সকাল থেকেই আমার ননদ দুইটা বায়না ধরেছে। ভাবী, ভূতের নাচ দেখাবে না আমাদের? আমি ওদের কাছে গল্প করেছিলাম সত্যিকারের ভূতের নাচ দেখাতে পারি। আমার স্কুলজীবনে বাংলা স্যার আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
ওরা নাছোড়বান্দা, ভূতের নাচ দেখেই ছাড়বে। বললাম, আচ্ছা বাবা, দেখাবো। ভয় পেলে চলবে না কিন্তু!
আর ভয় পেয়ে পরে আমাকে কিন্তু বকা দেয়া চলবে না বুঝলে?
হুম বুঝেছি ভাবী, আমরা ভয় পাব না, স্বচক্ষে ভূত দেখব এটাই আমাদের কত ভাগ্য।
আজ সন্ধ্যায় এসো আমার রুমে তোমরা দুইজন, একলা। আমার ননদ দুইটার নাম- রিনা আর বৃষ্টি। দুইজনই শ্যামলা, দেখতে খুব মিষ্টি ও সহজ সরল।
ওরা এসে গেল সন্ধ্যায় আমার রুমে। আমি বললাম, বিছানায় দুইজন শুয়ে চোখ বন্ধ করবে আর হাতে একটা আয়না নিবে যখন চোখ খুলতে বলব তখন আয়নাতে ভূতের নাচ দেখতে পাবে, কিন্তু তার আগে কিছু করণীয় আছে তোমাদের, সেগুলো করতে হবে। আমি কিন্তু বারবার বলে দিচ্ছি সোনা, তোমরা ভয় পেলে আমার দোষ নেই। না ভাবী, ভয় পাব না আপনি বলেন কী করতে হবে।
সুবোধ মেয়ের মতো চোখ বন্ধ করে প্রথমে তিনবার সূরা এখলাস পড়বে, তারপর তিনবার সূরা ফাতেহা।
এমন করে পর্যায়ক্রমে অনেক দোয়া ওদের পড়তে বললাম আর এই সুযোগে আমার হাতে সরিষার তৈল আর কালি মাখলাম।
রিনা বৃষ্টিকে বললাম, তোমাদের দোয়া পড়া শেষ হলে আমি তোমাদের মুখে পড়া তৈল দিবো তারপর তোমরা চোখ খুলে আয়নার দিকে তাকাবে, আর আমি অন্য রুমে থাকব। খবরদার ভয় পেয়েও না কিন্তু...!
ওরা ভালো মেয়ের মতো চোখ বন্ধ করেই আছে এবার ওদের মুখে সেই তৈল আর কালি মেখে দিলাম, ওরা আরামে চোখ বন্ধ করে আছে নিশ্চিন্তে আর বললাম তোমরা আয়না দেখ আমি গেলাম।
রুম থেকে বের হয়ে এক দৌড়ে আম্মার পেছনে লুকিয়ে গেলাম।
আর ওই রুম থেকে আওয়াজ হচ্ছে ভূতের নাচের...
আম্মা আর আন্টি দৌড়ে গিয়ে দেখেন কী ভুতুড়ে কাণ্ড! তাদের মেয়ে দুটো পেত্ন হয়ে গেছে।
ওরা এতটাই ভূত দেখার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল যে ওদের সাথে এমনটা ঘটবে কল্পনাও করেনি খুব সরল সোজা দু’জনে। ওদের সেই কালিমাখা মুখ দুটো দেখে সবাই হাসতে হাসতে ক্লান্ত। সেই থেকে ওদের ভূতের নাচ দেখার সাধ মিটল।