ছোট্ট ছেলে রিজভী ক্লাস ফোরে পড়ে, বন্ধু-বান্ধবের অভাব নেই সুযোগ পেলেই তাদের সাথে খেলা করে আর বাসায় লেখাপড়া বাদে যেটুকু সময় পায় ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কার্টুন, গেমস এবং বিভিন্ন ফানি ভিডিও দেখে।
দুষ্টুমি খেলাধুলা পড়াশোনা কার্টুন দেখা গেমস খেলা নিয়েই দিন কেটে যায় তার, পড়াশোনায় বেশ ভালো রিজভীরা দুই ভাই, রিজভী বড়, ছোট ভাইয়ের বয়স ছয় বছর।
একদিন রিজভী ফোনে কার্টুন দেখছে কার্টুন দেখতে দেখতে চাপ লেগে একটি ইসলামি কার্টুন দেখতে পায়, কার্টুনের চরিত্র আব্দুল বারীর আচরণ রিজভীর কাছে খুব ভালো লাগে, আব্দুল বারী নামাজ পড়ে মসজিদে। বড়দের দেখলে সালাম দেয়।
আব্দুল বারীর কার্টুন রিজভী প্রতিনিয়ত দেখতে থাকে ইসলাম সম্পর্কে তার একটুও জ্ঞান ছিল না। এটা দেখে সে অনেক জ্ঞান অর্জন করে। রিজভী মনে মনে ভাবতে থাকে আমি আব্দুল বারীর মতো হবো তাহলে কত সুন্দর হবে জীবনটা। সবাই আব্দুল বারীকে কত আদর করে সম্মান করে।
রিজভী ভোর ৫টায় অ্যালার্ম দিয়ে রাখে, ভোর ৫টায় অ্যালার্ম বাজতেই রিজভী অজু করে নামাজের জন্য রেডি হয় মসজিদে যাবে বলে, রিজভী বলল আম্মু আমি মসজিদে যাচ্ছি তুমি অজু করে নামাজ পড়ে নাও, ঘুম থেকে নামাজ উত্তম।
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে অবাক হয়ে গেলেন মা। রিজভী তাড়াতাড়ি মসজিদে চলে গেল। বাসার নিচে মসজিদ। নামাজ পড়া শেষে বাসায় ফিরছে এমন সময় ফারহানের সাথে দেখা। রিজভী সালাম দিলো-
আসসালামু আলাইকুম ফারহান কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ রিজভী তুমি কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি।
ফারহান হাফেজি পড়ে। সে রিজভীকে জিজ্ঞেস করল রিজভী আজ এত সকালে উঠেছ যে; তুমি তো এত সকালে ঘুম থেকে ওঠো না।
ফারহান বললো, আমি আর আগের মতো নেই। তোমাকে প্রতিদিন মসজিদে যাওয়ার সময় ডেকে নিয়ে যাবো এখন থেকে।
ফারহান বলল রিজভী তোমার কথা শুনে অনেক ভালো লাগছে আমার। তোমার এই পরিবর্তন তুমি যেন সারাজীবন ধরে রাখতে পারো দোয়া ও শুভকামনা তোমার জন্য।
রিজভী বলল, জানো ফারহান, আমারও না তোমার মতো হাফেজি পড়তে ইচ্ছে করে, কিন্তু আমার আম্মু আমাকে দেবে না।
তোমার আম্মুর মতো যদি আমার আম্মু আমাকে আরো আগে নামাজ শেখাত তাহলে আমিও তোমার মতো নামাজ পড়তাম। আমাদের ধর্ম সম্পর্কে জানতাম বুঝতাম। আমাকে কিছু শেখায়নি, আমি কী করে শিখব তাহলে?
ফারহান বলল, বাসায় গিয়ে তোমার আম্মু আব্বুকে বুঝাবে আর বলবে আমি সৎ পথে চলতে চাই। সত্য জ্ঞান অর্জন করতে চাই।
রিজভী বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে বাবা-মাকে ফারহানের কথাগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে বলল।
রিজভীর কথা শুনে বাবা-মায়ের চোখে অশ্রু চলে এলো। তারা বলল ভাবল ভুল আমাদের। আমরা কেন সন্তানদের ইসলাম সম্পর্কে বলিনি, রিজভীর বাবা-মা মনে মনে খুব অনুতপ্ত হলেন।
বাবা রিজভীকে অতি আদরে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন আমার সোনা ছেলে তুমি আমাদের ভুল সংশোধন করে দিয়েছ। আজ থেকে তুমি একা নও আমরা সবাই ইসলামের পথে চলব।