নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকা প্রচুর ব্যবহার হয়। নৌকা চালায় মাঝি। নৌকার বিভিন্ন অংশ খোল, পাটা, ছই বা ছাউনি, হাল, দাঁড়, পাল, পালের দড়ি, মাস্তুল, নোঙর, খুঁটি দুড়, গলুই, বৈঠা, লগি ও গুণ। দেশে বিভিন্ন ধরনের নৌকার প্রচলন রয়েছে- ছিপ, বজরা, ময়ূরপক্সক্ষী, গয়না, পানসি, কোষা, ডিঙ্গি, পাতাম, বাচারি, রফতানি, ঘাসি, সাম্পান, বালার, পাতনাই বা পদি, ভেলা ও কলার ভেলা। নৌকা প্রধানত কাঠ দিয়ে তৈরি। ছই বা ছাউনি, লগি বাঁশ দিয়ে তৈরি। পাল তৈরি হয় শক্ত কাপড় জোড়া দিয়ে। খোলকে জলনিরোধ করার জন্য আলকাতরা ব্যবহার করা হয়। বৈঠা তৈরি হয় কাঠ বাঁশ উভয়ই দিয়ে।
নৌকা পৃথিবীর অনেক দেশে ক্রীড়া ও নানা আয়োজনে ব্যবহৃত হয়। নৌকা বাইচ এখনো একটি জনপ্রিয় খেলা। বাইচের নৌকা লম্বায় ১৫০-২০০ ফিট পর্যন্ত হয়। এতে ২৫-১০০ জন পর্যন্ত মাঝি থাকতে পারে। বিভিন্ন ধরনের নৌকার মধ্যে সাম্পান বেশ পরিচিত। লোকগীতি ও সাহিত্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে বেড়ায় সাম্পান। এক সময় ধনী লোকদের শখের নৌকা ছিল বজরা। এতে খাবারদাবারসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই থাকত। গয়না নৌকা কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে বেশি দেখা যেত। মূলত যাত্রী পারাপারের নৌকা ছিল এটি। একসাথে ২৫-৩০ জন যাত্রী বহন করার ক্ষমতা ছিল। রাজ-রাজাদের সৌখিন নৌকা ছিল ময়ূরপক্সক্ষী। এটি চালাতে প্রয়োজন হতো চারজন মাঝির। সবচেয়ে পরিচিত নৌকা হলো ডিঙ্গি। নদীর তীরে বসবাসকারী সবাই নৌকাটি ব্যবহার করেন। আকারে ছোট। একজন মাঝিই যথেষ্ট। মাঝে মধ্যে এতে পাল ও লাগানো হয়।
বিশ শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে নৌকায় মোটর লাগানো হয়। ফলে নৌকা একটি যান্ত্রিক নৌযানে পরিণত হয়, যা শ্যালো নৌকা নামে পরিচিত। পানি সেচে ব্যবহৃত হয় শ্যালো-পাম্পের মোটর। স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব নৌকা চালানোর ব্যবস্থা করা হয়।