প্রাক-ইসলামী যুগে ইতিহাস চর্চা : ইসলামের আবির্ভাবের পর আল কুরআনে বর্ণিত বিগত জাতির ঘটনাবলি ইতিহাসের উপকরণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিদের প্রভূত অনুপ্রেরণা দান করেছে। মানব জাতির হিদায়াত ও প্রশিক্ষণ দানের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ অতীতের বিভিন্ন জাতির উত্থান-পতন, সত্যের বিজয়, মিথ্যার পরাজয় ও পরিণতি এবং পৃথিবীর ধ্বংসলীলা তথা কিয়ামতের সংবাদ দানসহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ সংবলিত আল কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। এতে মানব জাতিকে সৃষ্টি সম্পর্কে গভীর চিন্তাভাবনা করে সত্য উদঘাটনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। স্রষ্টার প্রাত আনুগত্যের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল কুরআনে মহানবী সা:কে ‘সর্বোত্তম আদর্শ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে রাসূল সা:-এর কার্যাবলির পঠন-পাঠন অপরিহার্য। ফলে কুরআনের বিশদ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাধারণভাবেই ইতিহাস আলোচনা করতে হয়েছে। আল কুরআনের তাফসির ও মহানবী সা:-এর হাদিসের পঠন-পাঠন থেকে মুসলমানদের ইতিহাস চর্চার সূচনা হয়। খলিফা আবু বকর রা: (৬৩২-৬৩৪ খ্রি:)-এর শাসনামলে আল-কুরআন পুস্তকাকারে সংরক্ষিত হলে হাদিস ও ইতিহাস লেখার পথ সুগম হয়। কিন্তু ইতঃপূর্বে আরবদের আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক ছিল বংশানুক্রমিক মুখস্থ বিদ্যা। ফলে কোনো কিছু লিখে রাখার প্রতি তাদের বিরাট অনীহা ছিল। (ইতিহাস, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ পত্রিকা, দ্বিতীয় সংখ্যা, ১৩৭৪ বাংলা, পৃষ্ঠা : ২৮) খলিফা উমর ফারুক রা: কর্তৃক প্রবর্তিত ‘হিজরি সন’ ইতিহাস রচনার ক্ষেত্র সহজ করে তুলেছিল। পরে হিজরি সন উল্লেখ করে তারিখভিত্তিক ইতিহাস রচিত হয়েছে। খলিফা উমর রা: ‘দিওয়ান’ বা ভাতাভোগী তালিকা প্রতিষ্ঠা করে গৌরবের ভিত্তিতে মুসলিম যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের রেজিস্ট্রি প্রস্তুত করেন। এই তালিকার ওপর মুসলমানদের প্রাধান্য ও ভাতা নির্ধারণ নির্ভর করত। কালক্রমে রেজিস্ট্রির কার্যক্রম ও পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে দিওয়ানের গুরুত্ব বেড়ে যায় এবং তা ব্যাপ্তি লাভ করে। ক্রমান্বয়ে রেজিস্ট্রি স্মৃতিশক্তির স্থান দখল করে নেয়। ইসলামের বিস্ময়কর বিজয়ের পর মুসলিমগণ বিজিত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সাথে পরিচিত হয়ে যেসব আচার-আচরণ, কৌশল ও জীবনধারা সম্পর্কে অভিজ্ঞান লাভ করেন তা মুসলিম ইতিহাসর্চ্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করে। মহানবী সা:-এর ইন্তেকালের পর ইসলামী শরিয়তের বিধিবিধান সঙ্কলন এবং জনজীবনে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাদিস চর্চার অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফলে মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা প্রভৃতি স্থানে হাদিসশিক্ষা ও ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশের কেন্দ্র গড়ে ওঠে। হাদিস বর্ণনাকারীদের বিশ^স্ততা পরীক্ষা করতে গিয়ে ইসনাদ তথা বর্ণনা পরস্পর পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। ইসনাদ পদ্ধতিতে মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীর সত্যনিষ্ঠা, চারিত্রিক বিশুদ্ধতা, নির্ভরশীলতা এবং পরিবেশিত তথ্যের সত্যতা নিরূপণের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। এর ফলে ইতিহাস চর্চার প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলমানদের মধ্যে ‘আসমাউর রিজাল’ বা জীবনীকোষ রচনার সূত্রপাত হয়। (সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ^কোষ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৫১২)
ইসলামের প্রথম দিকে আরবদের ইতিহাস চর্চার দু’টি উৎস ছিল। প্রথমত. ইসলামী উৎস তথা হাদিস থেকে গৃহীত উৎস এবং দ্বিতীয়ত. গোত্রীয় বা আল-আইয়্যামের উৎস। মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মক্কা-মদিনায় ইসলামী উৎস প্রাধান্য লাভ করে এবং কুফা-বসরায় গোত্রীয় উৎস প্রাধান্য লাভ করে। এসব শহরে ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র গড়ে ওঠে এবং দু’টি বিপরীতমুখী কেন্দ্রের মধ্যে ভাববিনিময় হতে থাকে। পরে ইতিহাস লিখন ও পঠন-পাঠনে হাদিসের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসলামী ধারার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আরবদের ইতিহাস চর্চার ক্রমবিকাশ ত্বরান্বিত হওয়ার পেছনে চীনাদের কাগজ আবিষ্কার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ৭৫১ খ্রিষ্টাব্দে আরবরা চীনাদের কাছ হতে কাগজ তৈরির অভিজ্ঞান লাভ করার আগে প্যাপিরাস, পশুর চামড়া, মৃন্ময়পত্র, উটের কাঁধের চওড়া হাড়, পাথর এবং কাঠ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কাগজ প্রচলনের সাথে সাথে আরবদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে নব যুগের সূচনা হয় এবং ইতিহাসের উপাত্ত উপকরণ লিখে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।(আরব জাতির ইতিহাস চর্চা, পৃ: ৭ বাংলা একাডেমি ১৯৮২ খ্রি.) মহানবী সা: এবং তার সাহাবিগণের সামরিক অভিযান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন আসরে আরবদের ন্যায় সে সবরের বীরত্বগাঁথা অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে আলোচিত হতো। মুহাদ্দিসগণ প্রভূত গুরুত্ব আরোপ করে হাদিস পঠন-পাঠনের মাধ্যমে রাসূল সা:-এর সামরিক অভিযানগুলোর ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছিলেন। এসব অভিযানের বর্ণনা ও সংরক্ষণ পরবর্তীকালে মাগাজি ইতিহাস চর্চার সূচনা করেছিল। মহানবী সা:-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মুসলমানগণ গৌরব অর্জনের উদ্দেশ্যে নবী জীবনের প্রত্যেকটি তথ্য সঙ্কলন ও সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় প্রবৃত্ত হন। প্রথম হিজরির মধ্যভাগ থেকে উরওয়া ইবনে জুবাইর (মৃত্যু: ৯৪হি./৭১২ খ্রি:) এবং আল-জুহরির (মৃত্যু: ১২৪হি./৭৪১ খ্রি.) প্রচেষ্টায় রাসূল চরিত বা সিরাহ ও মাগাজির লিখন ও সংরক্ষণ শুরু হয়েছিল বলে অনুমিত হয়। আরবিতে ইতিহাস লিখার সূচনা কখন থেকে শুরু হয়েছিল এ বিতর্ক এখনো মীমাংসিত হয়নি। খোলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবাদের আমলে বিভিন্ন স্থানে হাদিস শিক্ষার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু স্মরণশক্তি ও মুখস্থ বিদ্যার ওপরের সাফল্য নির্ভর করত। মহানবী সা:-এর আদেশ, উপদেশ, প্রশাসনিক ফরমান, চুক্তিপত্র ও প্রদত্ত বিধানাবলি, রাজা-বাদশাদের কাছে প্রেরিত পত্রগুলো প্রভৃতি লিপিবদ্ধভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল। ক্রমেই এই লিখিত সম্ভারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং উমাইয়া খেলাফতের (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) প্রথম দিকে এগুলো পুস্তকাকারে সংরক্ষিত হয়। এ সময় অর্থাৎ সাহাবি মুয়াবিয়া রা: (৯৬৬১-৬৮০ খ্রি:) এর আমল থেকে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি গ্রন্থ আকারে লিপিবদ্ধ হতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা মৌখিকভাবে ইতিহাস বর্ণনা করতেনÑ তাদের আখবারি বা কাহিনীকারক বলা হতো। প্রথম আখবারি ঐতিহাসিকদের মধ্যে উবাইদ ইবনে শারইয়াহ এবং ওয়াহ্হাব ইবনে মুনাব্বিহ-এর নাম উল্লেখযোগ্য। (আল-ওয়াকিদি, কিতাব আল-মাগাজি প্রথম খণ্ড, পৃ : ২১, লন্ডন, ১৯৬৬)
ইসলামী যুগে প্রথম লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ : উমাইয়া খলিফা সাহাবি মুয়াবিয়া রা: (৬৬১-৬৮০খ্রি.) আমলে সানআ নামক স্থানের অধিবাসী উবাইদ ইবনে শারইয়াহ আল-জুরহামি কর্তৃক পরিবেশিত তথ্যাবলি গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক উবাইদ আরব ও পারস্যের অনেক যুদ্ধ স্বচক্ষে দেখেছেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকদের থেকে বহু পুরনো কাহিনী শুনেছেন। আমির মুয়াবিয়া রা: তাকে ইয়ামেন থেকে রাজধানী দামেশকে নিয়ে আসেন। তার কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিজ্ঞ লেখকদের সাহায্যে তা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করান। গল্পকার ও ঐতিহাসিক উবাইদের গ্রন্থের নাম ‘কিতাব আল-মুলুক ওয়া আখবার আল-মাজিন’ বা ‘আল-মুলুক ওয়া আখবার আল-মাজিন’। সম্ভবত এটি ছিল সর্বপ্রথম লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ। পরে তার আরেকটি গ্রন্থ ‘কিতাব আল-আমসাল’ প্রকাশিত হয়। (সিরাতে ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃ : ৫, মিসর ১৩৭৫ হি:) মুহাদ্দিস ও ফকিহ উরওয়া ইবনে জুবায়ের রহ: (২৩-৯৪হি./৭১২ খ্রি:) সর্বপ্রথম মাগাজি গ্রন্থ রচনা করেন। তাকে মাগাজি ইতিহাসের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি খলিফা আবুবকর সিদ্দিক রা:-এর কন্যা আসমা রা:-এর পুত্র ছিলেন। তিনি অধিকাংশ তথ্য-উপাত্ত স্বীয় খালা হজরত আয়েশা রা: থেকে সংগ্রহ করেন। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক (৬৮৫-৭০৫খ্রি:) মহানবী সা:-এর জীবন চরিত্রবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরামর্শ দিলে তিনি ‘মাগাজি’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন। মহানবী সা:-এর সামরিক অভিযানগুলো এবং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গ্রন্থটিতে আলোচিত হয়েছে। মাগাজি সংক্রান্ত তার মনোনীত ঘটনাগুলো পরবর্তী ঐতিহাসিকদের বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছে। উরওয়া ইবনে জুবায়ের রহ: লিখিত ‘মাগাজি’ নামক গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইসনাদ প্রয়োগ করেছেন। ঘটনার শুদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি আল-কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি কবিতা উপস্থাপন করেছেন। তিনি নবুওয়াত ও খোলাফায়ে রাশিদুনের যুগের ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে পরিবেশন করেছেন। ইবনে ইসহাক, আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারি তার মাগাজি বিষয়বস্তু থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন।(আল-তারিখ, আব্দুল আজিজ আল-দুরি, পৃষ্ঠা : ২১ বৈরত ১৯৬০খ্রি:)
মুসলিম ইতিহাসচর্চার গোড়ার দিকে মহানবী সা:-এর সিরাহ ও মাগাজি লেখকদের মধ্যে আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান রা: (২০-১০০হি./৭১৮খ্রি.) ছিলেন অন্যতম। মুহাদ্দিস আবান ইবনে উসমান হাদিস ও মাগাজি চর্চার মধ্যে সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরে তার ছাত্রগণ কর্তৃক মাগাজি রচিত হলেও তা হাদিস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি মাগাজি বিষয়ে বেশির ভাগ তথ্য হজরত আয়েশা রা: থেকে সংগ্রহ করেন। আবান কর্তৃক লিখিত ‘মাগাজি আল-রাসুল’ একটি নির্ভরযোগ্য মাগাজি গ্রন্থ। ঐতিহাসিক ইয়াকুবি (মৃত: ২৮৪হি./৮৯৮খ্রি.) তার গ্রন্থ থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন। (আরব জাতির ইতিহাস চর্চা, পৃ : ৯) ইরানি বংশোদ্ভূত ইয়ামেনে বসবাসকারী ওয়াহ্হাব ইবনে মুনাব্বিহ (৩৪-১০০হি.) একজন উপাখ্যান, কথন ও কাহিনীকার ছিলেন। মদিনার বিদ্যালয় থেকে যৎসামান্য শিক্ষা লাভ করার আগেও তিনি হিব্রু, খ্রিষ্টান ও ইসলামী অভিজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ‘মাগাজি’ ও ‘আল-মুবতাদা’ নামক দু’টি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন। তার গ্রন্থে ইসনাদ বর্ণনায় নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি অনুসৃত হয়নি। তিনি ইসরাইলিদের বর্ণনা ও প্রাচীন যুগের উপাখ্যান, কাহিনী ও জনশ্রুতি স্বীয় গ্রন্থে সন্নিবেসিত করেছেন। ঐতিহাসিক ইবনে খাল্লিকানসহ সমালোচকরা তাকে দোষারূপ করত তার পরিবেশিত তথ্য প্রত্যাখ্যাত বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলেছেনÑ ওয়াহ্হাব ইবনে মুনাব্বিহ সৃষ্টির ইতিহাস হতে শুরু করে প্রাচীন ইতিহাস ও নবী-রাসূলগণের ইতিহাস আলোচনা করে বিশ^ ইতিহাস রচনার প্রথম উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তার প্রচেষ্টা ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশাম কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে।’৪৫ পরবর্তীকালে আবদুল্লাহ ইবনে আবু ইবনে হাজম (১৩০হি./৭৪৭ খ্রি.) আসিম ইবনে কাতাদা আল-আনসারি (১২০হি./৭৩৮খ্রি.) ও মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আলÑজুহরি (১২৪হি./৭৪১খ্রি. মাগাজি চর্চায় গতি সঞ্চার করেছিলেন। আর ইবনে ইসহাক ও আল-ওয়াকিদি সিরাহ রচনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করেছিলেন। (আল-দুরি, প্রগুক্ত,পৃষ্ঠা : ২৬; আরব জাতির ইতিহাস চর্চা, পৃ : ১৬) হ