শরতের বিকেলের মিষ্টি রোদের কী চমৎকার গন্ধ। বাতাসে বাতাসে দ্যুতি ছড়িয়ে মুগ্ধ করে দেয়। বিকেলের বার্তা কানে পৌঁছলেই হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে ভিন্ন অনুভূতি। উৎসব আমেজের জুড়ি নেই। ব্যতিব্যস্ত মানুষগুলোর ক্লান্তি এসে যায়। তখন অবসর নেয় জীবন জীবিকার কর্ম থেকে। কাজ থেকে বিরতি নিয়ে গ্রামের মানুষগুলো ফিরে আপন নীড়ে। আর শহরের মানুষগুলো একটু জিরিয়ে স্বস্তির বাতাসে আনন্দ পেতে ঘোরাফেরা করে কিংবা কোথাও ভিন্ন গল্পের আড্ডায় বসে। অলস দুপুরের চিত্র পাল্টে ঋতুকন্যা অন্যরকম ফ্যাশনের শাড়ি পরে। শরতের বিকেল আসলেই ক্ষণিক সময় আনন্দ দান। প্রজাপতি ভ্রমর মন উতলায় ফুলে ফুলে খেলা করে। টুনটুনির নৃত্য অবাক করার দৃশ্য। শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ কোমল মায়াবী পরশ বিলায়। ঝিঙে ফুলেরা মুখ লুকিয়ে ফেললে কুটুম পাখির ডাক শোনা যায় না। আকাশ দিয়ে ঝাঁক ঝাঁক পাখি উড়ে যায় আপন নীড়ে। ফতফত পাখার শব্দ বাজে তখন। কিশোর কিশোরী দেখে হইচই করে। কোনো কোনো কিশোর-কিশোরী রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। সারি সারি বৃক্ষের ছায়া বিলীন হয়ে যায়। উড়ন্ত চিলের ছায়া জলে পড়ে না। মাছরাঙা মাছ ধরতে খপ ধরে। মাছ ধরে মুহূর্তেই খেয়ে ফেলে। চোখ বুজে ঝিমিয়ে পড়ে শিউলী শেফালি দোলনচাঁপা ফুল। নদীর পাড়ে আচেনা সুরে বাঁশি বাজতে থাকে। বাঁশি বলতে থাকে আমার সময় ফুরিয়ে গেছে কিছুক্ষণ পরে চলে যেতে হবে রাতের গর্ভে। পুকুর-নদী বা খাল-বিলের কিনারে জড়ো হতে থাকে জোনাকি। সন্ধ্যা ঘনালেই আলোকফুল মুখে নিয়ে পথের পথিককে পথ দেখায়। হালকা শিশিরের জলে ভিজে যায় ঘাস মৃত্তিকা। মৃত্তিকার তৃপ্তি ভরে জলপান। বাতাসে পাতা নড়লেই কুয়াশা বৃষ্টি। ক্লান্ত সূর্যটা আস্তে আস্তে ডুবার উপক্রম। সূর্য ডুবার আগ মুহূর্তে নদী বা সাগরের জলে তাকালে কী অপরূপ! দ্বীপ্তিমান সূর্যের বিদায়ী কোলাহল। শরতের সন্ধ্যা দর্শকদের কাছে খুব মোহনীয়। কেননা নীলাম্বরী শাড়ি পরে সাদা আঁচলে ঘেরা আকাশ যখন গোধূলি সোনালি রং মাখে তখন ঝলমল নাইওরির মতো মনে হয়। সারা দিন আলো দিয়ে বিদায়ের পূর্ব মুহূর্তে সূর্যের অশ্রুভেজা কান্না। কষ্ট যন্ত্রণায় বিষণœ মন।
দেখলে বুঝা যায় একটু আগেও তো মায়াবী মুখে রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিয়েছিল পৃথিবীর দিক দিগন্তে। এমন দৃশ্য দেখলে মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। মন বলতে থাকে, ডানা মেলে যদি উড়াল দিতে পারতাম। উড়ে যেতাম স্বপ্নের রঙিন সীমানায়। তখন সাধ্যের বাইরে কিছুই থাকত না। অসাধ্যের দুয়ার ভেঙে মিশে যেতাম শরতের বিকেলের রোদে। শান্তি সুখে ঘুমাতাম ঋতুকন্যা শরতের কোলে।