খোকন সোনা

প্রথমে তোর বাবার ভালোবাসা নিস। তুই আছিস কেমন খোকা তোকে কত্ত দিন দেখি না। তোর শরীরটা আলো আছে তো? জানিস খোকা তোর মায়ের শরীরটা খুব খারাপ। বয়স হয়েছে তো তাই আর আগের মতো চলতে ফিরতে পারে না। প্রায় রাতে তোর মা ঘুমের ঘোরে বলে ওঠে কিরে খোকা বাড়ি এলি? আমি তোর মাকে বলি নাগো খোকা কোথায় থেকে আসবে। খোকা তো বিদেশ থাকে। এ কথা শুনে তোর মা হাউ মাউ কেঁদে ওঠে। বলে কী গো আমি কি আর আমার খোকন সোনাকে দেখে যেতে পারব না? আমি তোর মাকে শান্ত করি বলি সামনের মাসেই আসবে।
জানিস খোকা অনেক দিন আমি কাজে থেকে এসে দেখি ভাতের থালা সাজিয়ে বসে আছে। আমি ভাবি আমার জন্য ভাতের থালা সাজিয়ে বসে আছে, বলি কী গো আমি বাড়িতে না আসতেই ভাতের থালা সাজিয়ে বসে আছো? তোর মা আমাকে বলে না গো তোমার জন্য না খোকা তো তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আসে, খোকার তো খুব ক্ষুধা লাগে আমাকে এসে বলে মা আমায় আগে কিছু খেতে দাও। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে। তাই আমি আগে থেকেই ভাতের থালা সাজিয়ে রেখেছি। আমি বলি খোকা তো নেই বিদেশ গেছে সে কোথা থেকে আসবে। তখন তোর মা মাথায় ছোট্ট করে একটা টোকা দিয়ে মুচকি হেসে বলে আমার তো মনেই নেই। এ কথা বলার পর মুখটা মলিন হয়ে যেত। দুই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ত।
তোর মনে আছে খোকা এক দিন তুই দুষ্টুমি করতে গিয়ে তোর পা কেটে গিয়েছিল। তোর মা তোর পা চেপে ধরে কী কান্নাটাই না করেছিল। মনে হচ্ছিল যেন তোর মায়ের কলিজাটা কেটে গেছে। তুই ঘুমাচ্ছিলি আর তোর মা সারারাত তোর মাথার পাশে বসেছিল। আজ তোর মা বিছানাগত হয়ে গেছে আর চলতে পারে না। ঠিকমতো কথা বলতে পারে না শুধু দুই চোখের জল ফেলে আর তোর কথা বলে। জানি না কখন জানি বিদায় নেয়। সময় পেলে খোকা একটিবার এসে তোর মাকে দেখে যাস। হয়তো আজো তোকে একটি পলক দেখার আশায় বেঁচে আছে। আর তোর নিজের শরীরের যত্ন নিস। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করিস। ভালো থাকিস।