শরত আছে শরত নেই
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

শরত আছে শরত নেই
শরত গেছে কাজে
এই শরতে কাশফুলেরা
মুচকি হাসে লাজে!

ঘাসের ডগায় শিশির কণা
বিজলি হাসি হাসে
ফুল পাখি আর মানুষেরা
দেখতে ভালোবাসে।

আকাশেতে তারার মেলা
চাঁদও বেজায় খুশি
এই খুশিতে নাচছে দেখ
আরশি মনির পুষি!

 


মা পাখি
মাহবুব-এ-খোদা

দূর গগনে কালো মেঘে
ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে,
মা পাখিটা খাবার খোঁজে
মাঠের বুকে গিয়েছে।

ঘনঘন বজ্রপাতে
হৃদয়ে ভয় ধরেছে,
ঝড়-ঝাপটায় পাখির ছানা
ধরায় এসে পড়েছে।

শস্যদানা ছিটিয়ে দিয়ে
শিকারি ফাঁদ পেতেছে,
আটকে পড়া পাখি দেখে
শিকারি বেশ মেতেছে।

এক নিমিষে ধরে নিয়ে
খাঁচায় বন্দী করেছে,
ছানার জন্য কষ্টে পাখির
অশ্রু চোখে ঝরেছে।

দয়ামায়া পায় না খুঁজে
শিকারিদের অন্তরে,
ক্ষুধার জ্বালায় পাখির ছানা
মা পাবে কোন মন্তরে?

 


বৃষ্টিভেজা গান
শহীদুল ইসলাম ফকির

বেলকনিতে বসে আছে
বৃষ্টিভেজা পাখি,
ওদের দিকে তাকিয়ে আমার
জুড়িয়ে গেলো আঁখি।

পাশাপাশি বসছে দুজন
দিচ্ছে পাখনা ঝাড়া,
গল্পগুজব করছে যেন
নেইকো ফেরার তাড়া।

মাঝে মধ্যে ঠোঁট মিলিয়ে
করছে নাচানাচি,
ওরা আমায় ভয় করে না
এত কাছাকাছি।

চিংচাংচুং শব্দ করে
নেইকো অভিমান,
মনের সুখে গাইছে যেন
বৃষ্টিভেজা গান।

 


খুকুমণির পড়া
হাসু কবির

পড়ার সময় খুকুমণি
ইচ্ছে স্বাধীন পড়ে
পড়বে না সে কোনো কিছু
কেহ যদি ধরে।

একের পরে এক লাফে কয়
দশ এগারো বারো
বললে তারে হয়নি পড়া
ধার ধারে না কারো।

অ ই ঈ পড়তে গেলে
উল্টো পাল্টা বলে
এক নিমিষেই অ থেকে ত
শেষ করে দেয় ছলে।

অ আ’র পরে এ ঐ পড়ে
স্বরবর্ণ শেষ করে
ক খ গ পড়ার সময়
একই সে ভান ধরে।

 


ননসেন্স তিশ
কবির মাহমুদ

কুকুরে ঘাস খায়
দুধ দেয় ঘোড়া,
মুরগির ছানাতেই
ডিম এক জোড়া।

ছাগলের ঘেউ ঘেউ
হাতি মেলে ডানা,
বিড়ালকে ধমকায়
ইঁদুরের ছানা।

হরিণের উৎপাতে
বাঘেদের ভয়,
সিংহের সাফারিতে
গাধাদের জয়।

সাপে ব্যাঙে দোস্তি
হাসে পাতিহাঁস,
গাভী দেয় ষাঁড়কে
চড় ঠাসঠাস।

শিয়ালের সাথে বেজি
করে ফুসফুস,
কুমিরের লাফালাফি
দেখে ফিরে হুশ।

কোকিলের কণ্ঠে
কাকে দেয় শিস,
এভাবে বারো মাসে
দিন হয় তিশ!

 

 

পরিপাটি এই দেশ
মুজাহিদুল ইসলাম

সুস্বাদু মাছ নদে
মিঠে ফল গাছে
মৌমাছি মৌচাকে
ঝিঁঝিঁ রবে নাচে।

কলতানে বয়ে চলা
নদীটির পাশে
কাশফুল ঘাসফুল
দুলে দুলে হাসে।

দূর হতে পর্বত
দেয় হাতছানি
সমুদ্র দূর করে
হৃদয়ের গ্লানি।

পাখিদের কলরব
ফুলেদের হাসি
পরিপাটি এই দেশ
খুব ভালোবাসি।