বাংলাদেশে দুই ধরনের পানকৌড়ি দেখতে পাওয়া যায়। ছোট পানকৌড়ি আর বড় পানকৌড়ি। বড় পানকৌড়ি অপেক্ষাকৃত বিরল। ছোট পানকৌড়ি দেখা যায় ইন্দোনোশিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, ভুটান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, লাওস, শ্রীলঙ্কা। সাধারণত কোনো না কোনো জলাশয়ের ধারে বসবাস করে। তার কারণ মাছ এদের প্রধান খাদ্য। এদের দৈর্ঘ্য ৫৫ সেন্টিমিটার এবং গড় ওজন ৪৪২.৫ গ্রাম। আকারে কাকের চেয়ে একটু বড় এবং পালকের রঙ কালো। ঠোঁট হাঁসের মতো বড় ও ছড়ানো আর লেজ বেশ ছড়ানো। প্রজননের সময় গাছে বাসা তৈরি করে। চার থেকে পাঁচটি নীল-সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। পুরুষ-স্ত্রী পালা করে ডিমে তা দেয়। তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ৩৫-৪০ দিনে বাচ্চারা উড়তে শেখে। তবে ডানা গজানোর পর থেকে বাচ্চারা ওড়ার চেষ্টা করে। উড়তে শেখার পর মা-বাবা ডুব সাঁতারের ট্রেনিং দেয়। তিন বছর বয়সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়।
বড় পানকৌড়ি ছোট পানকৌড়ির চেয়ে একটু বড়। ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ ও ভারত এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরাও কোনো কোনো জলাশয়ের ধারে বসবাস করে। একসাথে ১০-১২টিও দেখা যায়। আবার কখনো কখনো একা বসে থাকতেও দেখা যায়। এদের দৈর্ঘ্য ২০-২১ ইঞ্চি। এদের ঠোঁট হাঁসের মতো বড় ও ছড়ানো। লেজও বেশ ছড়ানো। দেহে কালোর ভিতর ছিটা সাদা রঙ দেখা যায়। প্রধান খাদ্য মাছ। একবারে তিন-চারটি নীল সবুজ রঙের ডিম পাড়ে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ প্রজাতির পানকৌড়ি দেখতে পাওয়া যায়। সবার দেহে কালো রঙের প্রাধান্য রয়েছে। এরা দক্ষ সাঁতারু ও ডুবুরি। একটানা ১ মিনিট পানির নিচে থাকতে পারে। পরিষ্কার পানির নিচে ২ মিটার পর্যন্ত পরিষ্কার দেখতে পায়। ডলপিনের মতো স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে পানির নিচে। ডুব দিয়ে মাছ বা খাবার পেলে সাথে সাথে ভুস করে পানির ওপর ভেসে ওঠে। পেটে করে মাছ এনে তা বমি করে ঢেলে দেয় এবং বাচ্চারা খায়। ডুব দিয়ে মাছ ধরে বলেই এদের ঠোঁট পা ও লেজ হাঁসের মতো। কিছুক্ষণ পানিতে থাকার পর ডাঙায় বা গাছের ওপর ডানা মেলে তা রোদে শুকাতে হয়।
পানকৌড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য- কালো কুচকুচে এক বড় শান্ত পাখি। উত্তেজিত হলে জেগে যায়। চোখ লাল, লেজ লম্বা, পা খাটো, ঘাড় লম্বা,শক্ত লম্বা ঠোঁট। উপরের ঠোঁট নিচের ঠোঁটের চেয়ে একটু বড় এবং ঠোঁটের সামনের ভাগ বাঁকা। বড়শির মতো ধারাল। মাথায় ঝুঁটি পালক আছে। ৫০ বছর আগেও বাংলাদেশের ছোট-বড় বিল, ঝিল, পুকুর, দিঘি, জলাশয়, ধানক্ষেত, হাওর, বাঁওড়, ডোবা-নালা, মজা ও নদী সব জায়গাতেই এদের অবাধ বিচরণ ছিল। বর্তমানে বিল, হাওর-বাঁওড়, কাপ্তাই লেক এবং মোহনা বা খাড়ি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। কারণ দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। আগের সেই জলাশয়ও নেই। মানুষ জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করছে। আবার আগের মতো মাছও নেই। তার কারণ ফসলের মাঠে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারে জলজ পোকামাকড়, ব্যাঙ, মাছ ও মেটেসাপ দ্রুত কমে গেছে। খাদ্যাভাবে ক্রমাগত কমে যাচ্ছে পানকৌড়ির বিচরণ স্থান। আর এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলাদেশের অতি পরিচিত পাখি পানকৌড়ির বিলুপ্তি ঘটবে।
পানকৌড়ির বিষ্ঠা থেকে উৎপন্ন সার গুয়ানো একটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে যথেষ্ট সমাদৃত। পানকৌড়ি মেয়ে পুরুষ দেখতে প্রায় একই রকম। পানকৌড়ির ডাক শোনা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তবে বাসা বাঁধার সময় কর্কশ স্বরে এরা ডাকে। কাশির মতো চাপা আওয়াজ। জোরালো নয় হুপ হুপ ধরনের।
বাংলাদেশে দুই ধরনের পানকৌড়ি দেখতে পাওয়া যায়। ছোট পানকৌড়ি আর বড় পানকৌড়ি। বড় পানকৌড়ি অপেক্ষাকৃত বিরল। ছোট পানকৌড়ি দেখা যায় ইন্দোনোশিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, নেপাল,...
