তাঁর নিত্যদিনের কাজগুলোর একটি ছিল হ্যারিকেনের চিমনি মুছে ফিতা ঘষে তাতে তেল ভরে আসন্ন সন্ধ্যার জন্য ঠিকঠাক করে রাখা। তাঁর পবিত্রতার সাথে এই বিশ্রী কাজটিকে আমি কিছুতেই মেলাতে পারতাম না। কেরোসিনের গন্ধ আমার পছন্দ ছিলো না একদম। একদিন সেটা তাঁকে বলতেই তিনি হেসে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, বাবা কাউকে না কাউকে তো বাতি জ্বালাতেই হবে, হাতে তুলে নিতে হবে অন্ধকার তাড়ানোর কাজ। আমার মা একান্তে বাতি জ্বালানোর কাজটাই হাতে তুলে নিয়েছিলেন, বোধহয় সব মায়েরাই এমনটি করেন। আজ মা নেই, হ্যারিকেনের জায়গায় এসেছে বিজলী। বাতি জ্বলে, ঝরঝর আলো এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘরে বারান্দায় উঠোনে। শুধু দূরের ঝোঁপে কয়েকটা জোনাকি ভিজে চোখে তাকিয়ে থাকে আরো দূরে গভীর অন্ধকারের দিকে। ওদের নিভু নিভু ঘুম-আলোয় কেমন মায়াবী তাঁর চিরনিদ্রাঘর। নক্ষত্র ছড়ানো রাতে মায়েরা বুঝি টিমটিম হ্যারিকেন হয়, জেগে থাকে সকল শিথানে যেন অপরিহার্য বাতিঘর।