অনেক দিন আগের কথা, একটি বাচ্চা চড়ুই সে তার মায়ের সাথে বিরাট এক গাছের মগডালে বাসা বেঁধে থাকত। তার মা তাকে মাঝে মধ্যে উড়ার কৌশল শিখাত, যাতে সে শিকারি ও ক্ষতিকর প্রাণী থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
তার মা তাকে প্রতিদিন এই বলে উপদেশ দিত যে, সে যেন কিছুতেই মানুষের নাগালে না যায় এবং তাদের ফাঁদেও যেন পা না দেয়।
এভাবেই তার অনেক দিন কেটে গেল। বাচ্চা চড়ুইটি বেশ বড় হয়েছে এবং ভালো উড়াও শিখেছে। একদিন সে তার মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দূরাকাশে পাখা মেলে উড়াল দিলো। গগন দেশে সে অনেক সময় ধরে খুবই ফুরফুরে মেজাজে উড়ছিল, হঠাৎই তার দৃষ্টির জালে আবদ্ধ হলো চিত্তাকর্ষক একটি সুন্দর বাড়ি। বাড়ির বাহ্যিকরূপ তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, সে নিজেকে সামলাতে না পেরে তড়িৎগতিতে সেই বাড়ির দিকে অগ্রসর হলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- সে তার মায়ের দেয়া সব উপদেশ ও নিষেধাজ্ঞা একদমই ভুলে গেছে।
চোখের পলকে সে- সেই বাড়ির ছাদের উপর অবতারণ করল এবং ঘুরে ঘুরে ছাদের চিত্র দেখছিল, হঠাৎই তার দৃষ্টিতে ছিটিয়ে থাকা কিছু গমের দানা দৃষ্টিগোচর হলো, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এক-দু’ পা করে গমের দিকে এগিয়ে গেল, কিন্তু তখনো সে তার মায়ের উপদেশ ভুলে ছিল। বাচ্চা চড়ুইটি যখনই পদদ্বয় গমের উপর রাখল- ওমনি পেতে রাখা ফাঁদ তার গলায় আটকে গেল, সে ছুটে আসার অনেক চেষ্টা করল, অবশেষে ব্যর্থতার কাছে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হলো। শেষমেশ শিকারির হাতে আবদ্ধ হয়ে জীবনের ইতি টানতে হলো। বাস্তব শিক্ষা এটাই- পিতা-মাতা ও গুরুজনের কথা না মানলে শেষ পরিণাম তেমন ভালো হয় না।
অনেক দিন আগের কথা, একটি বাচ্চা চড়ুই সে তার মায়ের সাথে বিরাট এক গাছের মগডালে বাসা বেঁধে থাকত। তার মা তাকে মাঝে মধ্যে উড়ার কৌশল...
