মাহবুব হাসান
সফেদার ভোর
সফেদার মতো হালকা সুগন্ধী ভোর
আমাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল
কূলকিনারাহীন মহাকাশে অচেনা সাগরের নীলিমায়!
তুমি সেখানেই আছো হে রাহমান?
তোমার নির্ভার দিগন্তের কোনাকানছি থেকে
ভেসে আসছে আজান, লাবণ্যে মাখা ধ্বনিগুচ্ছ
আহ্বানের এমন সুর হতে পারে, তা কি জানতাম আমি?
আমি জায়নামাজের মখমলে দাঁড়িয়ে সুস্থির-
বললাম তুমি শ্রেষ্ঠ!
আমার আর কোনো প্রভু নেই।
তখনো ভোর তার আলোর দিগন্তে মেলে দেয়নি
মানুষের কোলাহলময় সকাল।
কাজে যাওয়ার জন্য যারা চৌকি থেকে উঠে গেছে
উঠোনের ভেজা সোঁদা গন্ধে ডোবা সকাল আমাকে যেন
চাদরের মতো মেলে দিয়েছে সপ্তম আকাশের আকশিতে,
আমি হতবাক এক বর্ণাক্ষরের শ্রমজীবী
চেতনার নালা-নর্দমা সাফ করে
আজ কী ক্লান্ত? কে জানে?
জাহাঙ্গীর ফিরোজ
হিজল ফুলের ঘ্রাণে
একটি দুপুর থমকে আছে
লেবু ফুলের ঘ্রাণে
রাত এখনো দাঁড়িয়ে আছে
বাবার কবর ঘেঁষে
হাসনাহেনার গন্ধ আসে ভেসে।
পা বাড়ালে গোলাপ ঝাড়ে ভোর
গন্ধরাজও দাঁড়িয়ে আছে পাশে
মায়ের আঁচল থেকে যেন
পড়ছে বকুল খসে।
একটি সকাল রাতের পাশে
একটি দুপুর এগিয়ে আসে
হিজল ফুলের ঘ্রাণে
মায়ের মতোন গ্রাম এখনো টানে।
রেজাউদ্দিন স্টালিন
এই রক্তস্রোত
রক্ত তরবারি চুইয়ে মাটিতে পড়ছে
চিবুক চুইয়ে পদতলে
বুক থেকে ব্রহ্মপুত্রে
মাটি থেকে নক্ষত্রে
লাল কালো নীরব ও নিষ্ঠুর
এই রক্তস্রোত
পদ্মা মেঘনা যমুনা পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে
কতকাল কতযুগ বহমান রক্তস্রোত
প্লাবন ও পলিতে সমৃদ্ধ করবে সংগ্রাম
ঢেউয়ের চূড়ায় রক্ত-ফেনায় ফেনায়
এই রক্তস্রোত হৃদয়োত্থিত
দিন ও রাত্রির আবর্তন ভেঙে
পদক্ষেপের পেছনে পেছনে ধাবমান
দৃশ্যমান সবুজের করোটিতে রক্ত
সূর্যের আলোয়-শিরস্ত্রাণের চোখে
প্রাণী ও প্রকৃতির-রক্তাঞ্জলি
প্রতিরোধ স্বপ্নের পায়ে
কেউ তা জানে না
রক্তস্রোত থিতু হয়ে কোথায় দাঁড়াবে
কোন দেশে কোন কালে
কার কান্নাদগ্ধ করতলে
বর্ণমালায়
শাশ্বত হাসান
রাত শেষে
রাত শেষে
যে কিশোরী মেলে ভোরের সতেজ ডানা
আমি তাকে অভিনন্দন জানাই
আমি তাকে একগুচ্ছ গোলাপের সুরভি জানাই
আমি সেই কিশোরীকে
শিশির ভেঁজা ভোরের সবটুকু মুুগ্ধতা জানাই
রাত শেষে, যে কিশোরী উড়ায় ভোরের সতেজ ডানা।
মোশাররফ হোসেন খান
শর্ট ফিল্ম
ঘন ঘোর অন্ধকার
তবুও বাতাস বলে, হাঁটো
সাগর বলে, হাঁটো
নদী বলে, হাঁটো
সবাই বলে, হাঁটো হাঁটো---
আমি হাঁটার জন্য প্রস্তুত
কিন্তু কী বিস্ময়কর
হাঁটতে গিয়ে
আমি কোনো পথই খুঁজে পেলাম না
অতঃপর নিজেই পথ হয়ে গেলাম
আমি এখন এক নির্বাক শর্ট ফিল্ম...!
হাসান আলীম
এই শহর একদিন
এই শহর একদিন ভুতুড়ে নগরী হবে
দুটো সমান্তরাল রেখা ছুটতো ছুটতে প্যারাবোলা হয়ে যাবে
কখনো কি বৃত্তের স্বভাবে ফিরে আসবে?
আমি ট্যানজেন্ট হতে চাই
স্পর্শের কটক মাছ শ্রাবণ শ্রমনে
ঘুম দিতে চায়
অলস জোছনার ঘাম ঝরে
আমাকে কপিশ অন্ধকার মরিচের মতো
চতুর্ভুজা ত্রিকোণ সংকাশে টেনে নেয়
কী এক অসীম অন্ধকার সমুদ্র স্রোতের ঘূর্ণি
শুষে নিতে চায়
আমার বিন্দু কণিকা ফুলে ওঠে, ফেপে ওঠে
অজানা স্পর্শকে!
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
বাংলা বোধ চাই
বাংলা ভাষা আমাদের সর্বকালীন গর্বের ভাষা।
এই ভাষা রক্ষার পিছনে
একটা রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের স্পর্শ আছে।
মুখের বৃন্ত থেকে এই ভাষা
ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল --
ওরা চিরকালীন শত্রু তাই !
কেড়ে নিতে দেই নাই।
আমাদের মুখে এই ভাষা
পুষ্প হয়ে আছে ফুটে।
অথচ এই ভাষায় আমরা মিথ্যে কথার চর্চা করি।
অথচ এই ভাষা আমরা প্রতারণার কাজে ব্যবহার করি।
ভুল বানানে ভুল উচ্চারণে এই ভাষা বিকৃত হয়ে পড়ে।
এই ভাষা যে সংস্কৃতির বাহক
সেই সংস্কৃতিও ধুলোয় লুটোয়।
চলনে বলনে পোশাকে ব্যবহারে
বাংলা বোধ চাই
সেই বোধ কোথায় !
