চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৯ জিলহজ (৮ জুলাই) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ হজে বিশে^র ১০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেন ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সেখানে ধর্মপ্রাণ মুসলমনারা পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ, নামাজ ও তেলাওয়াতের মাধ্যমে মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করছেন।
করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ দুই বছর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এ সময়ে বিশে^র প্রায় ৬৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনার আক্রান্ত হয়ে ভুগতে হয়েছে ৫৪ কোটির বেশি মানুষকে। কষ্টকর সেসব অভিজ্ঞতা ভুলে বিশ^ আবার স্বাভাবিক হতে চলেছে। স্বাভাবিক হচ্ছে মক্কা-মদিনাও। করোনার কারণে কাবা ঘরে প্রবেশও এক সময় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সৌদি সরকার। ওমরাহ পালনও বন্ধ হয়ে যায়। যেখানে প্রতি বছর ২৫ লাখ মানুষ একসাথে পবিত্র হজ পালন করেন সেখানে ২০২০ সালে মাত্র ১০ হাজার সৌদি নাগরিক পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পান। পরের বছর ২০২১ সালে হজ করার সুযোগ পান ৬০ হাজার মানুষ। যাদের সবাই সৌদিতে বসবাস করেন। বর্তমানে করোনার মাত্রা কমে যাওয়ার পর আবার চালু হয় ওমরাহ পালন। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এবার ৪৫ ভাগ মানুষ হজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাও মাত্র দেড় মাস আগের সৌদি সিদ্ধান্তে। বিগত সময়ে হজের প্রস্তুতি শুরু হয় ৭-৮ মাস আগে থেকেই। ফলে স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের এ বৃহৎ আয়োজন বাস্তবায়নে সবারই কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তার পরও দীর্ঘদিন পর পবিত্র হজের আয়োজন করতে ও হজ পালন করতে পেরে সবার মুখে এখন হাসির রেখা ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ থেকে এবার চার হাজার মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে যাচ্ছেন। হজ পালনে ভিসা, বিমান ভাড়া, মোয়াল্লেম ফি, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদির জন্য সরকার দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা লেগেছে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনি¤œ খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা। এর বাইরে কুরবানির জন্য আরো ৮১০ সৌদি রিয়াল বা ২০ হাজার টাকার বেশি খরচে করতে হবে হাজীদের। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সুযোগ-সুবিধার
বিবেচনায় ৭-১০ লাখ টাকা ব্যয়ও হয়ে থাকে। এ বছর মোট ৮০৯টি এজেন্সির অধীনে থাকা হাজীরা ৩৫৯টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে মক্কা-মদিনায় যাচ্ছেন। প্রতি এজেন্সি ৯৭ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত হজযাত্রী পাঠাতে পারছেন।
গত ৫ জুন থেকে এবারের হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এবার বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি ফ্লাইনাস হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ২৯ হাজার, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৩ হাজার ৫৪৫ জন এবং ফ্লাইনাস ৫ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করছে। আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত হজ ফ্লাইট চলবে। এরপর হজ শেষে ১৪ জুলাই থেকে আবার ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে। ৪ আগস্ট পর্যন্ত হাজীরা ফিরতে পারবেন।
