গ্রীষ্মের এই দিনে
জাহানারা নাসরিন

গ্রীষ্মের খরতাপে খাল-বিল চৌচির
ঘাম ঝরে দরদর পাকঘরে বউদির।
সুনসান পথঘাট খাঁখাঁ করে রোদ্দুর
কোনোখানে জল নেই চোখ যায় যদ্দুর।
খই ফোটা তাপে যেন পোড়ে সব দিন-রাত
তেষ্টায় পথিকেরা তরুতলে হয় কাত।
রাত কাটে নির্ঘুম জ্বালাপোড়া অস্থির
চাতকের আহাজারি জল চাই স্বস্তির।
তরুশাখে দোলে কত রকমারি মিঠে ফল
খিটখিটে মন তবু চলে আসে জিভে জল।
আম জাম কাঁঠালের হুল্লোড় হইচই
জুঁই চাঁপা জারুলেরা মিটমিট হাসে ওই।
ডালে ডালে পাখিদের মনকাড়া কোলাহল
নেচে নেচে খায় তারা টসটসে পাকা ফল।
ফুলফলে দেশ হয় আহা কী যে মধুময়
মৌমাছি প্রাণখুলে গুন গুন কথা কয়।
আকাশের ময়দানে ডেকে যায় কড়কড়
জটাধারী বুনো মেঘ কখন যে তোলে ঝড়।
ঝড় এসে শীতলতা দিয়ে যায় উপহার
সূর্যের প্রখরতা তখন যে মানে হার।

 

স্মৃতিময় নজরুল
সোমা মুৎসুদ্দী

তোমার
ফুলবাগানের ফুলগুলি আজ
ডাকছে করুণ সুরে
নজরুল তুমি মন মননে
মনের গহিন পুরে।
স্মৃতিময় তুমি, গীতিময় তুমি
প্রীতিময় তুমি প্রিয়
আমার লাগি একটি গোলাপ
তুলে তুমি রেখে দিও।
পাপিয়ার সুরে পিউ কাহা বলে
আমিও তোমায় ডাকি।
তোমার গজল তোমার গানের
সুরের ধারায় থাকি।
তোমার তরেই আজ গেঁথে যাই
হৃদয় শিউলি ফুল
চেতনায় আছো, সংগ্রামে আছো
ওগো প্রিয় নজরুল।

 


গ্রীষ্ম
জয়নব জোনাকি

গ্রীষ্মের ছুটি এলে
ছুটে যাই গাঁয়েতে,
জেলে ভাই মাছ ধরে
বেয়ালের না’য়েতে,
তাপদাহে জ্বলে মাথা
ঠোস পড়ে পায়েতে।
আম লিচু কলা খাই
পাখিদের মতো যে
ডাব পেড়ে গাছতলে
খাই পানি কত যে,
নদীতে সাঁতরিয়ে
বকা খাই শত যে।
পাতিহাঁস জল খোঁজে
ডুব মারে পুকুরে,
চৈতালি হাওয়া বয়
ঘুম ডাকে খুকুরে,
মাছরাঙা চুপ বসে
গাছের ওই মুকুরে।
মাঠ-ঘাট ডোবা-নালা
ফেটে যায় গরমে,
চারিদিকে হাঁসফাঁস
রোদ উঠে চরমে,
পিপাসায় প্রাণিকুল
জ্বলে সব মরমে।
কৃষাণীরা বিশ্রামে
বটের ওই ছায়াতে,
ঘাম ঝরে পড়ে তার
শীর্ণ সে কায়াতে,
তবুও সে লড়ে যায়
ফসলের মায়াতে।
গ্রীষ্মের খরতাপে
ঘাস-পাতা জ্বলে যায়,
সব যেন পুড়ে ছাই
তাপদাহে গলে যায়,
নিদারুণ কষ্ট কী!
গ্রীষ্ম তা বলে যায়।

 

লিচু খাবে
হাসু কবির

খুকুমণি লিচু খাবে
ফুলে আছে গাল
দিতে হবে গাছপাকা
টকটকে লাল।
খেতে দিলে টপাটপ
খাবে আগে ভাগে
হাতে দিতে দেরি হলে
ফেলে দেবে রাগে।
হাতে নেবে গোটা ছয়
সাথে কোচ ভরে
বাধা দিলে রাগে ক্ষোভে
মুখ ভার করে।
সব মিলে পাঁচ ছয়
লিচু খেতে পারে
তবে হাতে তিনগুণ
দিতে হবে তারে।

 


স্বপ্নপুরীর দেশে
আলমগীর কবির

রোদ দিয়েছে মিষ্টি আড়ি
আকাশপুরে মেঘের বাড়ি
মেঘ ডেকে যায় দূরে যেতে
আকাশপথে উড়ে যেতে।
মেঘ ডেকে যায়, মেঘের ডাকে
মনপাখিটা স্বপ্ন আঁকে।
মেঘের মতো ভেসে ভেসে
ঘুরব সারা বাংলাদেশে।
দেখব নদী দূরের পাহাড়
দেখব সবুজ রূপের বাহার।
ফুল ফসলে আলোর খেলা
চাষির বুকে খুশির মেলা।
হাওয়ার টানে ভেসে ভেসে
ছুটব স্বপ্নপুরীর দেশে।