পৃথিবী আল্লাহ তায়ালার এক অকৃত্রিম সৃষ্টি। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পৃথিবীতে অসংখ্য গাছ-গাছালি, পাহাড়-উপত্যকা, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির অনেক কিছুই অদ্যাবধি পৃথিবীবাসীর অজানা রয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভ এবং তিনি এমন অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন যে সম্পর্কে তোমরা অবগত নও’ (সূরাহ আন-নাহ্ল: ৮)। মানুষের জানা-অজানা এসব সৃষ্টি পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। মানুষ যখনই নির্বিচারে আল্লাহ প্রদত্ত এসব সৃষ্টির রূপান্তর ঘটিয়েছে তখনই পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। এর ফলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বপরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। বুদ্ধিমান ও বিবেকবান মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত অপব্যবহার ও অত্যাচারের ফলে আজ পৃথিবীর পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত ও শঙ্কটাপন্ন। পরিবেশের এ অবক্ষয় ও দূষণের ফলে মানবসভ্যতা এবং জীবজগৎ এক অনিবার্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাবসহ অসংখ্য সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিবেশ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Environment. এর অর্থ বেষ্টন করা বা ঘেরা। পরিবেশ বলতে আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক জলবায়ু ও ভূ-প্রকৃতিগত সব উপাদানের যৌথ প্রভাব ও পারস্পরিক অবস্থানকে বুঝে থাকি। ড. এফএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আমাদের চার পাশে যা দেখি বা যেসব জটিল উপাদান বা বস্তু সম্ভার আমাদের স্বাস্থ্য, ভালো-মন্দ ও সুখ-দুঃখের ওপর কর্তৃত্ব করে তা দিয়েই গড়ে ওঠে আমাদের পরিবেশ। এক কথায় প্রকৃতির সাথে জীব জগতের যে সম্পর্ক ও সহাবস্থান মূলত তাকেই পরিবেশ বলা হয়।’ মানুষের চার পাশে প্রাকৃতিক এবং মানব সৃষ্ট অন্যান্য উপাদান মিলে গড়ে ওঠে পরিবেশ। যদি কোনো কারণে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের কাক্সিক্ষত মাত্রা বিনষ্ট হয় বা পরিবেশ জীবজগতের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে, সেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থাকে পরিবেশ দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দুই ধরনের কারণ শনাক্ত করেন। প্রাকৃতিক কারণ ও মানব সৃষ্ট কারণ। পরিবেশ দূষণের জন্য যেসব প্রাকৃতিক কারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী তার মধ্যে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প ইত্যাদি অন্যতম। পরিবেশ দূষণের মানব সৃষ্ট কারণগুলো হচ্ছে বনভূমি উজাড় বা বৃক্ষ নিধন, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ, মাটি দূষণ, আর্সেনিক দূষণ ইত্যাদি।
বর্তমানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিভিন্ন সম্মেলন। ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে জাতিসঙ্ঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দিবস পালিত হয়। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও-তে, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে, ২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে এবং ২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও-তে অনুষ্ঠিত হয় পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলন, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রত্যেক দেশের সরকার ও পরিবেশ সংস্থাগুলো স্ব স্ব দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির প্রকৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, ভৌগোলিক পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় এনে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য আইন প্রণয়ন ও বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।
পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। পরিবেশ সুরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে গাছ-গাছালী। গাছ-গাছালি কেটে বনভূমি উজাড় করার ফলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সা: গাছ-গাছালি লাগানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত জমিকে জীবন্ত করে অর্থাৎ পতিত জমিকে আবাদযোগ্য করে তোলে এতে তার জন্য পুরস্কার রয়েছে’ (আসসুনান লিদদারিমি)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘যেকোনো মুসলমান ফলবান গাছ রোপণ করে অথবা কোনো ফসল চাষাবাদ করে আর তা থেকে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় সেটি তার পক্ষ থেকে সাদকা বলে গণ্য হবে’ (সহিহুল বুখারি)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে, কিয়ামত এসে গেছে তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে যা রোপণ করা যায় তবে সে চারাটি লাগাবে’ (মুসনাদে আহমদ ইবন্ হাম্বল)।
পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে প্রাণী। প্রাণী ধ্বংসের ফলে পরিবেশগত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ সা: নির্বিচারে প্রাণী নিধনের বিরোধী ছিলেন। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যারা সৃষ্টির প্রতি দয়া করে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আসমানের মালিক তোমাদের ওপর দয়া করবেন’ (নাকছুল ঈমান)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘এক পতিতা নারীকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। সে একটি কুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল কুকুরটি একটি কুপের কাছে জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যে, পিপাসা তাকে এখনই শেষ করে দেবে। মহিলাটি তার চামড়ার মোজা খুলে ওড়না দিয়ে বেঁধে কুপ থেকে পানি উঠাল (কুকুরকে পান করাল)। তার এ কাজের জন্য তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সা:কে জিজ্ঞাসা করা হলো পশুদের সেবায়ও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি বললেন, প্রতিটি তাজা কলিজার অধিকারী প্রাণীর সেবার মধ্যেই পুণ্য রয়েছে’ (সহিহুল বুখারি)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, একটি বিড়াল হত্যার অপরাধে এক নারীকে আজাব দেয়া হলো। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর বিড়ালটি মারা গেল। এ কারণেই সে জাহান্নামে গেল। যখন সে বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল, তখন সে এটিকে না দিয়েছিল খাবার, না দিয়েছিল পানি, আর না এটিকে ছেড়ে দিয়েছিল যে বাইরে গিয়ে কীট-পতঙ্গ খাবে’ (সহিহুল বুখারি)।
পাহাড়-পর্বত পরিবেশ রক্ষার অন্যতম বাহন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য পাহাড়-পর্বত। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এ সব অর্থহীন বা নিষ্প্রয়োজন এবং এগুলো কেটে সমতলে রূপান্তর করাতেই লাভ বেশি। এটি একটি ভুল ধারণা। কেননা এগুলোকে ঘিরে আছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী, যারা পরিবেশকে সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে বিরাট সহায়ক। পাহাড়রাজি জলবায়ুর স্বাভাবিক চক্র ও স্থিতাবস্থা অক্ষুণœ রাখতেও এদের প্রয়োজন। সুবিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালার কথাই বলি। এর অবস্থানগত কারণেই উত্তরের সাইবেরীয় অঞ্চলের হিম শীতল বায়ুপ্রবাহ অবাধে ভারতীয় উপমহাদেশকে শীতল থেকে শীতলতর করতে পারে না। এর ফলে আমরা আরামপ্রদ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে বাস করতে পারছি।
এভাবে পৃথিবীর বিপুলসংখ্যক পর্বতমালা আমাদের সাথে বন্ধুত্বের মিতালী পেতে আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত সৃষ্টি করেছি, যাতে পৃথিবী এদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক ঢলে না যায় এবং আমি এতে প্রশস্ত পথ করে দিয়েছি যাতে এরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে’ (সূরাহ আল-আম্বিয়া : ৩১)। সুতরাং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থেই পাহাড় প্রয়োজন।
বর্জ্য পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। বর্জ্যকে মোটামুটি দু’ভাগে ভাগ করা যায়। দৈনন্দিন ব্যবহারের নিষ্কাশিত বর্জ্য এবং রাসায়নিক শিল্প কারখানার বর্জ্য। এসব বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রকৃতপক্ষে পরিবেশ দূষণের জন্য বর্জ্য দায়ী নয়, দায়ী বর্জ্যরে অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ’ (সহিহুল মুসলিম)। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ সা: ময়লা, আবর্জনা, কাঁটা ইত্যাদি কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তার ওপর ফেলে রাখতে নিষেধ করেছেন। সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ গঠনে খাল-বিল, পুকুর-ডোবা, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার থাকা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সা: মৃত শরীরের কোনো অংশ যত্রতত্র ফেলতেন না। কারণ এটি একসময় শুকিয়ে বাতাসের সাথে মিশে যেতে পারে। এটি পুঁতে না ফেললে কোনো প্রাণী বা পাখির দ্বারা ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করতে পারে। এজন্য রাসূলুল্লাহ সা: রক্ত বা গোশত মাটিতে পুঁতে ফেলতেন বা পুঁতে ফেলার নির্দেশ দিতেন।
পরিবেশ রক্ষায় পানির গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি ছাড়া সুস্থভাবে জীবনযাপন সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সা:-এর শিক্ষা হচ্ছে পানির সঠিক ব্যবহার করা এবং অপচয় না করা। তিনি তিনবার তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিচ্ছন্ন করতেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে এটিকে বাড়ায় (তিন বারের বেশি) সে অবিচার করে ও ভুল করে’ (সুনান আন-নাসাঈ)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ধরনের মানুষের সাথে কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকাবেন না। তারা হচ্ছে, যে মিথ্যা হলফ করে কোনো ব্যবসায় বেশি মুনাফা লোটে। যে সালাতুল আসরের পর হলফ করে কোনো মুসলিমের সম্পদ নিয়ে নেয় এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি আটকে রাখে। শেষ বিচারের দিন শেষোক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ বলবেন, তুমি যেভাবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি আটকে রেখেছিলে সেভাবে আমি আজ আমার কল্যাণকে আটকে রাখব। এ পানি তো তোমার তৈরি ছিল না’ (সহিহুল মুসলিম)। পানি দূষণ রোধকল্পে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে প্র¯্রাব না করে’ (সহিহুল বুখারি)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন নাপাক অবস্থায় বদ্ধ পানিতে গোসল না করে’ (সুনান আবু দাউদ)।
পরিবেশ দূষণের একটি অন্যতম উপকরণ হচ্ছে শব্দ দূষণ। সীমিত শব্দের চেয়ে অতিরিক্ত যে শব্দ আমাদের বিরক্তি সৃষ্টি করে এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে যা ক্ষতিকর তাকে শব্দ দূষণ বলে। মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয় ৬০ থেকে ৭০ ডেসিবল্স মাত্রার শব্দ কোনোরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই গ্রহণ করতে পারে। শিশু-কিশোরদের এ মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল্স। ১ মিটার দূরত্বের মধ্যে দু’জন মানুষ একটু উচ্চস্বরে কথা বললে ৬০ ডেসিবল্স মাত্রার শব্দ উৎপন্ন হয়। বিভিন্ন ধরনের শব্দ প্রচণ্ডভাবে পরিবেশকে দূষিত করছে। রাসূলুল্লাহ সা: কর্কশ স্বরে চেঁচিয়ে কথা বলা অপছন্দ করতেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি সংযতভাবে পদক্ষেপ করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, স্বরের মধ্যে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর’ (সূরা লুকমান : ১৯)। অট্টহাসির দ্বারাও শব্দ দূষিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘বেশি হেসো না। কেননা বেশি হাসার ফলে অন্তর মৃতপ্রায় হয়ে যায়’ (সুনান ইব্ন মাজাহ)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘আমরা কোনো অভিযানে রাসূলুল্লাহ সা:-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা কোনো উপত্যকায় উঁচু ভূমিতে আরোহণ করছিলাম তখন উঁচু স্বরে তাকবির ও কালিমা তাইয়্যিবা উচ্চারণ করছিলাম। (এটি দেখে) রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক বধির বা অনুপস্থিত নন। (যাকে ডাকছ) তিনি তোমাদের সাথেই আছেন’ (সুনান আত তিরমিজি)।
বাতাস আল্লাহ তায়ালার এক বড় নিয়ামত। এ বাতাস যখন পচা-দুর্গন্ধযুক্ত হয় তখন সেটি পরিবেশকে দূষিত করে তোলে। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি পেঁয়াজ, রসুন অথবা গো-রসুন খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে’ (সহিহুল বুখারি)। তামাক সেবন বা ধূমপানের দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয় বলে এটি খুবই ত্রুটিপূর্ণ কাজ। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মে মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ারূপে শবদাহসহ বিভিন্ন বিধান প্রচলিত রয়েছে। এতে গন্ধ ছড়িয়ে বায়ুমণ্ডল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্য দিকে মৃতদেহ কবরদানে এমন সম্ভাবনা নেই। মৃতদেহ কবরদানে বিলম্ব করাকে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এতে দ্রুত পচনশীল মৃতদেহ থেকে গন্ধ বা রোগজীবাণু ছড়িয়ে বায়ুমণ্ডল দূষিত হবার সুযোগ থাকে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা কাফন-দাফনে তাড়াতাড়ি করো’ (সুনান আবু দাউদ)। আমরা অনেক সময় হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢাকি না। এতে নির্গত ময়লা ও জীবাণু দ্বারা অন্যের ক্ষতি হতে পারে। ‘আবু হুরায়রা রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: যখন হাঁচি দিতেন, তখন তাঁর মুখ ঢেকে নিতেন।’ অগ্নিকাণ্ডের ফলে এমন সব পদার্থ পুড়ে বাতাসে মেশে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হানিকর। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘রাতে ঘুমানোর আগে বাতি নিভিয়ে দাও, ঘরের দরজা বন্ধ করো, পাত্র ঢেকে রাখো এবং খাদ্য ও পানপাত্রের মুখ ঢেকে রাখো’ (সহিহুল মুসলিম)।
পরিবেশ দূষণ বিশ্বজগতের জন্য একটি বিরাট হুমকিস্বরূপ। এর ফলে মানুষের অস্তিত্ব আজ চরম সঙ্কটাপন্ন। মানুষের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিবেশ যেমন দূষিত হয়, তেমনি মানুষের সদিচ্ছায় পরিবেশ রক্ষিতও হতে পারে। এ জন্য দরকার আন্তরিক ও উদার উদ্যোগ গ্রহণের। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণের।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতির সফল বাস্তবায়ন করে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। বন সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং পানির অপচয় রোধ করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ ও শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে। কল-কারখানা ও গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস রোধ করতে হবে। শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পাশাপাশি বিরল সম্পদ রক্ষার জন্য বিকল্প উপায় উদ্ভাবন এবং পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস ও সৌরশক্তি নির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি একটি পরিবেশবান্ধব আবাস ভূমি গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালা ও রাসূলের পদ্ধতি অনুসরণ করা একান্ত জরুরি।
পৃথিবী আল্লাহ তায়ালার এক অকৃত্রিম সৃষ্টি। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পৃথিবীতে অসংখ্য গাছ-গাছালি, পাহাড়-উপত্যকা,...
