ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
মুস্তাফা ইসলাহী

ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
কত্ত বড় পাকা সে
ডাকলে কাছে না না করে
দাদা নাকি কাকা সে?
ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
মাঠে, গাঁয়ে, ঢাকা সে
রঙে রঙে কারুকাজে
পুরো দেহ আঁকা সে।
ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
কখনো স্থির, বাঁকা সে
এত বিশাল জায়গা পেয়ে
আরো খুঁজে ফাঁকা সে।
ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
ঘুড়িঅলার মা কাশে
মারল গুঁতো, ছিঁড়ল সুতো
পড়ল ঘুড়ি গাঁ, কাশে।

 


শরৎ এলো
হারুন অর রশীদ

শুভ্রমেঘের সাদা খামে শরৎ এলো নীলাকাশে
নদীর ধারে কাশের বনে বকের সারি হাওয়ায় ভাসে।
জোনাকিরা পিদিম জ্বালে মিটিমিটি শিউলে তলে,
পদ্ম শালুক-শাপলা ফোটে হাওর বিলের স্বচ্ছ জলে।
মেঘের দেশে নীলাকাশে হরেক রঙ খেলা করে,
সবুজ মাঠে ঘাসের ডগায় শিশির যেন মুক্তো ঝরে।
আলো ছায়ায় মেঘের মায়ায় ঝিকিমিকি শরৎকাল,
জুঁই-চামেলী, টগর, বেলি ঘ্রাণে মাতায় পাকা তাল।
বাতাস এসে ঢেউ খেলে যায় কচি ধানের ক্ষেতে ক্ষেতে
দস্যি ছেলে উঠল মেতে রঙিন ঘুড়ি লাটাই হাতে।
ভাদ্র-আশ্বিন মাসের ডানায় ঋতুর রানী শরৎ এলো
রঙের মেলায় ফুলের ডালায় প্রকৃতি অপরূপ হলো।

 


দেশের কোলে
বেণীমাধব সরকার

আরব গেলাম দুবাই গেলাম
গেলাম আমেরিকাতে
টাকার উপর বসে থেকেও
মন পারিনি টিকাতে।

ব্রিটেন ছেড়ে ফ্রান্সে গেলাম
গেলাম বটে ফিজিতে
আমি যেন ছিলাম তখন
অসুখ নিয়ে পিজিতে।

ভারত নেপাল ভুটান চষে
আরো গেলাম চিনেতে
দেশের স্মৃতি নয়ন পাতে
ভাসত রাতে দিনেতে।

অস্ট্রেলিয়া জাপান গেলাম
তার পরে যাই রাশিয়া
শান্তি খুঁজে পেলাম কেবল
দেশের কোলে আসিয়া।

 

চেনা এই মাটি
শামীম শাহাবুদ্দীন

গাছের পাতার ফাঁকে
পাখিদের ছানা,
মিটে সুরে গান ধরে
তা না না না না না।

রাখালের বাঁশিতেও
বেজে ওঠে সুর,
লাজরাঙা হাসি মুখে
গ্রাম্যবধূর।

ঘাসের ডগায় হাসে
শিশিরের জল,
শিশুরাও ফিক ফিক
হাসে অবিকল।

সবুজে শ্যামলে ঘেরা
চেনা এই মাটি,
অপরূপ সাজে তারে
লাগে পরিপাটি।

 


কাজী নজরুল
সৈয়দুল ইসলাম

আঁধারের আলো ভোরের পাখি
সুবাস ছড়ানো ফুল,
চুরুলিয়ায় জন্ম নিলেন
কাজী নজরুল।

কবিতা গানে বিদ্রোহী প্রাণে
কেউ নেই তাঁর সমতুল,
সত্য ও ন্যায়ের কবি
কাজী নজরুল।

চললে থামে না, উঁচু-নিচু মানে না
বলবে কে ভুল?
ঘূর্ণিঝড় ধূমকেতু
কাজী নজরুল।

মধুর কণ্ঠধ্বনি সবার নয়নমণি
গানের বুলবুল,
মানব প্রেমের কবি
কাজী নজরুল।

 


আমার মা
মাহমুদা সিদ্দিকা

মাগো তুমি কেমন আছো
আসবে কবে ফিরে
আমায় ফেলে কেমনে ঘুমাও
ছোট্ট মাটির নীড়ে

তোমায় নিয়ে আমার মনে
হাজার ব্যথা জমা
আল্লাহ তুমি আমার মাকে
করে দিওগো ক্ষমা।

আমি এখন চারিদিকে
দেখি শুধু আঁধার
চলার পথে তোমার স্মৃতি
অশ্রু জড়ায় আবার।

দেখে দেখে ভাবছি বসে
ভীষণ অবাক হয়ে
চাঁদ তুমি নও পরিপাটি
আমার মায়ের চেয়ে।

 

খোকা
জাকির শায়েরী

খোকা যাবে গাঁয়ের বাড়ি
গাঁও যে অনেক দূর
বাসে নাকি রেলগাড়িতে
মন সুখে ভরপুর।

নতুন জামা পরে খোকা
বাজায় কথার সুর
দাদু নানুর সঙ্গে আড্ডা
হবে কি মধুর।

কতো কিছু খাবে খোকা
সঙ্গে চানাচুর
খোকা আমি দু’জন মিলে
যাবো বহু দূর।