অর্কদের বাসার পরের গলিতে জিসানদের বাসা। সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। অর্ক ও মিথিলা যে স্কুলে পড়ে জিসানও সেই স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন স্কুলে যেতে-আসতে তাদের দেখা হয়। স্কুল চলাকালীন সময় অভিভাবক রুমে তাদের মায়েরা একসাথে বসে গল্প করে। তাই অর্কর মায়ের সাথে জিসানের মায়ের খুব ভাব। একদিন গল্পের মধ্যে জিসানের মা বলে উঠলেন...
জানেন আপা! আমার ছেলেটার না খুব মন খারাপ।
কেন আপা? অর্কর মা প্রশ্ন করে।
আর বলবেন না, কিছুদিন আগে সন্ধ্যেবেলা আমার বাসার বারান্দায় একটি হলুদ পাখি (লাভবার্ডস) এসে বসল। সন্ধ্যে গড়িয়ে যখন একটু অন্ধকার নেমে এলো তখন কাছে গিয়ে পাখিটা ধরলাম। কিন্তু নড়াচড়া করল না, উড়েও গেল না।
মনে হলো সে ভীত ও ক্ষুধার্ত। পাখিটা রাতে ঝুড়ি দিয়ে ঢেকে রাখলাম। লাইট জ্বালিয়ে চাল খেতে দিলাম। একটি দানাও খেলো না। শুধু পানি খেলো। খুব মায়া লাগল পাখিটির জন্য। মনে হলো পথ হারিয়ে ভয় পেয়েছে। এত সুন্দর পাখি যদি বিড়াল খেয়ে ফেলে তাই অর্কর বাবা পরদিন একটি খাঁচা কিনে আনলেন। তার মধ্যে পাখিটি বেশ ভালোই ছিল। জিসান সারাদিন পাখিকে খাবার দিত, পানি দিত। পাখি নিয়ে তার যে কি ব্যাকুলতা। ওর বাবা বলল...
পাখিটির আরেকটি বন্ধু দরকার। তোমাকে এর জন্য আরেকটি বন্ধু পাখি এনে দেবো। তাহলে ডিম দেবে, বাচ্চা হবে। তখন অনেক পাখি হবে।
জিসান তো মহাখুশি। কিন্তু কপাল মন্দ। একদিন খাবার দেয়ার সময় পাখিটা উড়ে গেল। আর ফিরে এলো না। জিসান এখন শূন্য খাঁচার দিকে তাকিয়ে থাকে। লুকিয়ে কাঁদে।
আসলে পাখিকে মানুষ যতই ভালোবাসুক পাখি কি তা বোঝে বলুন? ওর কাজ হলো উড়ে চলা। কোথা থেকে এলো আবার কোথায় যেন উড়ে চলে গেল। ওর বাবা বলেছে...
মন খারাপ করো না। তোমাকে আমি একজোড়া পাখি কিনে দেবো।
কিন্তু ওই হলুদ পাখিটার মায়া ছাড়তে পারে না জিসান।
অর্কর আম্মু চুপ করে রইল। একটি কথাও বলল না। তার বুঝতে বাকি রইল না, তাদের হলুদিয়া জিসানদের বাসায় গিয়েছিল। সুযোগ পেয়ে আবার বাসায় ফিরে এসেছে। অর্কর মা বাসায় এসে তার স্বামীকে সব কথা খুলে বললেন। পরদিন তিনি দু’টি হলুদ পাখি কিনে আনলেন এবং স্ত্রীর হাতে দিয়ে বললেন...
পাখি দু’টি আমি জিসানকে উপহার দিলাম।
পাখি পেয়ে জিসানের মা অবাক হয়ে বললেন, আপা এটি কী করেছেন? ওর বাবা-ই কিনে দিত।
আপা, জিসানের কথা শুনে আমার বড্ড মন খারাপ হলো, তাই দিলাম। আপনার ছেলেকে আমি কিছু দিতে পারি না? মিথিলা ও অর্ক পাখি নিয়ে খুব ভালো সময় কাটায়। দেখবেন জিসান খুব খুশি হবে।
আর হলো তাই। জিসান এখন তার পাখি নিয়ে মহা ব্যস্ত সময় পার করছে। পাখিরা সারাদিন খাঁচার মধ্যে নেচে বেড়ায়। আর কিচিরমিচির কূজনে মাতিয়ে রাখে সারা বাড়ি।