ছাত্র জামানায় ছুটি মানেই আনন্দ। মুক্ত আকাশে ডানা মেলে ওড়ার দুরন্ত স্বপ্ন। ঠিক এবারের ছুটিতেও ছিল মনোমুগ্ধকর এক সফরের গল্প। আমাদের ছোট্ট কাফেলা পা বাড়ায় সমুুদ্রপুত্র কক্সবাজারের পথে। উদ্দেশ্য ‘সামুদ্রিক দ্বীপ বাঁশখালী’। কক্সবাজার ফিশারিজ ঘাট থেকে খরস্রোতা ‘প্রবাল’ বারো মাইল দক্ষিণে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়েছে। আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য আদিনাথ পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়া দানিয়ালে আরোহণ। এর জন্য আমাদের পাড়ি দিতে হবে তীরহারা দরিয়ার শত শত মাইল। উত্তাল সমুদ্রের তাবত ঢেউয়ের গর্জন। কাঁকর বিছানো বন্ধুর গিরিপথ। মৃত্যু উপত্যকা। এক অনিশ্চিত পদযাত্রা। তবে আমরা আমাদের লক্ষ্যে স্থির। রাতের প্রথম প্রহরেই আমাদের নাওয়ের মাঝি বাঁশখালীর অভিমুখে বৈঠা চালায়। এক শ্রান্ত হিমেল চাঁদনী রাত। দূর নীলিমায় মিটিমিটি হাস্যরত চাঁদকে ঘিরে অসংখ্য তারার মেলা বসেছে। আমরা নাওয়ের পাটাতনে গল্পের পসরা মেলে ধরলাম। ছোট-বড়, অসংখ্য দ্বীপ পেরিয়ে নাও এখন দরিয়ার উত্তাল তরঙ্গে দুলছে। চার দিকে অথই পানি। ঝিরঝির বাতাস বইছে। ধীরে ধীরে তা ঝড়ো বাতাসে রূপ নেয়। পাহাড় সব ঢেউয়ের তরঙ্গ যেন নৌকার মাস্তুল ভেঙে ফেলবে। শত ঝড়ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ রাতের আঁধার পেরিয়ে আমরা পা রাখি বাঁশখালীর সামুদ্রিক উপকূলে। সে যে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য! ছোট্ট দ্বীপটাকে ঘিরে ঢেউয়ের মাতম খেলছে। এ যেন সূর্য মেঘের লুকোচুরি। প্রায় দুই ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর সফর শেষে আমাদের জাহাজ নোঙর করে আদিনাথ পর্বতের পাদদেশে। এটি দেশের একমাত্র সামুদ্রিক পর্বত। ছোট বড় অসংখ্য গিরিপথ মাড়িয়ে আমরা পা রাখি আদিনাথের সর্বোচ্চ চূড়ায়। গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘরাশি পাহাড় ঘিরে আলিঙ্গন করছে। এ যেন হাজারো বছরের মধুর মিতালি। দৃষ্টির অদূরে সন্ধ্যা নেমেছে আরো আগে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা দল বেঁধে ঘরে ফিরছে। মহাকালের সে তরঙ্গ ছন্দে সুর বেঁধে আমরাও কদম ফেলি নীড়ের খোঁজে...।