কাক ডেকেছে, চড়ুই চিউ চিউ করছে, মা-ও চা বসিয়েছে- ঠিক সেই মুহূর্তে তপুর ঘুমটাও ভেঙেছে। বিছানা ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে বেলকুনিতে এসে দাঁড়াল এই বাড়ির ছোট্ট ছেলে তপু। সূর্য মামার দেখা নেই, দেখার কথাও নয়। কারণ গত রাতে প্রবল ঝড় হয়েছে। আজ ছুটির দিন, স্কুলটাও বন্ধ। ওর মনটা একদম ফুরফুরে। তাই তো একটু আয়েশে মায়ের দেয়া দু’টি টোস্ট মুড়মুড়িয়ে খাচ্ছে, আবার মাঝে মধ্যে চায়ের কাপটায় ডুবিয়ে তুলতুলে করে তা গালে দিচ্ছে। আহা মজাটাই আলাদা।
এবার চড়ুইটা আরো জোরে চিউ চিউ করে জানালায় বসে ছটফট করছে। এই চড়ুইটা কিন্তু তপুর খুব পরিচিত। বেলকুনির বাইরের সানসেটেই ওদের বাসা। ওদের সাথে তপুর সবসময় লুকোচুরি খেলা হয়,গান শোনা হয়, খুনসুটিও চলে খুব। অর্থাৎ পাক্কা বন্ধু বলে কথা। কিন্তু ওদের এমন আচরণের সাথে সে মোটেই পরিচিত নয়!
হঠাৎ চড়ুইটা মাটিতে গিয়ে বসল। ওমা! তপু দেখল পাখির বাসার খড়কুটোগুলো সব মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে! আর চড়ুইর বাচ্চা দু’টি থরথর করে ভেজা পালকগুচ্ছ ফুলিয়ে কাঁপছে আর কাঁপছে। বুঝতে বাকি রইল না রাতের ঝড়েই এমন কাণ্ডটা হয়েছে।
দৌড়ে বাইরে এলো তপু। নিচে পড়ে থাকা ছনগুলো ভিজে ছিপছিপে হয়ে গেছে। ব্যবহারের মতো একটুও উপযোগী নেই। বাসার গেটটাও আবার বন্ধ! কী করবে এখন সে! দৌড়ে গেল বাবার কাছে। বাবা আমাকে একটু বাইরে নিয়ে চলো বাবা, প্লিজ...। বাবা বলল, কেন এত্তো সকালে...! একটু পরে যাই...। তবুও বাবাকে বুঝিয়ে- শুনিয়ে, ইনিয়ে-বিনিয়ে সোজা গেট খুলে বাইরে বেরোলো।
কিছুক্ষণ পর ছন, কিছু খড়কুটো কুড়িয়ে এনে সানসেটটার উপরে সুন্দর করে ওদের জন্য আবার বাসা তৈরি করল। এবার পাখির বাচ্চাটাকে আদর করে আস্তে ধরে সেই বাসায় বসিয়ে দিলো। তপুর বাবা-মা পাখির প্রতি ছেলের বন্ধুত্বসুলভ ভালোবাসায় খুব খুশি হলো।
এ দিকে চরম খুশি মা চড়ুই! তাই তো তপুর কাঁধে বসে চিউ চিউ সুরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। জবাবে তপু বলল, হ্যাঁ ঠিক আছে তুমি আমার বন্ধু। তোমার জন্য এতটুকু করাটাই আমার দায়িত্ব। চড়ুইটা আরো জোরে চিউ চিউ করে নাচতে লাগল। সাথে সাথে তপুর বাবা-মা আনন্দে হাতে তালি দিতে থাকল।
কাক ডেকেছে, চড়ুই চিউ চিউ করছে, মা-ও চা বসিয়েছে- ঠিক সেই মুহূর্তে তপুর ঘুমটাও ভেঙেছে। বিছানা ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে বেলকুনিতে এসে দাঁড়াল এই বাড়ির ছোট্ট...
