শহর আমার ভাল্লাগে না
নাসির ফরহাদ

এই শহরের অলিগলি বড্ডরকম ঝুট ঝামেলা
ভাল্লাগে না ধুৎতুরি ছাই যায় না কোথাও দু’পা ফেলা।
আব্বু তুমি আনলে কোথায়? মেঠো পথের দূর্বা ছেড়ে,
দেখছ না কি! ফাজিল গাড়ি বাঘের মতো আসছে তেড়ে।
চতুর্দিকে প্যাঁপু, ভ্যাঁভু, কি বিচ্ছিরি শব্দগুলো
যেদিক তাকাই সেদিক দেখি, আকাশ বাতাস ধুলো ধুলো।
এই শহরের খাবার-দাবার ফরমালিনে বেজায় ভরা,
ঢাকা নামের খোলা শহর মানুষগুলো কত্ত কড়া!
উঁচু উঁচু দালানগুলো হা করে বা দেখছেটা কি?
আব্বু আমার ভয় করে খুব ভেঙেচুরে পড়বে না কি!
খামখেয়ালি পছন্দ না চলো আমরা গ্রামে পালাই?
সে কি কথা! আর বলো না! শহর ছেড়ে বিদ্যা
কে পায়?
দামি স্কুলে পড়লে তুমি
দামি দামি ডিগ্রি পাবে!
পায়ের ওপর পা’টা তুলে
খোর্মা-পোলাও চিংড়ি খাবে!
আহা আহা কি মজা না!
এসব তোমার সব অজানা?
তুমি যখন গাঁয়ে ছিলে তোমার ছিল এমন দশা?
দাদুর হাতে ঠাস ঠাসা ঠাস, খেয়ে তোমার কান কি ঠসা?
শহর মানে বাঁধা নিষেধ এ-করবা না, তা-করবা না
আমার সাথে এমন কেন? বাবা-মায়ের তালবাহানা।
পিন বুরুশে আটকানো কি থাকতে পারে আমার জীবন?
আঁধার ভেদে সকাল হবে আসবে কখন তুখড় কিরণ?
হতচ্ছাড়া শহরটাকে ফাঁকি দিয়ে যাবই ফেলে
গ্রামের ছেলে ফিরব গ্রামে একটুখানি সুযোগ পেলে।

 


মুখে হাসি
মো. তাইফুর রহমান

মুখটি কালো করে কেনো
তুমি এমন থাকো
এই মিনতি তোমার কাছে
মুখে হাসি রাখো।
মনে তোমার হিংসা কেনো
কিবা কারণ আছে
মনটা যাদের সহজ সরল
শান্তি তাদের কাছে।
মুখে সদা রাখো হাসি
মুখটা কেনো কালো
হাসিখুশি মানুষ যারা
মনটা তাদের ভালো।
তাই তো সবে বলব কথা
হাসিভরা মুখে
হাসিমাখা মুখের কথায়
মন ভরে যায় সুখে।

 


হাসছে হা হা হি
সামিউল ইসলাম

পড়তে গিয়ে বড় আপু
পায় না যখন খাতা
চিল্লাচিল্লি করে তখন
খারাপ করে মাথা।
বলতে থাকেন যা তা
ছেঁড়া কেন পাতা?
কে ছিঁড়েছে জানতে পেলে
দিবেন নাকি যাতা।
পিচ্চি এসে হাসি দিয়ে
বললো- আপু শোনো
সত্যি কথা বলছি আপু
রাগ করো না কোনো?
প্লেন এবং নাও বানালাম
খাতার পাতা ছিঁড়ে
এমন কথা শুনেই বুবু
হাসছে হা হা হি রে !

 

বৈশাখী রূপ
এম এইচ মুকুল

এই রোদ এই মেঘ
বাতাসেতে কত বেগ
কি যে অনাসৃষ্টি!
হুরমুড় আসে ঝড়
কাঁপে ঘর কাঁপে ঘর
শঙ্কায় দৃষ্টি।
খোকা খুকি দলে দলে
ছুটে চলে গাছ তলে
নাই মনে ভয়,
আয় ঝড় আয় ঝড়
আম পড় আম পড়
নেচে নেচে কয়।
টুনটুনি কেঁদে যায়
ছানা তার নাহি পায়
বাসা গেছে উড়ে,
বোশেখের আগমন
পাগলামি সারাক্ষণ
মাঠ ঘাট জুড়ে।

 

করব চাঁদে বাড়ি
জোবাইদুল ইসলাম

করব চাঁদে বাড়ি
কেমনে যাবো?
রকেট নাকি গাড়ি?
কিনবো চাঁদে জমি
মরবো যখন
দেহ হবে মমি?
করব বাড়ি পাকা
নাকি মাটির!
হবে আমার থাকা?
কিনব চাঁদের আলো
সত্যি তো চাঁদ
অনেক বেশি ভালো।

 

টোকাই শিশু
সীমা ইসলাম

পথের টোকাই পথে ঘুমায়
নেই বলে আজ বাড়ি,
কোটিপতি আজকে তুমি
চড়ো দামি গাড়ি।
তাদের দেখে তোমার মনে
হয় না বুঝি মায়া?
পথে পথে জীবন কাটাই
দেয় না কেউই ছায়া
শিশির ঝড়ে রাত্রি হলে
যায় না থাকা ঘরে,
এই না টোকাই তবু রে ভাই
থাকে পথে পড়ে।
কোথায় কম্বল কোথায় বাড়ি
কোথায় যাবে তারা,
এসব দেখে তোমার কেন
দেয় না বিবেক সাড়া!
পারি না কি আমরা তাদের
নিতে একটু বুকে,
সেই খুশিতে হাসি যেন
ফোটে তাদের মুখে।

 

লাল-সবুজের হাট
আবু তালহা রায়হান

শাপলা ফোটা বিল দেখি
দূর আকাশে নীল দেখি
মুক্তডানার চিল দেখি
মাঠ পেরিয়ে ঘাট
এই তো আমার মাতৃভূমি
লাল-সবুজের হাট।
রোজ বিহানে পাখির মেলা
মুয়াজ্জিনের সুরের খেলা
লাঙল কাঁধে চাষি
হাঁস-মোরগের ডাকাডাকি
ছোট্টো খোকার আঁকাআঁকি
সুয্যি মামার হাসি।
ভর দুপুরে উতল হাওয়া
দুষ্টু ছেলের নাওয়া-খাওয়া
কলসি কাঁখে বধূ
ভার নিয়ে যায় বন্ধু ‘মাওয়াল’
ডাক দিয়ে কয় বাড়ির ছাওয়াল,
লাগবে আমার মধু।
ক্লান্ত বিকেল হেসে ওঠে
হৈ-হুল্লোড়ে ভেসে ওঠে
সন্ধ্যা এসে ভিড়ে,
নৌকা বাঁধে মাঝির দলে
গান গেয়ে যায় বিহ্বলে
রাত আসে ফের ধীরে।

 

মা
বিচিত্র কুমার

মায়ের মতো আদর সোহাগ
পাইনি কোথাও আর,
ভালোবাসার শিল্পী সে যে
এই দুনিয়ার।
অসীম তার মমতা যে
বটবৃক্ষের ছায়া,
আঁচল তলে স্বর্গের সুখ
সুগন্ধি এক মায়া।
মা ডাকটি সুমধুর
জুড়াই দেহপ্রাণ,
একটু আড়াল হলে পরে
পড়ে নাড়ির টান।