সাহাবি শব্দের অর্থ সাথী, সঙ্গী, বন্ধু, অনুসারী, সহচর, একসাথে জীবন যাপনকারী, সাহচর্যে অবস্থানকারী। যারা ঈমানের সাথে নবী সা:-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে বলা হয় সাহাবি।
সাহাবীরা যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁদের একনিষ্ঠ ভালোবাসা, ইসলামের জন্য ত্যাগ ও আত্ম্যোৎসর্গ তাঁদের চিরস্মরণীয় করেছে ইতিহাসের সোনালি পাতায়। তাঁদের অনুসৃত পথ সঠিক ও নির্ভুল পথ। সাহাবায়ে কেরামের জীবন ও চরিত্র আমাদের আদর্শ নমুনা। তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের জন্য তারকাতুল্য ও অনুসরণীয়।
মহানবী সা:-এর আদর্শের চমৎকার নিদর্শন সাহাবায়ে কেরামের ঈদ কেমন ছিল তা থেকেও আমরা ঈদ উদযাপনের ধারণা নিতে পারি। সাহাবায়ে কেরাম জীবনের সর্বক্ষেত্রে মহানবী সা:-এর অনুকরণ ও অনুসরণ করতেন। তাঁরা এ বাক্যের মাধ্যমে ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন।
সাহাবায়ে কেরাম মাহে রমজানে গোনাহ মাফ হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে বেশি চিন্তিত থাকতেন। তাই আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ফারুক রা: ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে বলতে থাকেন, আমার গুনাহ মাফ না হলে আমি ঈদগাহে কিভাবে ইমামতি করতে পারি। তাঁদের ঈদে নতুন জামা, কাপড়, জুতা ও খাওয়া-দাওয়ার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ কম ছিল না। মহানবী সা:-এর সান্নিধ্য লাভ করা, তাঁকে কাছে পাওয়া, তাঁর নির্দেশ পালন করাই ছিল তাঁদের প্রকৃত আনন্দ। ঈদের দিন অনেক দূর থেকে সাহাবায়ে কেরাম ছুটে যেতেন মহানবী সা:-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এবং তাঁর পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার জন্য।
হজরত আলী রা:-কে ঈদের দিন শুকনো রুটি খেতে দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আজ তো ঈদের দিন, আপনি শুকনো রুটি খাচ্ছেন কেন? উত্তরে তিনি বললেন, ঈদ আনন্দ তো তাদের জন্যে, আল্লাহ যাদের রোজা কবুল করেছেন, যাদের গোনাহ ক্ষমা করেছেন। কিন্তু আমি তো নিশ্চিত নই, আমার ইবাদতগুলো কবুল হয়েছে কি না। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের যদি এই চেতনা, তবে আমাদের চেতনা কেমন হওয়া উচিত তা ভেবে দেখা দরকার। সাহাবায়ে কেরামরা ভালো পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরিধান করতেন। অনেক বেশি দান করতেন। সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিতেন।
এক ঈদুল ফিতরের দিনে হজরত ওমর রা: কাঁদছেন খুব অঝোরে। সবাই যার যার মতো করে আনন্দ করছেন। হঠাৎ সাহাবারা খেয়াল করলেন ওমর রা: কাঁদছেন। অবাক হয়ে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাঁদছেন? এই ঈদের দিনেও? তখন ওমর রা: জবাব দিলেন, আমি রাসূল সা:-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ ইবাদত করে গোনাহ মাফ করে নিতে পারল না সে ধ্বংস হোক। এখন রোজা শেষ হয়ে আজ ঈদের দিন। আমি এখনো জানি না আমার গোনাহ মাফ হয়েছে কি না? আমি কিভাবে নিশ্চিত হয়ে ঈদ আনন্দ করি। এটা ছিল সাহাবিদের ঈদ আনন্দ।
বছরে যে ক’টি রাতে আল্লাহ তায়ালা ইবাদত কবুল করেন, দোয়া কবুল করেন। তার মধ্যে দুই ঈদের রাত অন্যতম। এ রাত্রিগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। আমরাও যদি তাদের পথে চলি, তাদের পথে হাঁটি, আল্লাহ আমাদের ওপরও রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট হবেন।