অনেকদিন আগে রাসেল তার মায়ের সাথে একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতো। তারা ছিল খুব গরীব। তাদের ঘরটি ছিল খড়ের তৈরি। এমনও অনেক দিন যেতো, তাদের না খেয়ে ঘুমোতে হতো। একদিন রাসেল মাঠে খেলতে গিয়ে পাশের ময়লার স্তুপে একটি জ্যাকেট পেলো। সে সেটা নিয়ে বাড়ি গেলো সে।
রাসেল বললো, মা আমি ময়লার স্তুপ থেকে এ জ্যাকেটটি পেয়েছি।
মা বললো, ঠিক আছে তুই এটা রেখেদে। পরেরদিন, রাসেল খুশি মনে জ্যাকেটটি পরে তার বন্ধুদের সাথে খেলতে গেলো। খেলতে খেলতে তাদের বলটি একটু দূরে গিয়ে পড়লো। রাসেল বলটি খুঁজে আনতে গেলো কিন্তু পেলো না। নিরাশ হয়ে জ্যাকেটের পকেটে হাত দিয়ে বললো, যদি বলটা এখন আমার হাতে থাকতো তাহলে বন্ধুরা খুশি হতো। বলার সাথে সাথে তার মনে হলো, পকেটে কিছু একটা আছে। পকেট থেকে হাত বের করে দেখলো, তার হাতে বল। সে তো অবাক!
রাসেল ভাবলো, বল কোথা থেকে আসলো? নিশ্চয়ই এটা জাদুর জ্যাকেট! এই জ্যাকেটের কাছে যা কিছু চাইব তা নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। বলটি বন্ধুদের দিয়ে বাসায় গেলো। সে মাকে সব খুলে বললো সে।
মা বললো, তুই এ জ্যাকেট তখনই ব্যবহার করবি, যখন তোর এটার খুব প্রয়োজন হবে।
রাসেল বললো, ঠিক আছে মা। তুমি যেটা বলবে আমি সেটাই করবো। এভাবেই দিন কাটতে লাগলো।
কিছুদিন পর এক বন্ধুর জন্মদিনে রাসেল ভাবলো, জ্যাকেট থেকে টাকা নিয়ে তাকে কিছু উপহার দেবে। যখনই সে জাকেটের নিকট কিছু টাকা চাইলো তাৎক্ষণিক জ্যাকেট থেকে শব্দ আসলো, তুমি প্রয়োজনে আমাকে ব্যবহার করতে পারো কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া যদি ব্যবহার করো, তাহলে ভালো হবে না। রাসেল ভয় পেয়ে বললো, আমার লাগবে না টাকা। আমি প্রয়োজন ছাড়া কক্ষনো তোমাকে ব্যবহার করবো না। এই বলে, সে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
পরদিন তার বন্ধু বললো, কিরে আমাকে জন্মদিনে কি দিবি? রাসেল বললো, বন্ধু এবার কিছু দিতে পারবো না। বাসায় এমনিতেই টাকার সমস্যা আছে। বন্ধু বলল, ঠিক আছে তোর কিছু দিতে হবে না। তুই কোনো উপহার ছাড়াই আমার জন্মদিনে আসবি।
এরপর দিন গেলো, মাস গেলো, বছর গেলো, রাসেল এখন বড় হয়ে গেছে। তার কাছে তখনো জ্যাকেটটি ছিলো। একদিন সে ভাবলো, একবার জ্যাকেটটিকে পরীক্ষা করে দেখি। সে জ্যাকেটের কাছে কিছু সোনা চাইলো। চাইতেই তার দুই হাতে সোনা এসে গেলো। কিন্তু রাসেলের কোনো ক্ষতি হলো না। সে তার মাকে গিয়ে বললো, মা আমি জ্যাকেট থেকে এ সোনাগুলো পেয়েছি। মা বললো, তোকে আমি নিষেধ করেছিলাম। রাসেল বললো, মা আমার কিছুই তো হয়নি, চলো আমরা সোনাগুলো বিক্রি করে একটি বাড়ি বানাই।
রাসেলের মা বললো, কথা তো ঠিক, চল তাই করি। সোনা বিক্রি করে তাদের কাছে অনেক টাকা আসলো। তাদের আর থাকা-খাওয়ার কষ্ট থাকলো না। রাসেলের আস্তে আস্তে লোভ বাড়তে থাকলো। তার যখন যা মন চায়, তাই জ্যাকেটের কাছ থেকে চেয়ে নেয়। তার মাও তাকে আর কিছু বলে না। সে জ্যাকেটের সতর্কবাণী ভুলেই গেলো।
একদিন রাসেল জ্যাকেটের কাছ থেকে প্রয়োজন ছাড়াই কিছু টাকা চাইলো। জ্যাকেট বললো, তোমাকে আমি বলেছিলাম প্রয়োজন ছাড়া আমাকে ব্যবহার করলে ভাল হবে না। আমাকে আর তুমি ব্যবহার করতে পারবে না, যদি করো তবে তোমার খারাপ কিছু হবে। রাসেল হেসে বললো, আগেও তুমি এটাই বলেছিলে। তোমাকে আর আমার ভয় লাগে না। চাইলে এখনি তোমার কাছ থেকে টাকা নিতে পারি। কিন্তু নিচ্ছি না। জ্যাকেট হাসলো। রাসেল তার হাসির কোন গুরুত্বই দিলো না। ভাবলো জ্যাকেট আবার আমার কি করবে।
একদিন সন্ধ্যাবেলা রাসেল জ্যাকেট থেকে আবারও টাকা চাইলো। সে একবারও ভাবলো না, এর ফল কি হতে পারে। কিন্তু এবার জ্যাকেট টাকা না দিয়ে বিকট শব্দে হাসতে লাগলো; চারদিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলো। হঠাৎ একটি বিকট আওয়াজ -এর বজ্রপাতে তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে তার মা মারা গেলো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেলো। তার কাছে যত টাকা ও সোনা ছিলো সব মাটিতে পরিণত হলো। ভাঙ্গা বাড়িতে তার মায়ের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে সে কাঁদতে লাগলো। এর কিছুদিন পরে একটি রোড এক্সিডেন্টে সেও মারা গেলো।