সবার মুখে বিজয় ধ্বনি
শফিকুল আলম সবুজ

পাখির মুখে বিজয় ধ্বনি ফুলের মুখে হাসি
সকাল-সন্ধ্যা বলছে তারা দেশকে ভালোবাসি।
নদীর বুকে বিজয় মিছিল মুক্ত তাদের ঢেউ
যাচ্ছে চলে ঠিকানাহীন দেয় না বাধা কেউ।

পাহাড় ঘেঁষে যায় হারিয়ে আঁকাবাঁকা পথ
যাচ্ছে কোথায় দূর অজানাই থামছে না আর রথ।
ঝর্ণা বয়ে যাচ্ছে ঠিকই অজানা এক দেশে
ডিসেম্বরে বিজয় দিবস বলছে যেন হেসে।

হিংস্র পশু বাস করে সব ওই সুন্দরবনে
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সাহস আনে মনে।
এইতো স্বাধীন রাষ্ট্র আমার এই ডিসেম্বর মাস
সব মানুষের ভাবনাজুড়ে এখন যে উল্লাস।

 


বিশ্বকাপ
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

চার বছর পরে পরে
আসে বিশ্বকাপ
কেউ নাচায় কেউ নাচে
ওরে বাপরে বাপ!

বিশ্ব জুড়ে উন্মাদনা
ছেলে-বুড়োর দল
মেসি নাকি নেইমার
জিতবে কে রে বল।

বাড়ি বাড়ি পতাকা
ভাই বোনে দল
মিলেমিশে সবাই দেখি
বিশ্বকাপ ফুটবল।।

 

 

ইচ্ছে করে
মেহেদী হাসান অন্তর

ইচ্ছে করে সবার সাথে বলতে
ছোট্ট শিশুর হাসির রেখায় চলতে
দেশ-বিদেশে মনের সুখে ঘুরতে
আনন্দে আজ আকাশ পানে উড়তে।

ইচ্ছে করে চাঁদের দেশে যাইতে
ছোট্ট তারার সুখের ছোঁয়া পাইতে

২.
ইচ্ছে করে বলতে কথা ফুলের সাথে
থাকতে জেগে পূর্ণিমার ওই চাঁদনি রাতে

ইচ্ছে করে ছুটে বেড়াই নদীর বাঁকে
সবুজ ঘন ধানের ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে

ইচ্ছে করে থাকতে আমার সবুজ দেশে
চলবো আমি সবার সাথে হেসে হেসে
থাকবে মানুষ সবাই সঠিক জ্ঞানে ভেসে
রইবো আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশে।

নীল আকাশে জ্বলছে আজি লালচে রবি
ইচ্ছেরা তাই আঁকছে মনে রঙিন ছবি।

 

 

খুশির বিজয়
শাহানাজ পারভীন

বিজয় এলো বিজয় এলো
জয়ের ধ্বনি বাজছে,
ফুল-পাখিরা মুক্তমনে
লাল- সবুজে সাজছে।

সোনার ছেলের রক্ত জলে
রক্তে নদী ভাসছে,
উড়াই নিশান বাজায় বিষাণ
মাঠ ফসলে হাসছে।

টকটকে লাল রবির আলো
টগবগিয়ে উঠছে,
কালো কালো গোলাপেরা
রক্ত হয়ে ফুটছে।

আঁধার জীবন আলোয় ভরে
দামাল ছেলে ঘুরছে,
বিজয় বেশে মুক্ত কেতন
অহঙ্কারে উড়ছে।

 

 


এই পতাকা
সাকী মাহবুব

এই পতাকা আনতে গিয়ে
ভাঙলো সুখের ঘর
এই পতাকা আনতে গিয়ে
রক্তে নদী চর।
এই পতাকা আনতে গিয়ে
মায়ের চোখে জল
এই পতাকা আনতে গিয়ে
দেশটা টলমল।
এই পতাকা আনতে গিয়ে
বাবা নিরুদ্দেশ
এই পতাকা আনতে গিয়ে
লাল হয়েছে দেশ।

 

 

স্বাধীন বাংলা
শরিফ আহমাদ

নিত্য মাঠে কাজ করে যায়
ঘাম ঝরিয়ে চাষি
সোনার ফসল তোলার আগে
মুছে মুখের হাসি।

পশ্চিমারা সব নিয়ে যায় চলে
গরিব চাষি ভাসে চোখের জলে।

কথা বলার নেই অধিকার
বন্ধ স্বাধীন চলার
জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে
চেপে ধরে কলার।

হঠাৎ রাতে আবার করে হানা
এই ঘটনা সবার হলো জানা।

প্রতিবাদে জাগলো সবাই
ছুটলো তুমুল বেগে
পাকবাহিনীর সাথে তখন
যুদ্ধ গেলো লেগে।

রক্ত নদী ঝরে বিজয় এলো
স্বাধীন বাংলা সবাই বুঝে পেল।

 


দুষ্টু শিয়াল
মো: এনামুল হক

হাঁস মুরগি ছাগল ছানা
খাঁচায় আছে বন্দী,
অতি চালাক শিয়াল মামা
আঁটে শুধু ফন্দি।

টিনের চাল আর কাঠের বেড়া
খাঁচার দরজা বন্ধ,
খাঁচার ভেতর বতক ছানার
শিয়াল পেলো গন্ধ।

শিয়াল মামা মস্ত পণ্ডিত
হিসেবে খুব পাকা,
ধরতে শিকার শিয়াল মামা
রাস্তা করে ফাঁকা।

খাঁচার দরজা খুলে শিয়াল
আনন্দে খুব নাচে,
হাঁস মুরগির ছোটাছুটি
কেমনে তারা বাঁচে।

হাঁস মুরগির শব্দ শুনে
মালিক করল তাড়া,
বললো মালিক দুষ্টু শিয়াল
একটু সময় দাঁড়া।

অতি চালাক শিয়াল পণ্ডিত
দাঁড়িয়ে থাকার নয়,
খপ করে হাঁস ধরেই ছোটে
দৌড় সে কারে কয়।