খুকির আম্মু সাহরি রান্না করছে। আব্বু বাথরুম থেকে এসে মেসওয়াক করছে। খুকি ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু সাহরি খাওয়ার সময় কেমন যেন জেগে ওঠে। আজো তার ব্যতিক্রম হলো না। আম্মু-আব্বু সাহরি খাচ্ছে আর খুকিও জেগে উঠল। আদর করে আব্বু বলল, আসো মা আমার, হাত-মুখ ধুয়ে এসো।
খুকি মেসাওয়াক করে, অজু করে রীতিমতো চলে এলো। সাহরি খেতে শুরু করল আব্বু-আম্মুর সাথে। আব্বু-আম্মু মনে মনে ভাবছে আর হাসছে! কারণ হলো, খুকি সকাল কিংবা দুপুরের পরই রোজা ভেঙে ফেলবে। আবার ইফতারের সময় পাড়ার যেখানেই খেলতে যাক না কেন, সময়মতো ইফতার করতে বান্দা হাজির।
সাহরি খেয়ে আব্বু মসজিদে চলে গেলেন। জামাতে নামাজ পড়তে। আর আম্মু রান্নাঘরের কিছু কাজ সেরে ফজরের নামাজটা পড়ল। খুকিও আম্মুর সাথে নামাজটা শেষ করে শুয়ে পড়ল। আর আম্মু কুরআন তিলাওয়াত করে, তসবিহ টিপে তারপর ঘুমাবে।
বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা। খুকি রান্নাঘরের কাছে এসে দাঁড়াল। সে পাড়ায় গিয়েছিল বন্ধুদের সাথে খেলতে। মনটা এখন কেমন যেন মরা মরা! চোখ-মুখও কেমন শুকনো। ওর মা পাশেই খড়ি কেটে গোছগাছ করছে। খুকির দিকে তাকিয়েই সাথে সাথে বুঝে ফেলল- রোজায় তাকে ধরেছে।
খুকির মা মনে মনে হাসছে। কারণ, এখনি খুকি রোজাটা ভেঙে ফেলার কথা বলবে, অথচ সাহস পাচ্ছে না।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একবার বলেছিল খুকিকে তার আম্মু ভাত খাওয়ার কথা। কিন্তু খুকি বলেছিল, আমি রোজা আছি না! আজকে রোজা থাকবই থাকব।
কিন্তু এখন খুকি কেমন যেন পেরে উঠছে না। ঘণ্টা দুই আগেও খারাপ লেগেছিল কিন্তু বন্ধুদের সাথে খেলায় মজে সেরকম মালুম হচ্ছিল না। এখন কেমন যেন খুব খারাপ লাগছে! তাই আর থাকতে পারল না। মায়ের গলাটা জড়িয়ে রোজা ভেঙে ফেলার কথাটা বলেই ফেলল- আম্মু, আমাকে ভাত দাও।
বলার সময় মুখে লজ্জা ও মুচকি হাসি দু’টিই দেখতে পেলো তার মা। মনে মনে হেসেও নিলো খানিকটা।
খুকি ছোট্ট মানুষ। বয়স কেবল আট-নয় বছর। প্রথমে রোজা ভেঙে ফেলার কথাটা বলতে সাহস পাচ্ছিল না। একটু-আধটু লজ্জা করছিল। মা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল। এখন তার মুখে রোজা ভাঙার কথাটা শুনে মা হাসিমুখেই বলল- আচ্ছা মা ঠিক আছে।
খুকু প্রায় প্রতিদিনই সাহরি খেয়ে এমনটা করে। অবশ্য সাহরি খাওয়া তার একদিনও মিস নেই। আব্বু-আম্মুও আদর করে তাকে সাহরি খেতে দেয়, যাতে করে রোজার সাথে তার ছোট্টকাল থেকেই পরিচয় লাভ হয়। বড় হলে যাতে রোজা রাখা সহজ হয়। খুকিকে বুকে জড়িয়ে ধরে স্বাদের প্রশ্ন করল আম্মু- আচ্ছা আম্মু, বলো তো, প্রায় এই দুপুর পর্যন্ত রোজা কেমন করে থাকলে?
খুকি একটা মুসকি হাসি দিয়ে বলল- আম্মু, আগে ভাত দেও না! তারপরে বলছি। আমি আর পারছি না!
খুকি ভাত খায় আর বলে- আম্মু! আমি না বড় হলে পুরো দিনটাই রোজা রাখব। এখন অল্প অল্প করে অভ্যাস করছি। তুমি রাগ করো না মা! বড় হলে আমিও তোমার মতো রোজা রাখব।
ছোট্ট মেয়েটির এই সুন্দর সম্ভাবনাময় কথাগুলো শুনে মায়ের মন আনন্দে ভরে উঠল।