এই বৈশাখে
সাঈদুর রহমান লিটন
ফুল ফুটেছে কৃষ্ণচূড়ায় আমার গাছে
হরেক রকম পাখি এসে শুধুই নাচে।
এই বৈশাখে রঙের বাহার উঠোন জুড়ে
যাওনা সখী আমার বাড়ি একটু ঘুরে।
গাছে গাছে সবুজ আমে দিচ্ছে দোলা
পথ হারিয়ে পথচারী হয় তো ভোলা।
এই বৈশাখে আম কুড়িয়ে করছি আচার
দাওনা প্রিয় একটু হাসি জীবন বাঁচার।
আমার বাড়ি রৌদ্র হাসে গাছের ফাঁকে
নানান পাখি উড়ে বেড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে
ঘুম এসে যায় গাছের ছায়ায় বোশেখ এলে
লাগবে ভালো এই সময়ে তোমায় পেলে।
বাবার জীবন
মোস্তাফিজুর রহমান
বাবার জীবন অন্যরকম
বাবার খাওয়া ঘুম
বাবা ঘুমান ম্যাট-ফ্লোরে
ছেলের এসি রুম ।
বাবা খাবেন শুকনো রুটি
পাতলা দুধের পায়েশ
ছেলের জন্য ঘি পরোটা
বিলাশ বহুল আয়েশ।
বাবার জামা খুব পুরনো
ভাঁজে খানিক ছেঁড়া
ছেলের জামা হাল ফ্যাশনে
সোনার দামে মোড়া ।
মেয়ের জন্য গয়নাগাটি
জরির সুতায় জামা
চকচকে সু আলতা নোলক
কেনার নেই যে থামা।
বাবার খাওয়া, কেমন খাওয়া?
খুব সাধারণ মান
যত দূরেই যান না তিনি
দু’পা-ই তার যান।
হেঁটে হেঁটেই এদিক সেদিক
দূর-দূরান্তে যান
সুখ জাগিয়ে ছেলে-মেয়ের
ঈদানন্দ পান ।
সচেতন হও তুমি
গোলাম রব্বানী টুপুল
কাটছো পাহাড় ভরছো নদী
আটকে দিয়ে নদীর গতি
কার হলো ভাই ক্ষতি
সূয্যি মামা উঠছে তেতে
হারাইছে তার মতি।
চরম গরম ভাল্লাগে না
দেশটা শ্যামল আর লাগে না
কাটছে সকল গাছ
খালে বিলে আজ হারালাম
প্রাকৃতিক সব মাছ।
তুলছি মাটির তলার পানি
জলের স্তর যাচ্ছে নামি
দেশটাই তো মরুভূমি
এমন ক্ষতি যায় না মানা
হও সচেতন এখন তুমি।
হারিয়ে গেছে
শাহীন খান
কোথায় গেল সুখের সেদিন কোথায় ছেলেবেলা?
ভেবে ভেবে সুখের খালে ভাসাই দুখের ভেলা।
সোহেল আমি দু’জন মিলে নানুবাড়ি যেতাম
মধু মাসে আমের বনে আমটি পেড়ে খেতাম।
ঝিঁঝির ডাকে লাগতো দোলা ছোট্ট অবুঝ প্রাণে
আমরা দু’জন মুগ্ধ হতাম কোকিল পাখির গানে।
থলে নিয়ে হাটে যেতাম শুক্র ও সোম হলে
কথায় কথায় ঝগড়া হতো কানটি দিতাম মলে।
মাছ ধরতে যেতাম দু’জন পুকুর ডোবা বিলে
মান অভিমান বেজায় হতো আবার যেতাম মিলে।
বৃষ্টি হলে ভিজে ভিজে খেলেছি হাডুডু
বারণ করতো মা যে আমার এবং ঝুমু বুবু।
সূর্যমণি মেলা এলে দু’জন মিলে যেতাম
পুতুলবাজি দেখার ফাঁকে বাদাম ভাজা খেতাম।
ইশকুলেতে যেতাম চলে ব্যাগটা নিয়ে কাঁধে
সেসব স্মৃতি মনে এলে হৃদয় আমার কাঁদে!
দিন বদলের পালায় পড়ে হারিয়ে গেছে সব
হারিয়ে গেছে জীবন থেকে মিষ্টি কলরব !
আর্দশবান ছেলে
গোলাম আজম খান
আদর্শবান পিতার ছেলে
আদর্শবান হয়,
চরিত্র তার ফুলের মতো
গুণীজনে কয়।
সুন্নাতি তার তরিকাতে
চলাবলার ধরন,
দ্বীনের পথে অটল থেকে
ন্যস্ত রাখে চরণ।
কলবে জপে রবের কালাম
ব্যস্ত সারাক্ষণ,
ডাক দিয়ে যায় দ্বীনের পথে
তার দেহ ও মন।
কাজে কর্মে পিতা মাতার
আর্দশকে মানে,
দুআ দুরুদ তাসবিহ নিয়ে
পড়ে রবের শানে।
প্রিয় দেশ
মো: তাইফুর রহমান
মন ছুটে যায় ফুলের বাগে
মনে সুখের ছোঁয়া লাগে
গাছে গাছে কী চমৎকার!
ডাকে কত পাখি ।
প্রজাপতি দারুণ নাচে
কৃষক ভাই যে মাঠে আছে
বাংলা মায়ের রূপ দেখে ভাই
জুড়ায় আমার আঁখি ।
জেলে ভাই যে নদীর বুকে
মাছ ধরে খুব মনের সুখে
সোনার ফসল কাটে চাষি
দেখতে ভালোবাসি ।
জন্ম আমার এমন দেশে
চলি আমি বীরের বেশে
খুশির জোয়ার সবার প্রাণে
মুখে সুখের হাসি ।
