মানুষের জীবন বৈচিত্র্যময় ধারায় প্রবহমান। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মিশেল আবহে পূর্ণ মানুষের হৃদয়। জীবনের বাঁকে বাঁকে রয়েছে বর্ণিল চিত্র। শৈশব- কৈশোরের দুরন্তপনা যৌবনে রূপ নেয় শান্তস্বভাবে। আবার শান্ত প্রকৃতির মানুষটিও চঞ্চল হয়ে যায় সময়ের ব্যবধানে। এই তো জীবনের সরল বাস্তবতা। খেলায় যেমন হারজিত থাকে তেমনি জীবনেও থাকে বৈচিত্র্যময় অধ্যায়। যার পাঠ গ্রহণের কোনো অন্ত নেই। নেই কোনো নির্দিষ্ট সীমা পরিসীমা। অপরিমেয় শক্তি দিয়ে মানুষকে পাঠানো হয়েছে এই ধরণীতে। সৃজনীশক্তি ও অধ্যবসায়ে মানুষ উপনীত হয় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে। ছিনিয়ে নেয় সাফল্যের মাল্য। উড়াতে থাকে বিজয় কেতন। কর্মময় সৃষ্টির দ্বারা মানুষ অপরের হৃদয়ে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে আপন মহিমায়। মহৎ কর্মগুলো ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে। অনাদিকালেও তা গ্রহণীয় বরণীয় হয়ে ওঠে। একসময় যাকে মানুষ সম্মান জানাতে কুণ্ঠিত হয় আবার কালের কপোলতলে তাকেই পুষ্পমাল্যে ভূষিত করে। এটাই বোধহয় কালের মহাকালের রহস্যময় খেলা।
মানুষের জীবন স্বপ্নময়। বলা হয়ে থাকে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। এ স্বপ্নের আকাশ তৈরি হয় তার ভাবনা-কল্পনাকে ঘিরে। আকাশের নীলিমায় উড়তে থাকে মনের স্বপ্নগুলো। সুন্দর স্বপ্ন মনোলোকের চেতনাকে জাগরিত করে। প্রাণিত করে। জীবনকে আনন্দময় করে তোলে। জীবন অনেক সুন্দর। প্রাণময়। উচ্ছ্বাসে ভরপুর। উদ্যমের অপর নাম সাহসী পদক্ষেপ। জীবনকে গতিশীলতায় ভরিয়ে তোলে সুন্দর কল্পলোকের অনুভূতি। প্রতিটি মানুষের ভেতর আরেকটি মানুষ থাকে। যা তাকে পরিচালিত করে সামনের দিকে। তাকে বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না। ছোঁয়া যায় না। অনেক সময় একজন মানুষ আমাদের সামনে থাকলেও মনে হয় যেন কাছে নেই। অন্য কোথাও। তার ভাবনাগুলো তাকে স্বপ্নের জগতে তাড়িয়ে বেড়ায়। এক নিমেষে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিচরণ করে আবার ফিরে আসে আপন ঘরে। মানুষের গতি অতি প্রবল। কোনো বিজ্ঞানের আবিষ্কার এ সীমাহীন গতির সাথে পাল্লা দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। গতিময় জীবনে মানুষের সৃষ্টিশীল কর্মগুলো স্বপ্নের উজ্জ্বল নিদর্শন বয়ে বেড়ায়। শিল্পকর্মের অমর স্মৃতি মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। প্রাণময় করে তোলে। প্রেরণা জোগায় যুগ যুগ ধরে।
জীবনের এ অন্তহীন যাত্রা শুধু নিজের তরে নয়। সাহসী মানুষেরা অপরের কল্যাণে এগিয়ে আসে। কোনো বাধার প্রাচীর তাদের গতি রোধ করতে পারে না। মানুষের স্বাধীনতা, সাম্য, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল। ইস্পাত কঠিন পাথরের মতো অনড়। কারার লৌহকপাট কিংবা মৃত্যুর হাতছানিতে ভীত নয় তাদের অন্তর। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর নেশাই তাদের প্রবল। সত্য সুন্দরের প্রেমিক কবিদের জীবনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে কলম ধরতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেননি। হাসিমুখে কারাবরণেও দ্বিধান্বিত হননি। মানুষের মুক্তিই ছিল তার লক্ষ্য। সাম্যের বাণী তিনি উচ্চকিত করেন বলিষ্ঠ কণ্ঠে। পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তরে তিনি অমর। তার এই সাহসী উচ্চারণ মানুষের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করার শক্তি সাহস জোগায়। বিদ্রোহী কবির এই প্রতিবাদ ছিল সব অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে। সত্য সুন্দরের পক্ষে। অসাম্যের সব বেড়াজাল ছিন্ন করার দৃঢ়প্রত্যয়ে কবি ছিলেন দীপ্যমান। হৃদয়ের গভীরে সুপ্ত নৈতিক মানদণ্ডে তিনি ছিলেন মহীয়ান। আজো নৈতিকতার শক্তি অপরাজেয়। সাময়িকভাবে এর ধারকরা স্তিমিত হলেও নীতির কোনো পরাজয় নেই। সত্যের মৃত্যু নেই। সত্যের চেতনা চিরন্তন, চিরঞ্জীব।
জীবনের এই চলমান গতিধারায় প্রতিটি মানুষ স্বীয় কল্পলোকে বিচরণ করে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দময় দিনগুলো মাড়িয়ে তারুণ্যে পদার্পণ। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে হৃদয়ের শিরা-উপশিরা। যৌবনের বাঁকে এসে বিশ্বজয়ের নেশায় মেতে ওঠে মানুষের অন্তর। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে স্বপ্নময় কল্পনার হাতছানি। বর্ণিল কল্পনা মনোলোকে বিশেষ জয়ের অনুভূতি জাগায়। স্বপ্নের ডানা প্রসারিত হতে থাকে একে একে। আকাশের নীলিমায় উড়তে থাকে মনের পাখিগুলো। মানুষ স্বপ্ন দেখছে চাঁদে বসবাসের স্থায়ী নিবাস গড়ার। বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে। কবি নজরুলের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হতে চলেছে আজ। সত্যিই পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতা। মানুষের জীবনযাত্রা আজ উন্নত। হাতের নাগালে ব্যবহার্য সব উপকরণ। পৃথিবীর একপ্রান্তে বসেই সারা দুনিয়ায় বিচরণ এখন মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র। শুধু কথা থেকে যায় সত্যিই আমরা মননে কর্মে কতটা উন্নত হতে পেরেছি। আজো মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় শিশুসন্তানসহ আত্মাহুতি দিচ্ছে। ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষায় অসহায় নারীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে মানুষ। অসহায় নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। সত্যিকার অর্থে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে এসব উন্নতি অর্থহীন মূল্যহীন। মানুষ নামের পরিচয়ই যেন বৃথা। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের আচরণ তো এমন হতে পারে না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে অপরের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। পাশে দাঁড়াতে হবে দুঃখী মানুষের। অনুধাবন করতে হবে নিজেদের এসব সম্পদের মূল্য কতটুকু। একজন ব্যক্তি তার জীবনে কতটুকুইবা ভোগ করতে পারে। শুধু উত্তরাধিকারীর নাম বদল হয়। ত্যাগের মহিমায় নিজেদের বিলিয়ে দিতে পারলেই জীবন সার্থক। সহায় সম্বলহীন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোতেই পৃথিবী হবে শান্তির নিবাস। জীবন হবে সুন্দর, প্রাণবন্ত, আনন্দময়।
মানুষের জীবনের প্রথম সূতিকাগার একটি পরিবার যেখানে তার জন্ম। দুঃখজনকভাবে শিশুটির বেড়ে ওঠার পরিবেশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার অনুকূল নয়। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এমন একটি পরিবেশের সাথে তার পরিচয় ঘটছে যেখানে বাবা-মা আত্মীয়স্বজন সবাই ব্যস্ত। মহাব্যস্ত তাদের নিজ নিজ কর্তব্য পালনে। শিশুটির উপযুক্ত পরিচর্যার মতো সময় কারো হাতে নেই। মূলত সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি শিশু আর বিরূপ আবহে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর আচরণগত পার্থক্য আকাশপাতাল। সুস্থ সুন্দর পরিবেশ মানুষকে পরিশীলিত উন্নত জীবনের দিকে ধাবিত করে। মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হতে উদ্বুদ্ধ করে। নৈতিকতার উন্নত পরিবেশ মানুষকে পরোপকারী হিতৈষী সহিষ্ণু করে তোলে। জীবনযুদ্ধের কঠিন মুহূর্তেও নীতির কাছে মাথানত করে না। অপর দিকে, অশান্তির কালো ছায়া মানুষের জীবনকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। মূল্যবোধের অভাবে মানুষ সামান্য আঘাতেই ভেঙে পড়ে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যায়। স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যায়ের পথে হাঁটতেও দ্বিধা করে না। আর মূল্যবোধের অবক্ষয় তো গোটা জাতিকে বিপথে নিয়ে যায়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তখন এর বিষবাষ্প থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না, থাকা সম্ভব নয়।
সুন্দর সেই সোনালি দিনগুলো আজ আর নেই। পড়ন্ত বিকেলে ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে খেলায় মেতে উঠত। মাঠে মাঠে হৈ-হুল্লোড় শোনা যেত। অগ্রজদের শাসনে অনুজরা মাথা নিচু করে সব মেনে নিত। বড়দের স্নেহ-মমতায় বেড়ে ওঠার সুযোগ আজ শুধুই স্বপ্নময় স্মৃতি। গ্রামবাংলার আবহমান কালের সেই জীবনগাথা শুধুই ছবির মতো মনে হয়। পাড়া-মহল্লা কোথাও সেই আনন্দ নেই। গ্রামগুলোতে সকালে মানুষ ছুটত বাজার অভিমুখে। আঁকাবাঁকা পথের ধারের বাড়িগুলো থেকে ভেসে আসত পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের সুমধুর সুর। ছেলেমেয়েরা কায়দা আমপারা কুরআন হাতে ভোরে ছুটত মসজিদ মক্তবের দিকে। নয়নকাড়া সেই দৃশ্য আজ আর চোখে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা গভীর রাতে ঘুমানোটা ভালোভাবেই রপ্ত করে নিয়েছি। আমাদের আদরের সন্তানদের ভোরে ঘুম থেকে জাগানোর চেয়ে দুঃসাধ্য কাজ বোধ হয় দ্বিতীয়টি আর নেই। আরলি টু বেড অ্যান্ড আরলি টু রাইজ শুধু ছড়ার পাতায়ই জ্বলজ্বল করছে।
ছেলেমেয়েরা আজ লাইনের পর লাইন কবিতা মুখস্থ বলতে পারে না। মুখস্থ করতে চায়ও না। আমি হব সকাল বেলার পাখি সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি। এই হৃদয়গ্রাহী কবিতাগুলো বিদায় নিয়েছে বইয়ের পাতা থেকে। কোমলমতি শিশুদের মন থেকেও। আর সেই স্বপ্নময় স্থানগুলো দখল করে নিয়েছে মুঠোফোন। ঘরে ঘরে স্মার্টফোনের ছড়াছড়ি। অনলাইনে পড়াশুনার নামে রাতদিন তারা লেপ্টে থাকে মোবাইলের সাথে। কাছ থেকে ডাকলেও যেন শুনতে পায় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশ মোবাইল গেমসের উর্বব ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলো নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে তাদের নাম উজ্জ্বল করছে আর আমাদের সন্তানরা গেমসে আসক্তির মাধ্যমে সুনাম বয়ে আনছে। এ দায় শুধুই তাদের দিলে চলবে না। এ নেশা আমাদের আগামীর স্বপ্নকে কোথায় দাঁড় করাচ্ছে তা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি। অথবা বর্তমান স্বপ্ন পূরণের তাড়নায় সেদিকে তাকানোর ফুরসতটুকু নেই। এভাবে চলতে থাকলে মেধাহীন একটি জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আর বেশি কাল অপেক্ষা করতে হবে না আমাদের। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমনি আমরা যে বীজ বপন করে চলেছি তার ফল ঘরে আসবে এটাই তো স্বাভাবিক।
জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে সংস্কৃতি। সত্য সুন্দরের সাথে জীবনের সম্পর্ক নিবিড়। সুস্থ সংস্কৃতি মানুষের আত্মার খোরাক, যা বিনোদনের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টিশীল মানসিকতার বীজ বপন করে। সমাজকে পরিশীলিত করে। স্বপ্নের সুন্দর আকাশকে বিস্তারিত করে। অপর দিকে, অসুন্দর সংস্কৃতি মানুষের জীবনকে বিপথে নিয়ে যায়। অসুন্দরের চাকচিক্যময় হাতছানি চারপাশের আকাশ-বাতাসকে কলুষিত করছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহারে মানুষের জীবনের সৌন্দর্য আনন্দ উচ্ছ্বাস যেন পর্যবসিত। অপসংস্কৃতির এক ঘোরের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে মানুষের। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ ও যুবসমাজ কেউ মুক্ত নয়। দিন দিন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে চলেছে। প্রতিনিয়ত অনৈতিক দুঃসবাদগুলো আমাদের অন্তরকে ব্যথিত করছে। পারিবারিক শান্তি-সমৃদ্ধির বদলে স্থান করে নিচ্ছে অশান্তির করালগ্রাস। ক্ষেত্রবিশেষে একটি সুখী পরিবার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। নৈতিকতার বিচ্যুতি মানুষের জীবনকে অগ্নিকুণ্ডের পাদদেশে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এ আগুনের তাপে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে গোটা সমাজ।
সাহিত্য মানুষের জীবনে প্রাণের সঞ্চার করে। জীবনকে আনন্দময় করে তোলে। সাহিত্যের পাতায় পাতায় অনুরণিত হয় মানুষের মনোলোকের সুপ্ত কল্পনা-অনুভূতি। পৃথিবীর সব সাহিত্যই জীবনের কথা বলে। মনের আকুতির ঝঙ্কার তোলে আপন মহিমায়। মননের চেতনাকে শানিত করে। সাহিত্য যেন প্রাণের আবেশে প্রেমের স্পর্শে প্রবহমান ঝরনাধারা। বয়ে চলে আপন গতিতে। কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে সীমায়িত নয়। ভাষাগত সব সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে। এগিয়ে চলে নব নব দিগন্তপানে। সাহিত্যের প্রাণময় আবেদন কালোত্তীর্ণ। নৈতিকতা মানবিকতার সাথে সাহিত্যের সম্পর্ক নিবিড়। সত্যের সৌন্দর্য সাহিত্যের পাতায় অলঙ্কৃত হয়। সুন্দরের নান্দনিক চিত্র মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করে। জীবনকে স্বপ্নময় করে তোলে। অনৈতিকতার বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য ঢালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে সৃষ্টিশীল মানুষেরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের সংগ্রাম অসুন্দরের বিরুদ্ধে। সত্য ন্যায়ের পক্ষে তাদের প্রচেষ্টা নিরন্তর। তারা মানুষের জীবনের ছবি আঁকেন। স্বপ্ন জাগিয়ে তোলেন মনের আঙিনায়। মানুষ খুঁজে পায় পথের ঠিকানা। সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনে এসে যায় নবীনতার ছোঁয়া। নব উদ্যমের প্রেরণা। প্রাণের পরশে জীবন ধাবিত হয় শিল্প-সৌন্দর্যের মোহনায়। বিশ্বসাহিত্যের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকরা মানুষের জীবনছবি এঁকেছেন তাদের প্রতিভা দিয়ে। সাহিত্যও হয়ে উঠেছে জীবন্ত ও মানবিক। মূল্যবোধের চিত্রকল্প মানুষের মনোলোকে উন্নত মানসিতার জন্ম দেয়। এ অনুভূতির গভীরতা মনোলোকের স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলে। এগিয়ে নিয়ে যায় সামনের দিকে। আগামীর পথে।