অনেককাল আগে এক কৃষক ছিলেন। তার কাজ ছিল রাজার বাড়িতে। তিনি রাজার বাগানে ফুল-ফলের গাছ লাগাতেন। রাজা বাগানে হাঁটতে ভালোবাসতেন, তাই কৃষকের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতেন।
একদিন রাজা বাগানে বেড়াতে গেলেন। দেখতে পেলেন কৃষক একটা কাঁঠালগাছের কাছে বসে কাঁদছেন। রাজা কৃষককে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। প্রথমে কৃষক রাজি হলো না বলতে; কিন্তু বারবার জানতে চাইলে কৃষক রাজাকে বললেন, আমি কাঁঠালগাছের নিচে একটি পাত্র পুঁতে রেখেছিলাম। আমার ২০ বছরের কষ্টার্জিত অর্থ জমা করেছি। আমার বার্ধক্যের জন্য রাখা; কিন্তু কেউ আমার পাত্র চুরি করেছে। এখন আমি কী করব?
কৃষক খুবই দুঃখের সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এখানে স্বর্ণসহ হাঁড়ি রেখেছেন কেন?
কৃষক বললেন, আমি এখানে সারা দিন কাজ করি। আমি ভেবেছিলাম এটি একটি নিরাপদ জায়গা, তাই আমি এখানে কাঁঠালগাছের নিচে পুঁতে দিয়েছি।
রাজা বললেন, যে আপনার পাত্রটি চুরি করেছে, আমি তাকে খুঁজে বের করব।
কিছুদিন রাজা অনেক ভাবলেন, এমন লোক আর কে হতে পারে যে কাঁঠালগাছের নিচে খনন করবে। এরপর রাজদরবারে রাজা কৃষকের হাঁড়ি চুরির ঘটনা জানালেন। মন্ত্রী বললেন, রাজা মশায় আমার পেটে ব্যথা। কয়েক দিন আমি শয্যাশায়ী ছিলাম। এসবের আমি কিছুই জানতাম না।
রাজা জিজ্ঞেস করলেন, আপনার পেটে ব্যথা হলো কিভাবে?
মন্ত্রী বললেন, আমার স্ত্রী একটি খাবার তৈরি করেছেন, খাবারের উপকরণ তার মাতৃগৃহ থেকে এনেছে। সেই খাবার খাওয়ার পর থেকেই পেটে খারাপ হয়।
উজির বললেন, রাজা সাহেব, মন্ত্রী সাহেবের কোষ্ঠকাঠিন্যের অভিযোগ আছে।
রাজা মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিভাবে সুস্থ হয়েছেন?
মন্ত্রী বললেন, একজন ডাক্তার আছেন, তার কাছ থেকে ওষুধ নিয়েছি। ওষুধ ব্যবহার করে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছি।
রাজা ওই ডাক্তারকে ডাকতে বললেন। ডাক্তার এলেন। রাজা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি মন্ত্রীকে কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ দিয়েছেন?
ডাক্তার বললেন, হ্যাঁ, আমি ওষুধ দিয়েছি। রাজা মশায় আপনি যদি ওষুধ চান, তাহলে আপনার জন্যও এমন ওষুধ তৈরি করতে পারি।
রাজা বললেন, আপনি ওই ওষুধটা কিভাবে তৈরি করলেন?
ডাক্তার বললেন, আমি কাঁঠালের মূলের নির্যাস দিয়েছি।
রাজা বললেন, কাঁঠালের মূলের নির্যাস খুবই বিরল।
ডাক্তার বললেন, প্রাসাদের বাগানেই একটি কাঁঠালগাছ আছে।
রাজা ডাক্তারকে পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ডাক্তার সত্য কথা বললেন, আমি শিকড় খননের সময় পাত্রটি পেয়েছি, পাত্রটি এখন আমার কাছেই রাখা।
রাজা কৃষককে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার পাত্রে কয়টি স্বর্ণমুদ্রা আছে?
কৃষক বললেন, তাতে সত্তরটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল।
রাজা বললেন, তার মধ্যে দশটি স্বর্ণমুদ্রা কম পাবেন কারণ আপনি অমুক স্থানে আপনার স্বর্ণমুদ্রা লুকিয়েছেন। ডাক্তার সত্য বলেছেন। তার জন্য ডাক্তারকে দশটি স্বর্ণমুদ্রা দেয়া হবে।
রাজার এই কৌশল ও ন্যায়বিচারে রাজদরবারে সবাই খুশি হলো এবং তার প্রশংসা করল।
অনেককাল আগে এক কৃষক ছিলেন। তার কাজ ছিল রাজার বাড়িতে। তিনি রাজার বাগানে ফুল-ফলের গাছ লাগাতেন। রাজা বাগানে হাঁটতে ভালোবাসতেন, তাই কৃষকের সঙ্গে অনেক সময়...
