শীতের কাব্য
গোলাম রব্বানী টুপুল
কুয়াশায় ঢেকে আছে
আজ সারা দেশটা
লেপ-কাঁথা দিয়ে গায়ে
ভালো থাকার চেষ্টা।
ভালো নেই পথশিশু
ভালো নেই অভাবী
কারো আছে টাকাকড়ি
গরিবানা স্বভাবী।
পশু-পাখি জবুথবু
বস্তির মানুষও
দেশটাও জমে আছে
উড়ে নাকো ফানুশও।
উত্তরী হাওয়া বয়
ধুত্তুরি ঠাণ্ডা
চা কফি গিলে, খায়
ধোঁয়া ওঠা আণ্ডা।
সারাদিনে কাজ নেই
গোবেচারা ভোম্বল
রাস্তাতে শুয়ে কাটে
মুড়ে দিয়ে কম্বল।
খড়কুটো জ্বেলে কেউ
বলছেন এই বেশ
সবখানেই একই ছবি
থমকেছে এই দেশ।
যেতেই হবে দূর
নূর মোহাম্মদ
ঊষার মতো
ফুলের মতো
হাসতে যদি হয়,
তাহলে নিশ্চয়!
শিখতে হবে
লিখতে হবে
জানতে হবে
মানতে হবে
খুব।
ভালোভাবে
স্বপ্নবুনে
জ্ঞান সাগরে
মনে প্রাণে
দিতেই হবে
ডুব।
তারার মতো
চারার মতো
জাগতে যদি হয়,
তাহলে নিশ্চয়!
হাঁটতে হবে
খাটতে হবে
বুঝতে হবে
খুঁজতে হবে
নূর।
রুদ্ধ দুয়ার
মেলে মেলে
স্বপ্নগুলোর
দ¦ীপ্তি জ্বেলে
যেতেই হবে
দূর।
টুন টুনা টুন টুন
দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু
টুন টুনা টুন টুন
গান গায় গুন গুন
থাকে গৃহ কোণে
টুন টুনা টুন টুন
কাছে ডাকে যেই মুন
যায় ছুটে বনে।
টুন টুনা টুন টুন
পায়ে গাদা চুন
কোত্থেকে এলো?
টুন টুনা টুন টুন
পানবুড়ি রেগে খুন
প্রাণ বুঝি গেল!
মাঘের শীত
মাহবুব-এ-খোদা
মাঘের শীতে বাঘে কান্দে
প্রবাদবাক্য কয়,
হিম বাতাসে ঠাণ্ডা লেগে
মুখটা মলিন হয়।
যায় না দেখা কোনোকিছু
বরফ জমা ঘর,
তীব্র শীতে গরিব-দুখীর
ভাগ্য করে পর।
বিত্তশালী মানুষ যারা
দাও বাড়িয়ে হাত,
শীত হবে না বস্ত্রহীনের
যন্ত্রণারই ফাঁদ।
তোমার দানে ওদের প্রাণে
উঠবে জেগে সুখ,
বস্ত্র গায়ে তাড়িয়ে দেবে
বাঘ কাঁদানো দুখ।
পথশিশুদের শীত
রফিকুল নাজিম
শীতটা এলে সর্ষেক্ষেতে
হাজার ভোমর নাচে,
পথের পাশে লাখো শিশু
খালি গায়েই বাঁচে।
পথের পাশে শীতে কাঁপে
পান্তা পেলেই খুশি,
লাখো টাকা দিয়ে আমরা
কুকুর কিনে পুষি।
গরম কাপড় তাদের গায়ে
দিতাম যদি তুলে
হাসতো তারা ঠোঁট বাঁকিয়ে
কষ্ট যেতো ভুলে।
সরষে ফুলের ঘ্রাণে
শাহনেওয়াজ মিঠু
পুবের আকাশ উঠলো জেগে ছুটল মাঠে খোকা
সর্ষে ফুলের হলুদ সাগর নয়তো থোকা থোকা
ফুলের নরম গন্ধে যে কেউ মাতাল থাকে রোজ
ঘ্রাণের হাওয়া তাই তো বুঝি পেল খোকার খোঁজ
হাজার হলুদ পাপড়ি হেসে ডাকল খোকা আয়
অমনি উতল সরল কিশোর শিশির ধোয়া পায়
মৌমাছিদল গুনগুনিয়ে ফুলের কানে কানে
বলল খোকার গান শোনাবো তোমার পরশ বানে
দেখার নেশায় ঢেউ খেলে যায় খোকাবাবুর প্রাণে
শীতের রোদে বুক ভরে তার সর্ষে ফুলের ঘ্রাণে
পড়ো তোমার রবের নামে
গোলাম আজম খান
পড়ো তোমার রবের নামে
সৃষ্টি তুমি যার,
বন বনানী পাহাড় নদী
অনুগত তার।
তার হুকুমে তামাম জাহান
এক ইশারায় চলে,
বৃক্ষরাজি ফুল ও ফলে
তারই কথা বলে।
হুকুম ছাড়া সৃষ্টিকুলে
নড়ে না এক চুল,
সৃষ্টির সেরা হয়ে তবু
করি হাজার ভুল।
ভুলগুলো তাই শুধরে নিতে
রবের কালাম পড়ি,
দ্বীনের পথের রজ্জুটাকে
শক্ত করে ধরি।
