প্রিয় ভাষা
জাহিদ আজিম

যে ভাষাতে ছোট্ট সোনা মা ডাকে মিষ্টি করে
যে ভাষাতে স্বপ্ন আঁকে অবুঝ শিশু দুচোখ ভরে।
সেই ভাষাতে রোজই খায় বকুনি আর আদর কতো
মনের মাঝে সবই যেন লাগে অনেক মধুর মতো।

সেই ভাষাতেই বন্ধু খুঁজি, সকল খেলার সাথী
প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে মধুর কথায় মাতি।
পাঠশালাতে রোজই যাই ‘অ’ ‘আ’ বই হাতে
সেই ভাষাতেই রঙ মিশিয়ে স্বপ্ন ছড়াই পথে।

সবুজ মাঠে কৃষাণ-কণ্ঠ মন মাতানো গানে
নদীর বুকে মাঝি ছোটে ভাটিয়ালির টানে।
চাঁদনি রাতে গল্প-আসর, জ্বলে জোনাক পোকা
এই ভাষাতেই চারদিকেতে শতো ছবি আঁকা।

এই ভাষাতেই বিভোর হয়ে সকল থাকি ভুলে
ভাইয়ের দেওয়া মায়ের রত্ন বুকে রাখি তুলে।
এই ভাষাতেই ভুবন-বুকে ছড়াই ভালোবাসা
বিশ্ব মাঝে শ্রেষ্ঠ আমার প্রিয় বাংলা ভাষা।

 

 

সবার মাথার তাজ
শরিফ আহমাদ

রাতের শেষে ভোর হয়েছে
আলোকিত দোর হয়েছে
ফুল ফুটেছে ওই,
পাখ-পাখালি আনন্দে হইচই।

শহীদ মিনার ছেয়ে আছে
হলুদ গাঁদা ফুলে
আজ ছুটে যায় ছেলে-মেয়ে
ইশকুলে- ইশকুলে।

বাংলা ভাষার গান শোনা যায়
ভাটিয়ালি টান শোনা যায়
ভালো লাগে খুব
চারপাশে হয় ঝলমলানো রূপ।

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
ভাষা দিবস আজ
রফিক সালাম বরকতেরা
সবার মাথার তাজ।

 

 

বসন্ত এসেছে
নিলুফার জাহান

গাছে গাছে নতুন পাতা
বাগান ভরা ফুলে
কোকিল ডাকে কুহু কুহু
সুখে হৃদয় দুলে।

হিম কুয়াশা গেছে চলে
ঝরা পাতা নিয়ে
নতুনরূপে সাজে ধরা
রঙ ছড়িয়ে দিয়ে।

কৃষ্ণ চূড়ার লালচে আভায়
সুখের ছোঁয়া লাগে
ফাগুন হাওয়া বইছে জোরে
পলাশ শিমুল বাগে।

ফুল কুঁড়িরা উঠছে হেসে
দোলা লাগে প্রাণে
মৌমাছি যায় মধুর খোঁজে
খুশি ফুলের ঘ্রাণে।

সবুজ ঘাসে প্রাণের ছোঁয়া
জাগে ঘুমের থেকে
আম্র মুকুল গাছের ডালে
খুশি আনে ডেকে।

 


বসন্তকাল
আরিফুল ইসলাম সাকিব

ফিরে এলো বসন্তকাল
ফুল-ফসলের ঘ্রাণে,
পাকপাখালির মধুর গানে
সুখের পরশ প্রাণে।

রোজ বিহানে ফুলের বাগে
মৌমাছিদের মেলা,
ফুলপোশাকে প্রজাপতি
নিত্য করে খেলা।

ভোরের শিশির মুক্তো সাজে
ঘাসের ডগায় পড়ে,
তৃণলতা পুবাল হাওয়ায়
মৃদুমন্দ নড়ে।

পাকা ধানের ছড়া দেখে
চাষির মনে হাসি,
ফুল-ফসলের হেমন্তকাল
ভীষণ ভালোবাসি।