নাহিন এবার সপ্তম শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। আজ তাদের রেজাল্ট দেবে। নাহিনকে খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছে যদিও তার সবগুলো পরীক্ষাই ভালো হয়েছে। নাহিনের আত্মবিশ্বাস প্রতিবারের মতো এবারো সে ক্লাসের ফার্স্ট বয় হবে। তবুও একটু উৎকণ্ঠা তো কাজ করেই।
দুপুর ২টা। নাহিন রেজাল্ট শোনার জন্য স্কুলে হাজির। হেড স্যার রেজাল্ট শিট নিয়ে মঞ্চে উঠলেন। রেজাল্ট বলতে শুরু করলেন। নাহিন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে কখন তার রেজাল্ট বলবে, তার নামটা বলবে। ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীর রেজাল্ট ঘোষণা শেষ। ষষ্ঠ শ্রেণীর ফার্স্ট বয় যে হয়েছে সে তার রেজাল্ট শুনে খুবই উৎফুল্ল। নাহিন ছেলেটির দিকে দেখছে। এবার নাহিন একটু এগিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে বলল, তোমার রেজাল্ট শুনে তোমাকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শুনলাম না! শোনো, যতই উৎফুল্ল হও না কেন ভালো খবর শুনে প্রথমেই আলহামদুলিল্লাহ বলবে। কারণ এটি তোমার কোনো কৃতিত্ব নয়। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য অনুগ্রহ মাত্র। তাই আল্লাহর শুকরিয়া সবার আগে আদায় করতে হবে। ছেলেটি একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নাড়িয়ে নাহিনের কথায় সায় দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলল।
নাহিনের অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। হেড স্যার ঘোষণা করলেন, ‘এবার সপ্তম শ্রেণী থেকে যারা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের নাম ঘোষণা করছি। রোল নম্বর ১ নাহিন।’ নাহিন উৎফুল্ল হয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলল, আলহামদুলিল্লাহ। হেড স্যার সবাইকে হাত তালি দিয়ে নাহিনকে অভিনন্দন জানাতে বললেন। নাহিনকে মঞ্চে ডাকলেন হেড স্যার। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করলেন, ‘অনেক বড় হও নাহিন। তোমার ভালো ফল প্রতিবারই আমাদেরকে আনন্দিত করে। তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’ এরপর এক এক করে স্যার, ম্যামদের থেকে দোয়া নিয়ে নাহিন মঞ্চ থেকে নামল।
বাড়ি ফিরেছে নাহিন। ঘরে ঢুকে প্রথমে মাকে সালাম দিলো। বাবা জিজ্ঞেস করলেন রেজাল্টের কথা। নাহিন বলল। শুনে বাবা বুকে জড়িয়ে দোয়া করলেন। মাও ছেলের জন্য দোয়া করলেন। এভাবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এরপর নাহিন এশার নামাজ পড়ে খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে গেল। কারণ কাল সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। স্কুলে যেতে হবে। হাতে পাবে নতুন নতুন বই। সে কী আনন্দের হবে দিনটি!
ভোরের সূর্য উঠছে। নাহিন ফজর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে মাঠের মাঝ দিয়ে হাঁটছে। আজকের সূর্যটা নাহিনের কাছে এক অন্যরকম সুন্দর লাগছে। জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে আজ। নতুন ক্লাস শুরু হবে আজকে থেকে। নতুন ক্লাসের নতুন বই হাতে পাবে। আজ থেকেই ভালো করে পড়ালেখা শুরু করবে নাহিন। নাহিন মনে মনে বলে, ‘নতুন দিনের সূর্যটার মতো আমাকেও জ্বলে উঠতে হবে, ছড়াতে হবে জ্ঞানের আলো।’