রাতের শেষ প্রহর। চারদিকে সুনসান নীরবতা। রাতের মৌনতা ভেঙে ভেসে এলো সুমধুর সুর। মুয়াজ্জিনের মিষ্টিকণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি মুখরিত হলো। ঘুম ভেঙে গেল রাফিনের দাদুর। রাফিনকেও ডেকে তুললেন। অজু করে নাতিকে নিয়ে মসজিদে চললেন। বাড়ির কুকুরটিও তাদের পিছু ধরল। ঘুম ভেঙে গেল পাখপাখালির। কিচিমিচি সুরে গাইছে গান।
সালাত শেষে রাফিন ও দাদু গ্রামের পথে হাঁটতে লাগল। পথের পাশে নানা রঙের ফুল। ফুলে ফুলে প্রজাপতি। ঝিরিঝিরি বাতাসে ফুলের সুবাস। উঁকি দিলো প্রভাতের সূর্য। গল্প করতে করতে দাদা-নাতি অনেক দূর চলে গেল।
একটি তালগাছে বাবুইয়ের অনেক বাসা দুলছে। বাবুইয়ের দল বাসা বুনতে ব্যস্ত। দাদা রাফিনকে তা দেখাল। রাফিন বলল, বাবুই পাখির বাসা তো সব সময় দেখি। নতুন করে কী দেখব? দাদা বললেন, বাবুইয়ের বাসায় কোন নতুনত্ব দেখতে পাচ্ছো? রাফিন বলল, না তো, আগের মতোই সব। দাদা বললেন, বাবুই পাখি হাজার বছর আগেও এভাবে বাসা বানাতো। কোনো পরিবর্তন নেই, কারণ নতুন কিছু চিন্তা না করলে নতুনত্ব আসে না। তখন রাফিন বলল, নতুনত্ব কেন দরকার?
দাদা বললেন, সুন্দর করে বাঁচতে হলে নতুনত্ব দরকার আছে। এককালে মানুষ গুহায় বাস করত, এখন অট্টালিকায় জীবন-যাপন করে। এসব মানুষের মেধার বিকাশ ও চিন্তার ফসল। রাফিন বলল, মানুষ ও পাখির জীবনের তফাৎ কী? দাদা বললেন, পাখি শুধুই নিজের কথা চিন্তা করে আর মানুষ পুরো পৃথিবীকে নিয়ে চিন্তা করে। তাই মানব সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পাখির জীবন আগের মতোই। দাদা আরো বললেন, মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী। তাই নতুনভাবে চিন্তা করে। মেধার বিকাশ ঘটায়। খেয়েদেয়ে শুয়ে-ঘুমিয়ে জীবন পার করলে চলবে না। পৃথিবীটাকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। যদি কল্যাণকর কিছু করে যেতে পার তবেই মানব জনম সার্থক। তুমি কি মানুষের জীবন চাও নাকি পাখির জীবন? রাফিন বলল, মানুষের জীবন চাই। তখন দাদা বললেন, তবে তোমাকে সবার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। ভালোর সাথে আলোর পথে চলতে হবে। দোয়া করি মানুষের মতো মানুষ হও। হ
