কুমিরের গ্রামদর্শন
সায়ীদ আবুুবকর
এক পায়ে দুই পায়ে
কুমির এলো গাঁয়ে
ঘাড়টা উঁচু করে তাকায়
ডানে এবং বাঁয়ে
রাত তখন নিজঝুম
গাঁ জুড়ে ভাতঘুম
শুধু একটা কুকুর পথে
করছিল ঘেউ ঘেউ,
আর ছিল না কেউ।
যার বাড়ি সে যায়
দরজা বন্ধ পায়।
কোনো দিশে না পেয়ে সে
ফিরে গেল জলে;
ফিরে গিয়ে বলে,
‘শোনো কুমিরগণ,
কোথায় মানুষজন?
জলের উপর ওই গাঁয়েতে
থাকে না তো কেউ
শুধু একটা কুকুর করে
সবখানে ঘেউ ঘেউ।’
সোনার টুকরো ছেলে
শাহরিয়ার শাহাদাত
মন হয়ে যায় উদাস-মুদাস
বুক করে চিন-চিন
কই হারালো কিশোর বেলা
চড়ুইভাতির দিন?
কোথায় আমার নাটাই-ঘুড়ি
কে নিয়েছে লুটে?
কাটতো বিকেল কানামাছি
বৌচি-গোল্লাছুটে।
দস্যিপনার দিনগুলো কই
দুপুর রোদের ঘুড়ি,
পাখির বাসা খুঁজতে গিয়ে
হাওয়ার তালে উড়ি।
পাই না খুঁজে খালের ওপর
ভুদুম বাঁশের সাঁকো,
ভরদুপুরে ব্যাতিন বিলের
তিলাঘুঘুর ডাকও!
লাল পিঁপড়ার ডিম খুঁজেছি
মাটি ডাঙার বিলে,
বড়শি ফেলে মাছ ধরেছি
দলখোলিয়া ঝিলে।
ইচ্ছে করে কিশোর বেলায়
যাই ছুটে সব ফেলে,
মা বলবে কোথায় রে তুই
সোনার টুকরো ছেলে?
বাবাই সেরা
গোলাম সরোয়ার
প্রিয় বাবা তোমার মাঝে
শান্তি খুঁজে পাই,
তোমার চেয়ে আপন কেহ
এ দুনিয়াই নাই।
তুমি আমার মুখের বুলি
প্রিয় খেলার মাঠ,
তোমার শাসন হাসিমুখে
ঘুচায় আমার পাঠ।
ভুল হলে শুধরে দাও
মায়ার হাতটি ধরে,
শত আবদার করো পূরণ
ভালোবাসায় ভরে।
আমার বাবা সেরা বাবা
সেরা বাবার মন,
আল্লাহ তুমি কবুল কর
আমার মনের পণ।
তীব্র শীত
গিয়াস হায়দার
তীব্র শীতে কাঁপছে জীবন
ঝরছে গাছের পাতা
বুড়োবুড়ি জড়িয়ে রাখে
লেপ কম্বল কাঁথা।
খেজুর গাছে ঝুলছে হাঁড়ি
খাচ্ছে নানান পাখি
খোকা-খুকি লেপ মুড়িয়ে
মেলছে দু’টি আঁখি।
পথকলি পথের ধারে
কাঁপছে তীব্র শীতে
গায়ের পুরান জামা কাপড়
বলছি তাদের দিতে।
রোদ-বৃষ্টি বন্যা-খরা
সবই খোদার দান
তীব্র শীতে জীবন বাঁচান
আল্লাহ রহমান।
শীতবস্ত্র
নূরুন্নাহার নীরু
শীতের সকাল
বড্ড আকাল
রাতটা বেজায় হিম,
কুহেলিকা
শিশির মাখা
হিমেল হাওয়া ঝিম।
ঝিম ঝিমানি
রিম রিমানি
অলসতার ঘাট,
পথের ছেলে
খেলা ফেলে
বাঁচতে বালাইষাট।
হাঁড় কাঁপানো
হৃদ ঝাঁপানো
বদলে দেরে ব্যোম,
শীতবস্ত্রটা
গায়ে সাঁপটা
পথশিশুটার ওম।
বছর প্রতি
শীতের গতি
নাশ করে দে মন,
মানবতার
সহিষ্ণুতার
সমাজ গড় এখন।
সরষে ফুলের হাসি
রুমী খান
শীত এসেছে ফুল ফুটেছে
হাসছে সরষে ফুল
কে বলেছে নেই সুরভি
হয় না যে এর তুল।
মিষ্টি রোদে সরষে ফুলও
কী যে দারুণ হাসে
দখিন হাওয়ায় সরষে দুলে
ফুলের সুবাস আসে।
সোনালি রোদ ঝিকিমিকি
সরষে ফুলে হাসি
এমন দারুণ হলুদ শোভা
বড্ড ভালোবাসি।
সর্ষেক্ষেতে
সরোয়ার রানা
বটের ছায়ায় রাখাল বাজায়
মন কাড়া এক সুর
নীল আকাশের নিচে দেখি
হলুদ সমুদ্দুর।
সর্ষেক্ষেতের শোভা আহা
ভ্রমর করে গান
অলিরা সব আসছে ছুটে
ভরছে মন ও প্রাণ।
নদীর কূলে বসা মেলায়
আনন্দে যে মাতি
সবুজ ক্ষেতের অপার মায়া
ডাকছে দিবস রাতি।
সাঁঝের বেলা দোয়েল তোলে
মোহন বাঁশির সুর
ঘোরের মাঝে হারিয়ে আমি
যাই যে অচিনপুর।
