শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০০২ সালে মাত্র ১০৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (এসইইউ)। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজারে। শুরুতে ছয়টি প্রোগ্রাম নিয়ে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১৬টি প্রোগ্রামে শিক্ষাদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও যুগোপযোগী আরো প্রোগ্রাম চালু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। বিশ্বমানের কোর্স কারিকুলাম, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলী, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে স্বতন্ত্র ল্যাব সুবিধা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা, মাদক ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ, সব কিছুই সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। শুরু থেকেই সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য দেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজের সব ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা, নিয়মশৃঙ্খলা, উন্নত মানস ও মূল্যবোধ গঠন এবং জীবনের সাথে শিক্ষার সত্যিকার সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে তিনটি স্কুল বা অনুষদ আছে। সাউথইস্ট বিজনেস স্কুল এর অধীনে আছে ৪ বছরমেয়াদি বিবিএ, ১ বছর ৮ মাস মেয়াদি এমবিএ (রেগুলার), ১ বছর ৪ মাস মেয়াদি ইএমবিএ, ১ বছর ৪ মাস মেয়াদি এমবিএ (ফ্রাইডে) এবং ১ বছর মেয়াদি এমবিএ (বিবিএ গ্রাজুয়েট) প্রোগ্রাম। মেজর বিষয়গুলো হলো : মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, এইচআরএম, এমআইএস, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং টেক্সটাইল অ্যান্ড এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং। স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে রয়েছে ৪ বছরমেয়াদি বিএসসি ইন সিএসই, বিএসসি ইন ইইই, ব্যাচেলর অব ফার্মেসি, বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৫ বছরমেয়াদি ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার। স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোসাল সায়েন্সেসের অধীনে আছে এলএলবি (অনার্স), বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, বিএ (অনার্স) ইন বাংলা, বিএসএস (অনার্স) ইন ইকোনমিক্স, এলএলএম (১ বছর), এমএ ইন ইংলিশ (১ বছর), এমএ ইন বাংলা (১ বছর) এবং মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (১ বছর ৪ মাস)।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ২৫১/এ ও ২৫২, তেজগাঁও-এ স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ক্রয়কৃত ১১ বিঘা জমির মধ্যে ৪ বিঘা জমির ওপর ২০০৯ সালে নির্মিত ক্যাম্পাসে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষাকার্যক্রম। এ ছাড়াও নান্দনিক একটি ক্যাম্পাস তৈরির কাজ এ বছর শেষ হবে। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক নিয়োজিত আছেন, যার বড় একটি অংশ পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন। কর্মকর্তা আছেন প্রায় ১৫০ জন। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ২০১৩ সালে ফল সেমিস্টার হতে সব ছাত্রছাত্রীদের জন্য ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের পছন্দমতো কোর্স সম্পন্ন করে স্বল্প সময়েই তাদের ডিগ্রি লাভ করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান মাধ্যম ইংরেজি।
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে বীমা পলিসি সুবিধা। ‘পিপলস পার্সোনাল এক্সিডেন্ট ইন্স্্যুরেন্স পলিসি’ শীর্ষক এ পলিসির আওতায় শিক্ষার্থীরা যেকোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে আর্থিক সহায়তা পাবে এবং নির্বিঘেœ লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে। এখানে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বিশেষ ছাড় বা শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এখানে টিউশন ফি ছাড় দেয়া হয়। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের জিপিএ (৪র্থ বিষয় ছাড়া) ৫ হলে ১০০%, ৪.৮০-৪.৯৯ এর মধ্যে হলে ৮০%, ৪.৫০-৪.৭৯ এর মধ্যে হলে ৪০% এবং ৪.০০-৪.৪৯ এর মধ্যে হলে ২০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। আর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে টিউশন ফি ছাড় দেয়া হয় স্নাতক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৯০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ৫০%, ৩.৮০-৩.৮৯ এর মধ্যে হলে ৪০% এবং ৩.৭০-৩.৭৯ এর মধ্যে হলে ২৫% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৮০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ২৫% এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত যেকোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৯০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ২০% পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ ছাড়ের আওতায় খেলোয়াড়, শিল্পী, বিতার্কিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রয়েছে ১০০% পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পাঠ চর্চার জন্য একটি অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় পাঠাগার রয়েছে। এ ছাড়াও আছে বিভাগভিত্তিক সেমিনার লাইব্রেরি। এখানে ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজতত্ত্ব, আইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, অর্থনীতিবিষয়ক পর্যাপ্ত বই রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠ্যাভ্যাসের জন্য পাঠাগার সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে।
বর্তমানে পাঠাগারে ৬২৫০টি শিরোনামে ২২৫৫০টি বই রয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রকাশকদের প্রকাশিত ২৫৮৩৭টি অনলাইন জার্নাল ও ১২৫০টি ই-বুকে একসেস ও ডাউনলোড সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে হাজারেরও অধিক গ্রন্থের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার গড়ে তোলা হয়েছে। পাঠাগার ব্যবহারকারীদেরকে অনলাইন জার্নাল ও ই-বুকে RemoteXS সিস্টেমের মাধ্যমে রিমোট একসেস সুবিধা প্রদান করে থাকে। গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য Mendeley এবং Zotero রেফারেন্স সফটওয়্যার ও সাইটেশন ম্যানেজার এবং BANSDOC’s ডকুমেন্টস সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়।
বর্তমানে দেশে দুই হাজারেরও বেশি বিদেশী শিক্ষার্থী থাকলেও বেশির ভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সম্প্রতি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় চীনের কুনমিং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির। তারই ধারাবাহিকতায় চীনের ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে ১৫ জন চীনা শিক্ষার্থী পড়তে এসেছিলেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। তারা এক বছর সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে কিছু আলাদা বিশেষত্ব। যেমন-১. বহনযোগ্য শিক্ষাব্যয়, তাই মধ্যবিত্তরা সহজেই শিক্ষার সুযোগ পান। ২. এখানে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ৩. আছে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনীয় শিক্ষা কার্যক্রম, যা বহির্বিশ্বে স্বীকৃত। ৪. নেয়া হয় Teaching Evalution Rating (TER) অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে প্রত্যেক সেমিস্টারে প্রত্যেক কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়ন। ৫. শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা-সহযোগী কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ৬. রয়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গাইড হিসেবে ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস অফিস ৭. বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগেই সময় মতো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু সংখ্যায় নয়, গুণে ও মানে এগিয়ে যাচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরোত্তর। গবেষণার জন্য রয়েছে একাধিক সেল। আর এখানকার আলোকিত শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে সফলতার সাথে অবদান রেখে চলেছে দেশে-বিদেশে, সর্বক্ষেত্রে। ২০৩০ সালের মধ্যে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগের ঠিকানা : স্থায়ী ক্যাম্পাস : ২৫১/এ এবং ২৫২, তেজগাঁও, ঢাকা ১২০৮। ভর্তি ও তথ্য : বাড়ি ৬৪, রোড ১৮, ব্লক বি, বনানী, ঢাকা ১২১৩। ফোন : ৫৫০৩৪১৩৫, ৫৫০৩৪১২৫-২৮। ওয়েবসাইট : www.seu.edu.bd, ফেইসবুক : facebook/seu.official.info.
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০০২ সালে মাত্র ১০৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (এসইইউ)। মাত্র পাঁচ বছরের...
