আল মুজাহিদী
আমিও চলে যাবো
তুমি বলো, সমাজই মন। বাস্তবতা?
সমাজের ভঙ্গুরতা নেই?
এ সমাজ ফেলে এ জীবন ফেলে একদিন
‘আমিও চলে যাবো’
তোমাকে যখন এই কথা বলি
তুমি তড়িঘড়ি দৌড়ে আসো।
কাছে এসে আমাকে বলো
এখনই এই আস্থাচলে গভীর সন্ধ্যায়
চলে যাবার মতো কি হলো তোমার?
না গেলেই কি নয়?
এসো, এখানে আরও কাটাই।
আর ক’টা দিন আরও ক’টা রাত্রি।
জীবনের অজস্র রসদ বাকি রয়ে গেছে
আমাদের ভোগ করার
আলো কিংবা অন্ধকারে।
তবু চলে যাবো শেষ অব্দি
অনন্তও ধরে রাখবে না
আমাকে তখন।
জাহিদুল হক
অফুরন্ত
রাত্রি কালো শামিয়ানা, নক্ষত্ররা চুমকি কি বুদ্বুদ
হয়ে জ্বলে, দুলে ওঠে- চোখের জানালা দেয় নেড়ে
স্বপ্নের পরীরা। কিন্তু স্বপ্ন নয়, দুঃস্বপ্নও ভেড়ে
আর্নোর নিবিড় খাটে : আমার ঋণের বাড়ে সুদ।
কে জাগিয়ে রাখে এই আত্মাকে, যেখানে তৃষ্ণা-ক্ষুধা
ঘন হয়, যেন খিন্ন সাইপ্রেসে সন্ধ্যা শুয়ে থাকে,
সারি সারি কবর, মৃত্যুও শোক- মৃত্যুও কি সুধা?
আমার সর্বস্ব নিয়ে আমি ভাবি কেবলই তোমাকে।
আমার সে দিনগুলো আজো আসে, ছড়ায় সুগন্ধি;
ঘর্মাক্ত শ্রমের দিনে মেধা আর স্বপ্নকে মেশাতে
যেখানে উন্মুখ থাকি, ভাঙনের মধ্যে গড়ি সন্ধি,
অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে ছুটে যাই হাসপাতালে, রাতে :
কিন্তু সবই, শেষাবধি, প্রস্তুতিতে তুমিই চূড়ান্ত
থাকো, তুমি ছাড়া আর কে আছে জীবনে অফুরন্ত।
জাহাঙ্গীর ফিরোজ
মেঘের বাড়ি
কোন সে পথের পথিক তুমি
নাই-বা জানি
পথিক তুমি এটাই মানি।
আমার ছায়ায় একটু বসো
জিরিয়ে নাও
রৌদ্র পড়ুক মেঘের ছায়া
আসছে উড়ে ;
কোন সুদূরে তোমার গৃহ
খুব কী দূরে!
অচীন পুরে মেঘের বাড়ি
সারি সারি শৈলচূড়া
সেখান থেকে ঝরনাধারা
পাগলপারা ছুটছে নদী
সাগর বাড়ি।
নদীর ইতি মেঘের শুরু
সাগর থেকে শৈলচূড়া
দলবেঁধে মেঘ যাচ্ছে উড়ে
সারি সারি মেঘের বাড়ি।
মোশাররফ হোসেন খান
বৈশাখ
এখানে জীবন মানে চৈত্র দগ্ধ খা খা পোড়ামাটি
এখানে জীবন মানে ধূলিঝড়, তীব্র রক্তোচ্ছ্বাস
এখানে জীবন মানে প্রান্তরের ধু-ধু বালুকণা,
এখানে জীবন মানে নিয়ত উজানে গুণ টানা।
সকল জীর্ণতা দীর্ণ করে তুমি এসো বৈশাখ
এসো উত্তপ্ত ব-দ্বীপে, সবুজ পল্লবে, নবরূপে
এসো স্বপ্ন-সম্ভাবনা বুকে নিয়ে, এসো বারবার,
মুছে দাও ব্যর্থতার যত গ্লানি, জীবনের ভার।
শাহাজাদা বসুনিয়া
মৃত্যুপুরী
ছিন্নবস্ত্রে সজ্জিত, পড়ে আছে দেহখানি
কাছে গিয়ে চুপি চুপি বলি-
সাইকী, কেমন আছ?
উত্তর না দিলেও সে ছিল শান্ত-স্থির
সে ছড়িয়ে দিলো শব্দের অস্থিরতা
তার হাসির শব্দ ছিল সন্তরণশীল প্রহেলিকা
পড়ে থাকে তার দেহখানি বহুকাল
এখনই সময়
তার দেহখানি গভীরে নেয়ার
সে বিশ্রাম নেবে
সে বিশ্রামবিলাশ।
কাছে গিয়ে সন্তর্পণে বলি-
বিশ্রাম নাকি আত্মগোপন?
অর্থহীন গল্প আর স্বপ্নবিলাস
সে ছিল গভীর নিদ্রামগ্ন
পরমসত্তায় সে শুয়েছিল
সে খুঁজে পায় না আপন গৃহ
তার স্থান নেই কোনো নগরেই
তার কাছে সবাই অচেনা বিদেশী
কাছে গিয়ে বলি-
এখন কী হবে, সাইকী?
সে বলে এক অনাবিষ্কৃত দেশের কথা
পাল তুলে সেখানে যাবে আপন গৃহে।
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
বোশেখ যদি
বোশেখ যদি প্রকৃতিতে জাগে
দেখেছি বারে বারে ঝড় হতে।
বোশেখ যদি মাটিতে জাগে
দেখেছি আন্দোলন হতে।
এমনটি দেখেছি দেশ স্বাধীনের আগে-
একটা রুদ্র বৈশাখ জেগেছিল
একটি যুদ্ধ বৈশাখ।
বোশেখ যদি হৃদয়ে জাগে
তবে তোলপাড় হয় প্রেমে ।
বোশেখ যদি ঘৃণায় জাগে
তবে পুড়ে যায়
ফাগুন ও আগুনে।
বোশেখ যদি ঘরে জাগে
তবে সংসার কী থাকে!
বোশেখ যদি-
যদি এ বোশেখ
জীবনে জাগে
জীবন হারিয়ে যায় মরণের আগে।
