পাখির মতো ফুলের মতো
শরিফুল ইসলাম

কেমন হতো হতাম যদি বাসন্তী এক পাখি?
শীতের শেষে গাছের ডালে যেতাম শুধু ডাকি!
ফুলের কুঁড়ি থাকতো ফোটে আমার চারিপাশে,
আমার ঘরে গন্ধ এসে ডাকতো যে বাতাসে!
সকালবেলা যেতাম উড়ে ঈগল হয়ে যেন,
ভাবি এখন পাখির মতো হলাম না যে কেন!

আচ্ছা আমি হতাম যদি কোনো বনের ফুল!
আমারও কি সবার মতো হতো তখন ভুল?
সকালবেলা শিশির ধুয়ে রোদের মতো হেসে,
ফুটে যেতাম ঋতু রাজের সবুজ ঘেরা দেশে!
কিন্তু আমি সন্ধ্যে হলে ঝরে যেতাম ঠিকই,
সারাটা দিন কাটতো তবু সুখেই ঝিকিমিকি।

আবার যদি ফের কখনো সুযোগ টুকু আসে
পাখি না হয় ফুলের মতো থাকবো গাছের পাশে।

 


টুকরো ছড়া
সাকী মাহবুব

নবীদের পথ ধরে চলবো
সত্যের কথা শুধু বলবো,
এইপথ জুড়ে আছে শান্তি
দূর হয়ে যায় সব ভ্রান্তি।

মিছে কথা কবি না
মিছে বড় পাপ,
ক্ষয়ে যায় ক্ষয়ে যায়
ঈমানের তাপ।

 


খুকি ও সূর্যমুখী
এম আবু বকর সিদ্দিক

সূর্যমুখী তোমার মুখে
কেনো এতো হাসি,
তোমার রূপে মুগ্ধ আমি
তোমায় ভালোবাসি।

সত্যি করেই বলো তুমি
কাকে ভালোবাসো,
সূয্যি মামার দিকে চেয়ে
কেনো এতো হাসো?

লাল টুকটুক জামা পরে
তোমার পাশে আসি,
আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে
দেও না কেনো হাসি!

রাগ করো না মান করো না
ওরে ছোট্ট খুকি,
আলোর দিকে তাকাই বলো
আমি সূর্যমুখী।

 


ঝিঙেফুল
শফিকুল মুহাম্মদ ইসলাম

একটা ফড়িং নাচে দেখো
ঝিঙে ফুলের ডালে;
রঙ-বেরঙের প্রজাপ্রতি
পায়রা টিনের চালে!

ঘুঘুর ডাকে ছন্নছাড়া
ভর দুপুরের বেলা,
চৈত্র রোদে বটের ছায়ায়
চাষি করে হেলা।

রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
উদাস করা সুরে;
সোনামণির নৃত্য দেখে
প্রাণটা সবার জুড়ে!

পরীর মতো সাজ ধরেছে
ছোট্ট দুটি ডানা,
ওই আকাশে উড়ে যাবে
শুনবে নাকো মানা।

 


মশা আর মাছি
কবির কাঞ্চন

মশা কয় মাছি রে
খুব ভালো আছি রে
খানার অভাব নাই,
মাছি কয় আহারে
ফরমালিন বাহারে
খানা শুধু পাই
কিছুই তো আর নাই।

দুঃখে তাই মরিরে
যা পাই তা ধরিরে
কোনো উপায় নাই,
মশা কয় সরি রে
আয় কিছু করি রে
দু’জনে যা পাই
মজা করে খাই।

মশা আর মাছি
খুব কাছাকাছি
রেষারেষি নাই,
হাসে আর নাচে
একসাথে বাঁচে
মিলেমিশে যা পায়
মজা করে খায়।

 


দস্যি ছেলের কথা
আলমগীর কবির

কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে
খোকন গেলো কই?
খোকন তখন আম কুড়াতে
করতেছে হই চই!

গাছের নিচে জড়ো হয়ে
দস্যি ছেলের দল,
নেই ভাবনা লাগলো গায়ে
কাদা মাটি জল!
নেই ভাবনায় মায়ের কথা
বিজলী বাতির ভয়,
খোকন সোনা পথের বাধা
করবে ঠিকই জয়।
আম কুড়িয়ে সদলবলে
ফিরলো শেষে বাড়ি,
মায়ের রাগী মুখটি দেখতে
লাগে মিষ্টি ভারি!