নাচে গাঁ
মুস্তাফা ইসলাহী

গাঁয়ে আমার ছোট্ট একটা বাড়ি
বাঁয়ে পুকুর, পাড়ে গাছের সারি।
পুকুর জলে গাছের ছায়া পড়ে
খুকুর বাবা বড়শিতে মাছ ধরে।
ডানে মাটির সড়ক গেছে ঝিলে
টানে বন্ধু খেলতে সাঁতার বিলে।

কত সময় খেলি বিলের জলে
শত শাপলা কুড়াই, পরি গলে।
বাড়ির পিছে বয়ে গেছে নদী
দাঁড়ির গানে মজা নিরবধি।
পাশে ফুটে সাদা কাশের মেলা
ভাসে নদে নৌকা, জাহাজ, ভেলা।

গাঁয়ের সামনে মাঠ বিছানা সবুজ
পায়ের নিচে মাটি, দূর্বা অবুঝ।
দলে দলে খেলি, ঘুরি গাঁয়ে
হলে ক্লান্ত জিরায় বটের ছায়ে।
সাজে শস্য ফসল নানা রঙে
গাঁ যে নাচে ষড়ঋতুর ঢঙে।

আসো যদি বন্ধু গাঁয়ের কুলে
বাসো ভালো, হৃদয় দিবো খুলে।

 

 


বই
আজমাইন নিজাম

বইয়ের মাঝে আছে জ্ঞানের মূল
মেধা আর মননের বিকশিত ফুল
ইতিহাস সভ্যতা গড়ে দেয় বই
যে পড়ে সে বড় হবে নিশ্চয়ই।

বইয়ের সাথে হলে সখ্যতা ভাব
হৃদয় উদার হবে বিনয়ী স্বভাব
ভালোবাসা ভেঙে দেবে বিবেকের ভুল
পৃথিবীটা মনে হবে পাড়ার স্কুল।

বইয়ের চেয়ে বড় উপহার নাই
এসো তাই বইকেই বন্ধু বানাই
সুন্দর আগামীটা দিতে পারে বই
বই নিয়ে আরো বেশি হোক হইচই।

 

 


চড়ুই ছানা
শাজাহান কবীর শান্ত

চড়ুই পাখি করতো বসত কুঁড়েঘরের টোপরে
বাচ্চারা তার খেলতে থাকে টোপর বাসার ওপরে।
বাইরে বেরোয় ভেতর ঢোকে মজায় কাটে বাসাতে
ইঁদুর-বিড়াল তাই পারে না তাদের মোটে শাসাতে।

মায়ের কথা শুনতো সবাই
বাসার ভেতর তারা ক’ভাই
মা যেত যেই দোকানে,
ঘোরাঘুরি করতো তারা বাসার এখান-ওখানে।

অন্যদিনের মতো বিড়াল আসলো সেদিন সকালে
চড়ুই ছানা বললো- সেদিন, কেনো এসে ঠকালে!
-আর কখনও ঠকাবো না
বাবা মাকেও বকাবো না
এসো আবার খেলাতে
যেই খেলাতে নাম ছড়াবে নামটি সকল জেলাতে।

ইঁদুর আসে বিড়াল আসে গল্প করতে বাসাতে
গল্প করা নাকি খাতির করে তাদের ফাঁসাতে!
আমরা জানি ইঁদুর-বিড়াল বড্ড পাজি স্বভাবে
কত্তকিছু করছে তারা চড়ুই মায়ের অভাবে!

খেলতে গিয়ে নিয়ে গেলো বিড়ালটি তার আস্তানায়
গিয়েই দেখে বিড়াল রাজের খুব সকালের নাস্তা নাই।
চড়ুই ছানা হয় যে খানা এই সকালের নাস্তাতে
ক্ষুধাকাতর পেট ভরে হয় বিড়াল রাজের কাজ তাতে!

 

 

 

যাবে আমার গ্রামে
সুজন সাজু

যাবে,
আমার প্রিয় সবুজ গ্রামে
পাখির গানে সন্ধ্যা নামে
দেখলে মধুর পুলক পাবে।

আরও,
জল টুপাটুপ পুকুর জলে
ঢেউয়ের নায়ে খেলার ছলে
নাচছে মাছে দৃশ্য তারও।

ফুলের,
হাসি বাগান জুড়ে দোলে
ভোরের কলি মুখটি খোলে
দৃশ্য রূপের হয় না তুলের।

সাথি,
সকল মিলে মিশে খেলি
ইচ্ছে নায়ের ডানা মেলি
উৎসবে সব নন্দে মাতি।

যাবে,
দিনের শেষে রাতের ক্ষণে
শিয়াল ডাকে বেতস বনে
আসলে তখন শুনতে পাবে।

 

 


আজ আবার শৈশবে
শরিফুল ইসলাম

ঐতো নদী যাচ্ছে বয়ে দুলছে দেখো ডিঙ্গে,
রকেট হয়ে উড়ছে পাখি কৃষ্ণ কালো ফিঙ্গে।
সবুজ পাতা মাঠের তরে বাতাস দিলো ঝটকা,
মেঘের দেশে লাগলো যেনো হঠাৎ করে খটকা।
ঝমঝমিয়ে নামলো এসে কই’রে তোরা কই সব?
আজকে হবো ছন্নছাড়া আয়রে ফিরে শৈশব।

আজকে যাবো নদীর ধারে হাঁসের সাথে ভাসবো,
দুঃখ ভুলে সব ছেড়ে যে আজকে আমি হাসবো।
ধরবো গিয়ে ফড়িং ছানা তাদের সাথে উড়বো,
ইচ্ছে হলে আজকে আমি মেঘের সাথে ঘুরবো।
ধানের পাতা ঐতো নাচে বাতাস টুকু পাইছে,
হাত বাড়িয়ে সঙ্গ যেন আমার কাছে চাইছে।
আমি কি আর থাকতে পারি চুপটি বসে থাকতে?
সবুজ রঙে ডুব দিবো যে মনটা শুধু মাখতে।

আজকে চলো ধরবো চেপে সময় কাঁটা ঘণ্টা,
ফুরাচ্ছে দিন বয়স বাড়ে; শৈশবে’তে মন’টা।

 

 

ফুল
মাহমুদ আরিফ

ফুলের বাগে ছোট্ট কলি
কী যে দারুণ রূপ
তার উপরে মুগ্ধ হয়ে
ভ্রমর থাকে চুপ।

ছোট্ট কলি ধীরে ধীরে
পূর্ণতা পাই ফুলে
ভালোবাসায় জীবন বিলায়
অপরূপার চুলে।

জীবন তাদের অতি ছোট
অল্পকিছু ক্ষণ
তবু তাদের কাছে পেতে
চায় সকলের মন।