আয়মান তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র, সে ক্লাসের ফার্স্ট বয়। তার আদব-কায়দা এবং কথা বলার স্টাইল অনেকের চেয়ে উত্তম। এই জন্য স্কুলের সবাই আয়মানকে অনেক স্নেহ ও ভালোবাসে। আয়মানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু শাওন, তাসিন, জহির তারা তিনজন। এই জন্য সে তাদের সাথে মেলামেশা করতে পছন্দ করে। তারা সবসময় স্যারদের পড়া শিখে আসে, তাই সব স্যার তাদের নামে প্রশংসা করে। ওদের প্রশংসার কথা শুনে আবির রেগেমেগে লাল হয়ে নিজের সিটে চুপটি করে বসে বসে কি জানি বিড়বিড় করে ভাবছে।
ছুটির ঘণ্টা দেয়া মাত্র সবাই তড়িঘড়ি করে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে গেলো। দফতরি ক্লাস রুমে তালা দিতে এসে দেখল আবির ক্লাসে বসে আছে। ‘দফতরি, সজিব সাহেব আবিরকে বলল,’ আরে আবির তুমি এখনো ক্লাস রুমে বসে আছো? তোমার সব বন্ধু তো বাসায় চলে যাচ্ছে! তুমিও যাও না? তা-না হলে তোমার বাবা-মা তোমার জন্য চিন্তা করবে। আবির কেঁদে কেঁদে বলে আঙ্কেল, আমাকে কেউ ভালোবাসে না কেন? সজিব সাহেব বলল, ‘আবির হঠাৎ এমন কথা বলছো কেন বাবা?’ তোমাকে তো সবাই স্নেহ ও ভালোবাসে। তোমার বাবা-মা, আমি তোমার শিক্ষক আমরা সবাই তোমাকে স্নেহ ও ভালোবাসি।
আবির বলল, ‘আঙ্কেল আব্বু-আম্মু আর আপনি ছাড়া আমাকে কেউ স্নেহ ও ভালোবাসে না। সজিব সাহেব বলল, ‘তোমার এমনটা মনে হচ্ছে কেন?’ আবির বলল, ‘আঙ্কেল, আয়মান, শাওন, তাসিন, জহির ভালো ছাত্র বলে আমার সাথে মিলামিশা করে না এবং স্যারেরা শুধু ওদের স্নেহ করে আর প্রশংসা করে! সজিব সাহেব বলল, ‘বোকা ছেলে এটা ব্যাপার না, শুনো তুমি যদি মনোযোগ দিয়ে রেগুলার ক্লাসের পড়া শিখে আসো। তাহলে একদিন তুমিও ওদের মতো ভালো ছাত্র হয়ে উঠবে।’
আরেকটা কথা শুনো বাবা, ‘কখনো কারো প্রশংসা সরাসরি করতে নেই। করলে চিত্তে অহঙ্কারের বিস্তার লাভ করে। এক সময় দেখা যাবে সে তার অহঙ্কারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ঝরে যায়। তাই কখনো অন্যের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে উৎফুল্ল হওয়া উচিত নয়। এখন তুমি প্রতিজ্ঞা করো নিয়মিত ক্লাসের পড়া শিখে আসবে। তাহলে তুমি সবার চোখের মধ্যমণি হয়ে উঠতে পারবে। দফতরির মুখে এসব কথা শুনে আবির একটু বল পেলো। সে বলল, ‘আঙ্কেল আজ থেকে আমি প্রতিদিনের পড়া প্রতিটি শেষ করব। এখন থেকে আর ফাঁকি দেবো না।’
এই বলে দফতরি থেকে বিদায় নিয়ে আবির বাড়িতে চলে আসল। সন্ধ্যায় আবিরকে তার বাবা-মা, বলার আগেই সে পড়ার টেবিল গিয়ে নিজের পড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তা, দেখে তাঁর বাবা-মা দু’জন অনেক খুশি হয়েছে। এখন থেকে আবির প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শিখে স্কুলে যায়। আবিরের এমন পরিবর্তন দেখে স্যারেরা তার প্রতি অনেক খুশি হয়েছে। এখন স্যারেরা আবিরকেও আয়মান, শাওন, তাসিন, জহিরের মতো আদর স্নেহ করে। এখন আয়মান, শাওন, তাসিন, জহির তারাও আবিরের সাথে মেলামেশা এবং খেলা করে।
দেখতে দেখতে আবিরদের বার্ষিক পরীক্ষা চলে আসল। এক এক করে পরীক্ষাগুলোও শেষ হয়ে গেলো। পনেরো দিন পরে বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হলো। এক পর্যায়ে আবিরের রেজাল্ট দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে গেল। কারণ আবির ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৫৮৫ পেয়ে ক্লাসের ফার্স্ট বয় হয়ে গেলো। স্যারের ঘোষণা শুনে আবির নিজের কানকেও বিশ্বাস করাতে পারল না।
দফতরি, আবিরের কাঁধে হাত দিয়ে বলে সাবাস। তুমি পেরেছো, তোমার জন্য আরো ভালো কিছু সামনে অপেক্ষা করছে। আবির তাকে সালাম করে বলে, আঙ্কেল আমার এই অর্জনের পিছনে আপনার অবদান। সে বলে, ‘ফোকাস যদি ঠিক থাকে তাহলে কেউ তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করাতে পারবে না, এটা মনে রেখো। তোমার ফোকাস ঠিক ছিল বলেই তুমি সব বাধা ডিঙিয়ে বিজয়ের চূড়ায় পৌঁছাতে পেরেছো।
আয়মান তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র, সে ক্লাসের ফার্স্ট বয়। তার আদব-কায়দা এবং কথা বলার স্টাইল অনেকের চেয়ে উত্তম। এই জন্য স্কুলের সবাই আয়মানকে অনেক স্নেহ ও...
