ঋতু রানী
আবরার নাঈম

দুই মাস পর পর
নব ঋতু আসে,
নানা-রূপে সাজে ধরা
যেন বারোমাসে।

তার মাঝে ঋতু রানী
সবচেয়ে সেরা,
এই ঋতু জুড়ে থাকে
বহু রূপে ঘেরা।

আকাশের নীলিমায়
মেঘমালা উড়ে,
যেথা সেথা ঘুরেফিরে
যায় বহু দূরে।

সারি সারি কাশফুল
নদী তীর ঘেঁষে,
শুভ্রতা মেখে গায়
যায় সদা হেসে।

 

 


শরৎ হাসে
মাহমুদ সালিম

শেফালি আর শিউলি ফুলে শরৎ এলো গাঁয়
পাকা তালের গন্ধ শুঁকে মনটা ভরে যায়,
কলমিলতা,আমলকী আর মোরগ ফুলে ডাকে
আমন ধানে চাষির দুচোখ মুখ লুকিয়ে থাকে।

সোনালি ধান পাতার ফাঁকে বাতাস যখন আসে
শরৎ রানী কদম কেয়ায় মুগ্ধ হয়ে হাসে,
মেঘের খণ্ড উড়ে বেড়ায় আকাশ কোণের ছাদে
নতুন ধানের অনন্দে সব চাষিরা বাঁধে।

শরৎ এলো কাশবনে আর টগর ফোটে খুব
মালতীলতা ডেকে বলে দেখে দেখে রূপ,
ভোরের স্নিগ্ধ কোমল হাওয়ায় শিশির ঝরে ঘাসে
ঋতুর রানী শরৎ হাসে ভাদ্র, আশ্বিন মাসে।

 

 

শরৎ এলো হেসে
নাঈমুল হাসান তানযীম

আকাশজুড়ে শুভ্র সাদা
মেঘের ভেলা ভাসে,
শাপলা ফোটে বিলের জলে
কাশফুলেরা হাসে।

শিউলি টগর আরও নানান
বিচিত্র ফুল ফোটে,
প্রকৃতিও ভীষণরকম
সাজে সেজে ওঠে।

নদী নালা ডোবা পুকুর
ভরে স্বচ্ছ জলে,
লাফালাফি করে তাতে
পাবদা পুঁটির দলে।

কৃষক তখন ধানের ক্ষেতে
আমন ধানের চাষে,
ঘরে ঘরে তালের পিঠা
মন ভরে সুবাসে।

কেমন যেন সবকিছু আজ
সাজে নতুন সাজে,
আকাশ জমিন সবই সাজে
রূপের কারুকাজে।

এমনি করেই ঋতুর রানী
শরৎ আসে হেসে,
শরৎ আসে শরৎ আসে
আমার বাংলাদেশে।

 


ওরে বাপরে
ফরিদ আহমদ ফরাজী

ওরে বাপরে বাপরে বাপ
এ যে দেখি গোখরাসাপ
গোখরা কেনো লোকালয়
আমরা মানুষ বোকা নয়
লাঠি এনে দেবো মার
গোখরা যাবে পরপার।

গোখরা সাপের ফোঁসফোঁসানি
পাই না ভয়
আমরা মানুষ বীরের জাতি
নকুল নয়।
নকুল অতি ছোট্ট তবু
যাচ্ছে লড়ে
মানুষ কভু ফোঁসফোঁসানির
ভয়ে মরে?

 


খুকির দস্যিপনা
আজাদ হোসেন

খুকি করে দস্যিপনা
রয়না ঘরে চুপ,
ছুটতে গিয়ে মাটির বুকে
পড়ে ধুপুস ধুপ।

মায়ে ডাকে দুধে ভাতে
আয়রে খুকি আয়,
তোর দুধে ভাত গাছের ডালে
কাকে খেয়ে যায়।

মুচকি হেসে বাঁকা চোখে
পেছন ফিরে চায়,
ভাতের থালা হাতে নিয়ে
পিছু ছোটে মায়।

ছুটতে গিয়ে ব্যথা পেয়ে
ঝরায় চোখের জল,
কানটা ধরে মায়ে বলে
ছুটবি কী আর বল?