হজ একটি পবিত্র ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য হজ করা ফরজ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মানুষ পবিত্র হজ পালনে পবিত্র মক্কায় যান। কাবাঘর তাওয়াফের মানুষের এ আকুতি আবহমানকাল থেকেই। অনেকে চাকরিজীবন শেষ করে পেনশনের টাকা পেয়ে অথবা গ্রামের কৃষকরা শেষ বয়সে জমি-ফসল বিক্রি করে হজ পালন করতে যান। হজ পালন করতে সৌদ আরব ও বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হয়। অবশ্য স্বল্পসংখ্যক মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সুযোগ পান। আর বেশির ভাগ মানুষকেই যেতে হয় বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের মাধ্যমে। কিন্তু চট্টগ্রাম ও সিলেট শহরে অল্প কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ এজেন্সি মালিকদের অফিস রাজধানী ঢাকায় থাকার কারণে গ্রামে থাকা অধিকাংশ মানুষ সরাসরি এজেন্সির অফিসে এসে যোগাযোগ করতে পারেন না। আবার অনেকে হজের মূল আহকামগুলোও সঠিকভাবে বোঝেন না। তখন তারা স্থানীয়ভাবে যারা হজযাত্রী সংগ্রহ করেন তাদের দ্বারস্থ হন। তারা সাধারণত এলাকার কোনো মুরব্বি বা মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হয়ে থাকেন। আবার অনেক মাদ্রাসা শিক্ষকও এ কাজে জড়িত আছেন। তাদের যোগাযোগ থাকে ঢাকার হজ অফিসের সাথে। তারা এজেন্সি ও হজযাত্রীর ভায়া হয়ে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে এভাবে প্রায় ৮০ ভাগ হজযাত্রীই ভায়া হয়ে হজে যাচ্ছেন। হজ এজেন্সিগুলোও হজযাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু দেখা যায় সরকার হজের সময় যে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে মধ্যস্বত্বভোগীরা হজযাত্রীদের কাছ থেকে সেই পরিমাণ টাকা নিলেও তারা এজেন্সিকে সেই টাকা বুঝিয়ে দেন না। এতে এজেন্সি মালিকও হজযাত্রীদের সঠিকভাবে সার্ভিস দিতে পারেন না। আবার অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগী টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। তখন হজযাত্রীর দুর্ভোগের যেন শেষ থাকে না। হজের মতো একটি পবিত্র কাজে এ ধরনের প্রতারণা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে, যা দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এর নিরসন হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করি তা একটু আলোকপাত করতে চাই। যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সামান্য হলেও কাজে লাগতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার হজ এজেন্সিসের ঢাকার পুরানা পল্টনের ট্রপিকানা টাওয়ারে একটি অফিস রয়েছে। এর পাশাপাশি আমার গ্রমের বাড়ি এলাকা রংপুর ছাড়াও তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পলাশবাড়ি উপজেলা শহরে হজ ও ওমরাহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে আমার স্টাফ রয়েছে। এসব কেন্দ্রের জন্য আমি ১০-১৫ বছর আগে জমি কিনে রেখেছিলাম। সেখানে অফিস করা হয়েছে। এতে আমার খরচও কম হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলো আমি ওয়াকফ করে দিয়েছি এবং সেভাবেই আমার সন্তানদের জানিয়ে রেখেছি। যাতে ভবিষ্যতেও এ কেন্দ্রগুলো ধর্মীয় ভালো কোনো কাজে ব্যবহার হয়। এসব কেন্দ্রে বছরের বিভিন্ন সময় হজ গমনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তাদের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারপর যারা হজে যেতে ইচ্ছুক তারা সরাসরি আমাদের কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। তখন আমরা সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করে থাকি। হজ নিয়ে তাদের কোনো জানার থাকলে তারা সরাসরি অফিসে এসে জেনে যেতে পারেন। এভাবে আমি সম্পূর্ণভাবে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই হজযাত্রী সংগ্রহ করে থাকি।
আল্লাহর রহমতে আমার প্রতি বছর যথেষ্ট সংখ্যক হজযাত্রী থাকেন। আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন হাজীরা কখনোই কোথাও আমার এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন না। বিভিন্ন সময়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তারা পাননি। এটিই আমার তৃপ্তি। আল্লাহর মেহমানদের সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনা করে মনে যে প্রশান্তি পাই তা অন্য কোথাও পাই না। আমি মনে করি অন্য এজেন্সি ও হজযাত্রীরা এ ফর্মুলা ব্যবহার করলে দেশে মধ্যস্বত্বভোগী মুক্ত হজযাত্রা সম্ভব হবে।
হজ একটি পবিত্র ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য হজ করা ফরজ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মানুষ পবিত্র হজ পালনে পবিত্র মক্কায় যান।...
