দিপু বারান্দায় বসে কি জানি লেখালেখি করছে। সেই সঙ্গে মজার ছলে হাতও নাড়াচ্ছে আর মুখ বিড়বিড় করছে। ব্যাপারটা কী? হয়তো মজার কিছু ঘটছে। লালু যাচ্ছিলো ওদের বাড়ির পাশ দিয়ে। দিপুর এ অবস্থা দেখে লালু দৌড়ে এসে বসলো ওর পাশে আর বললো,
Ñদিপু ভাই কী করছো? কালই তো পরীক্ষা শেষ হলো, আজ আবার কী পড়ো।
দিপু বললো,
Ñতুই চুপ যা। ভেরি ইমপোর্টেন্ট কাজ চলছে। এখন বিরক্ত করিস না। চুপচাপ বসে থাক, একদম নো টক।
একটা জরুরি কথা ছিলো, তুমি যেহেতু বলছো নো টক তাহলে আমি নো টক। তবে একটা কথা, তুমি তো এমন ছিলে না! হঠাৎ এমন হলে কী করে?
লালুর কথা শোনে দিপু একটু লালুর দিকে তাকালো এবং তার কয়েক সেকেন্ড পরেই চোখ নামিয়ে নিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। লালু মুখে কোলে পেটে এতক্ষণ বসে ছিলো। পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে হঠাৎ দিপুর মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো আর বললো, -কিরে আছিস! দেখ কী লিখছি, শোনবি নাকি? যাকে বলে একদম গরমাগরম ছড়া।
লালু বললো,- ওহ তুমি ছড়া লিখছিলে, আচ্ছা শোনাও দেখি তোমার গরমাগরম ছড়া।
দিপু বললো,- আচ্ছা তাহলে শোন। এই বলেই দিপু তার ছড়া পাঠ করতে শুরু করলো।
শেষ হলো ভাই পরীক্ষা’রে
শেষ হলো’রে জ্বালা,
রেজাল্ট’টা কি আসবে এবার
হয়ে গলার মালা?
নাকি হবে আলুর মতোই
গোল আলুতে ভরা,
ইচ্ছে মতো আব্বা মায়ের
খাবো নাকি থরা!
ছড়া পাঠ শেষ করেই দিপু হেসে বলে উঠলো, কেমন লাগলো?
লালু বললো,
Ñ দারুণ হয়েছে। তবে তোমার তো গোল্লা খাওয়ার কথা না।
Ñ আচ্ছা বাদ দে, এখন তোর জরুরি কথাটা ঝটপট বলে ফেল। আর কি জানি বললি তখন, আমি নাকি আগের মতো নাই। এর মানে কী?
Ñ হ্যাঁ আগের মতো তো নেই তুমি। এখন কথার মধ্যে ইংরেজি ঢুকিয়ে দেও। তুমিই তো বলতে এসব করা ঠিক না। ইংরেজি বললে সম্পূর্ণ ইংরেজি আর বাংলা বললে একদম খাঁটি বাংলা।
Ñ আর বলিস না, আমার শ্রেণিতে শহর থেকে একটা বন্ধু এসেছে। খুব ভালো ছাত্র নাকি। আমাদের সবাইকে নাকি টেক্কা দিয়ে যাবে এ পরীক্ষায়। তার সাথে ক'দিন মেশার ফল এটা। আর হবে না, দুঃখিত।
Ñ আচ্ছা দিপু ভাই, তুমি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কতটুকু জানো?
Ñ হ্যাঁ জানি তো, বেশ ভালোই জানি। কিন্তু কেন?
Ñ আমাদের পাড়ায় বিজয় দিবস উদযাপন হবে এটা জানো না তুমি?
Ñ বলিস কি, সত্যি নাকি? আমি তো কিছুই জানি না। রহিত, রাসেল, মুন্না ওরা কেউ কিছু বললো না তো।
Ñ ওরাও হয়তো জানে না। কিছুক্ষণ আগেই তো বাংলা ক্লাবের সভাপতি মনসুর ভাই ঘোষণা দিলো এবার বিজয় দিবস উদযাপন হবে।
Ñ যাই বলিস লালু, এবার ক্লাবের সভাপতি মনসুর ভাই একটা কাজের কাজ করছে। খুব মজা হবে। তবে আমাদের কিছু একটা করা উচিত তাই না?
Ñ হ্যাঁ, সেইটা আমিও বলতে চাচ্ছি। তবে করবেটা কী?
Ñ রহিত, রাসেল, মুন্নাদের তো খবর দেয়া উচিত। ওদের নিয়ে আলোচনা করা দরকার, কী বলিস? আমার মাথায় একটা বুদ্ধি ঘুরপাক খাচ্ছে।
Ñ অবশ্যই দিপু ভাই। এখনই চলো, সময়ই তো নেই। কালই তো ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।
Ñ হুম, চল্ তাহলে ওদের খুঁজে বের করি, চল্।
দিপু বারান্দায় বসে কি জানি লেখালেখি করছে। সেই সঙ্গে মজার ছলে হাতও নাড়াচ্ছে আর মুখ বিড়বিড় করছে। ব্যাপারটা কী? হয়তো মজার কিছু ঘটছে। লালু যাচ্ছিলো...
