লাহর অনুগ্রহেরই ফল। কিন্তু আপনি যদি কঠিন হৃদয় ও কর্কশভাষী হতেন তাহলে তারা সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে যেত।’ আল্লাহ আরো বলেন, ‘ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। মন্দকে ভালো পন্থায় প্রতিরোধ করো। তখন দেখবে, তোমার সাথে যার শক্রতা, সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি মানুষকে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং মানব কল্যাণমুখী সমাজ কায়েমের আহ্বান জানাতেন। আল-কুরআনে অঙ্কিত আখিরাতের ভয়াবহ দৃশ্য উপস্থাপন করতেন। পাশাপাশি চুরি, ব্যভিচার, সন্তান হত্যা, মিথ্যা বলা, রাহাজানি করা, আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরানো প্রভৃতি কাজ থেকে বিরত রাখা ও তাদের মনে ঘৃণা জন্মানোর চেষ্টা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল আত্মার পবিত্রতা সাধন, মন-মানসে মলিনতা, শোষণ, জৈবিক ও পাশবিক পঙ্কিলতা প্রক্ষালন করে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদাকে পুনরুদ্ধার করা। তিনি শারীরিক বশ্যতার আগে আত্মার আনুগত্যশীলতাকে উজ্জীবিত করেছেন। কারণ আল্লাহর ভয় যার মনকে বিচলিত করে না, মানুষের ভয় তাকে কীভাবে বিচলিত করবে? সুতরাং দুর্নীতিকে সমূলে উচ্ছেদ করে মানুষকে দানশীল, উদার, সহানুভূতিশীল, মানবদরদি ও পারস্পরিক কল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মকভাবে ইসলামের দিকেই ফিরে আসতে হবে। এ জন্য রসূলুল্লাহ সা:-এর দেখানো ইতিবাচক পথ ধরেই আমাদের এগোতে হবে। এ জন্য তিনি আল্লাহর দেয়া প্রতিটি আনুষ্ঠানিক ইবাদতের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কারণ, ইসলামের প্রতিটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত দুর্নীতি দমনে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। যে সমাজে বা রাষ্ট্্ের এগুলো প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানে দুর্নীতির অস্তিত্ব থাকতে পারে না। তবে এ বিধানগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। আল্লাহ বলেন, ‘তাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করি তাহলে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত আদায় করবে, ভালো কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।’ আল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ করবে আর অসৎকাজের নিষেধ করবে। আর এরাই সফলকাম।’ তাই আমরা যদি আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ আর দুর্নীতি করার ইচ্ছা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারি এবং পরকালে আল্লাহর কাছে পাপ-পুণ্যের হিসাব দেয়ার ভয় সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে জাগ্রত করতে পারি তাহলে আমাদের দ্বারা অপরাধ করা আর সহজ হবে না। বরং ন্যায়নীতি মেনে চলা আমাদের পক্ষে অনেক সহজ হবে। তখন দেশ উন্নতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে আর মানুষের মধ্যে বিরাজ করবে শান্তি।
দুর্নীতি একটি মারাত্মক অপরাধ। আর অপরাধ যেকোনো সমাজ-সভ্যতায় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মানবজীবনে অপরাধ অশান্তি ও অকল্যাণ বয়ে আনে। এই অপরাধপ্রবণতা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ সা: প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। ইসলামের মৌলিক টুলস তথা নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কেউ যদি অপরাধে লিপ্ত হয় তখন ইসলাম তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামের শাস্তি আইনগুলো বাহ্যত কঠোর মনে হলেও প্রতিটি আইনের পেছনে একটি সুপ্ত রহস্য ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যেমন- ইসলামের কিসাস সম্পর্কিত আইন বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী।’ আল্লাহ বলেছেন, ‘যেসব লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের শান্তি হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করতে হবে কিংবা শূলে বিদ্ধ করা হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে, অথবা তাদের নির্বাসিত করা হবে।’ সাধারণ আইনে অপরাধ সংক্রান্ত সব শাস্তিকেই ‘দণ্ডবিধি’ নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু ইসলামের শাস্তি আইনগুলো একটু কঠিন মনে হলেও প্রতিটি শাস্তির আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে।
‘অপরাধ’ বলতে শরিয়তের এমন আদেশ ও নিষেধ বোঝায় যা লঙ্ঘন করলে হদ্দ বা তাজির প্রযোজ্য হয়। দুর্নীতি একটি অপরাধ, যে সম্পর্কে আল্লাহ হদ্দ (বিধিবদ্ধ শাস্তি) অথবা তাজির (দণ্ডবিধি) দ্বারা হুমকি প্রদান করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তির ওয়াদা করা হয়েছে। ‘ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মৌলিক সমস্যা সমাধানে ইসলামী আইন, প্রাগুক্ত’ শাস্তির মাত্রার দিক থেকে অপরাধ তিন প্রকার-
হদ্দ-এর আওতাভুক্ত অপরাধ : যেসব অপরাধের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত। যেমন- যিনা (ব্যভিচার), যিনা এর মিথ্যা অপবাদ (কাজফ), চুরি (সারাকা), ডাকাতি (কাতউত তারিক), মাদক গ্রহণ (শুরবুল খামর) এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ (ইরতিদাদ)।
কিসাস ও দিয়াতের আওতাভুক্ত অপরাধ : যেসব অপরাধের জন্য কিসাস (মৃত্যুদণ্ড বা অঙ্গহানি) অথবা দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন- ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যা এর অন্তর্ভুক্ত।
তাজিরের আওতাভুক্ত অপরাধ : আল্লাহ বা মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের জন্য শরিয়ত নির্দিষ্ট কোনো শাস্তি কিংবা কাফফারা নির্ধারণ করে দেয়নি সেসব অপরাধের শাস্তিকে তাজির (অনির্ধারিত শাস্তি) বলে। তাজির পর্যায়ের অপরাধগুলোর মধ্যে দুর্নীতি অন্যতম। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে- অন্যায় অপকর্ম থেকে অপরাধীকে বিরত রাখা। মানুষের মৌলিক বিষয়সমূহের সংরক্ষণ; সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং অপরাধীকে পবিত্রকরণ। হুদুদ ও কিসাস জাতীয় কয়েকটি অপরাধ ছাড়া অবশিষ্ট সব অপরাধই তাজিরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু দুর্নীতি তাজিরের পর্যায়ের একটি অপরাধ সেহেতু এর শাস্তিও তাজিরের অনুরূপ। তাজিরা শাস্তি হচ্ছে- অপরাধের ভিন্নতার কারণে শাস্তির ভিন্নতা হবে। হত্যা : ইসলামী ফৌজদারি আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তাজিরের আওতায় কাউকে হত্যা করা সমীচীন নয়। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা এমন কাউকে বিনা অধিকারে হত্যা করো না, যার হত্যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।’ ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. বলেন, ‘বিপর্যয় সৃষ্টিকারী আক্রমণকারীর মতোই। যদি আক্রমণকারী হত্যা ছাড়া অবদমিত না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।’ বেত্রাঘাত করা, বন্দী করা, নির্বাসন বা দেশ থেকে বহিষ্কার, শূলে চড়ানো, উপদেশ বা তিরস্কার কিংবা ধমকদান, অপমান করা, বয়কট, আদালতে তলব, চাকরিচ্যুতকরণ, সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়া, কাজ কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, উপায় উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ও আর্থিক দণ্ড আরোপ করা।
আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে ভক্ষণ করো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।’
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে গোটা বিশ্বকে একটি গ্লোবাল ভিলেজ মনে করা হয়। যার ফলে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলো অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংস্পর্শে এসে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউএসএ পলিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি অনেক এনজিও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব-কর্তব্য, ভূমিকা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, ‘ঘুষ যদি টেবিলের উপরে উঠে যায় তা হলে আমার করণীয় কিছুই নেই, আর যদি নিচে থাকে তাহলে এখনই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবনে ঘুষ, দুর্নীতির অবস্থান কোথায় তা সহজেই অনুমেয়।
দুর্নীতিমুক্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন; ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি ও কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা প্রয়োজন; রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, এ ক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্পূরক অধ্যায় চালু করা যেতে পারে; সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মানদণ্ড রক্ষা করা উচিত; এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা ও মৌখিক শপথ নেয়া উচিত যে, তিনি কোনো পর্যায়ে নিজেকে দুর্নীতির সাথে জড়াবেন না; রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদমর্যাদা ও দ্রব্যমূল্য সামনে রেখে সম্মানজনক জীবন-জীবিকার উপযোগী বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন; সুইডেন, আর্জেটিনা, পেরু, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জীবন-জীবিকার উপযোগী বলে সেখানে দুর্নীতি অনেক কম; সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন; সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ অডিট ব্যবস্থা, স্বচ্ছ মনিটরিং পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চতকরণ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তথ্য সংরক্ষণ; দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং দুদককে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষমতা দিতে হবে; জনপ্রতিনিধিদের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মানসিকতার উন্নতি করতে হবে, যাতে দুর্নীতির মতো ঘৃণ্য কাজকে ঘৃণার চোখেই দেখে এবং দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে নিজেদেরকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট চাকরিজীবী ও সাধারণ জনগণকে এ পরিকল্পনার অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং সবাইকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত কর্মসূচির সাথে আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতারা ও মসজিদের ইমাম ও খতিবদেরকে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করা; দুর্নীতিপ্রবণতার কারণসমূহ উদঘাটন করে সে আলোকে প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; সংবাদপত্রের আদর্শিক স্বাধীনতা দিতে হবে; প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ইসলামের শাস্তি বিধান (ইসলামী ফৌজদারি আইন) চালু করা; কুরআনে বর্ণিত দুর্নীতি প্রতিরোধের আয়াতগুলোর ব্যাপক প্রচার করা; দুর্নীতির ভয়াবহতা ও পরিণাম সম্বলিত হাদিসের ব্যাপক প্রচার করা; সর্বোপরি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আরো গণসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টি করতে হবে।